ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

FB_IMG_1509431834323
বাংলাদেশের যে জেলাসমূহ সংগীত, শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে স্বমহিমায় শুকতারার মতো উজ্জ্বল হয়ে আছে তার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অন্যতম। এই জেলাকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানীও বলা হয়। সংগীত, শিল্প সাহিত্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির তীর্থভূমি রূপে ভারতীয় উপমহাদেশে সুপরিচিত একটি জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেন জ্ঞানী-গুনীদের প্রাকৃতিক খনি। অসংখ্য জ্ঞানী-গুনীর বিভিন্ন অবদানের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বব্যাপী আজ পরিচিত।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, দিন বদলের খেলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গাজা, মদ, হিরোইন, ফেন্সিডিল ও সর্বনাশা ইয়াবার আখড়ায় পরিণত হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নয়টি উপজেলার সবকটিতেই হাত বাড়ালেই পাওয়া যেত গাজা, মদ, হিরোইন, ফেন্সিডিল ও সর্বনাশা ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক তৃতীয়াংশ যুবক মাদকের পেছনে ছুটছে। কেউ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে, কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে, কেউ বেকার জীবনের দুঃখ ভুলতে। তারা প্রত্যকেই আমাদের কারো না কারো ভাই, বোন ও স্বজন। নেশার টাকা যোগাতে তারা করছে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি। মা- বাবাকে করছে জ্বালাতন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিটি এলাকার গ্রাম-গঞ্জের অলিগলি সর্বত্রই যখন ইয়াবা সেবী ও বিক্রেতাদের স্বাধীন রাজ্যে পরিণত হয়। মাদকাসক্ত সন্তানের নির্যাতনে যখন অতিষ্ট মা বাবা পুলিশের কাছে আশ্রয় নিতে যায়। নির্যাতন, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে জন্মদাতা বাবা ও গর্ভধারিণী মা সন্তানকে যখন পুলিশে সোপর্দ করে। ইয়াবার অশান্তির আগুনে যখন দাউ দাউ করে জ্বলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অধিকাংশ পরিবার! সচেতন মহল যখন হতাশায় ভোগছে, মুখ খুলে কিছু বলতে পারছেনা মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে। গাজা, মদ, হিরোইন, ফেন্সিডিল ও ইয়াবা যখন পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাটা নেটওয়ার্কের মতো গ্রাস করে ফেলেছে। ঠিক তখনই – ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম (বার) বিপ্লবী চে গুয়েভারার মতো এক জনসভায় মুজিবীয় কণ্ঠে ভাষণ দিলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আমি থাকব, না হয় মাদক বিক্রেতারা থাকবে। মাদক থাকলে আমি থাকব না।”

মুহুর্তেই তার এই ক্ষুরধার বক্তব্যটি ফেসবুক ও অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। নড়েচড়ে বসে জেলার ক্ষমতাশালী মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা। এসপি মিজানুর রহমানের এমন ঘোষণার পর জেলা উপজেলার প্রায় ৩ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করে। অনেক মাদক ব্যবসায়ী আবার পুলিশের ভয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে বাড়ী থেকে অন্যত্র চলে গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে এমন একটি সময়োপযোগী ঝাঁঝালো ঘোষণা দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদক ব্যবসায়ীদের বুকে ঝড় তুলে দিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম (বার)। তার একটি মাত্র ঘোষণায় মুহূর্তে কম্পন দিয়ে জ্বর উঠছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদক ব্যবসায়ীদের গায়ে । বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ীদের সহায়তাকারী প্রশাসনের কিছু অসৎ কর্মকর্তার মনেও। নতুন করে মাদকসেবী সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন মা-বাবা পরিবার পরিজনের সদস্যরা।

সময়ের সাহসী সন্তান সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মো. মিজানুর রহমান পিপিএম (বার) এর অক্লান্ত পরিশ্রম, নৈতিক দায়িত্ব বোধের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আজ নিরানব্বই ভাগ মাদকমুক্ত জেলা। তার মাদক বিরোধী শক্ত অবস্থানের কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই জেলে আছে, যারা কোনদিনই ভাবেনি তাদের জেলে যেতে হবে।

তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, ব্যবসায়ী,মোট কথা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সচেতন নাগরিক সমাজ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পিপিএম (বার) কে ‘শক্তের যম,নরমের ভক্ত’, ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইকন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আর আমি একজন ক্ষুদে অখ্যাত সাংবাদিক এই মান্যবর পুলিশ সুপারকে ‘রিভাইভার অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ বলে আমার লেখার শিরোনাম করেছি।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুলি -মজুর থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ তাকে ‘মুক্তির দূত’ বলে অবহিত করেছেন।

এই মহাত্মা এসপি সাহেব শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অপরাধ দমন ও মাদক নির্মূলে কাজ করেননি। পাশে দাঁড়িয়েছেন অসহায়, নির্যাতিত, নিপীড়িত গরীব-দুঃখী মানুষের। এর জ্বলন্ত প্রমাণ সরকারি শিশু পরিবারের ‘অনাথ’ হাবিবা আক্তারের অভিভাবকের খাতায় স্বাক্ষর করে তার রাজকীয় বিয়ের ব্যবস্থা করে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। স্যালুট মানবতা মূর্ত প্রতীক আমার শ্রদ্ধেয়, প্রিয় ব্যাক্তিত্ব এস.পি জনাব মো. মিজানুর রহমান পিপিএম (বার) মহোদয়কে।

 

লেখক:

এম মনসুর আলী
সাংবাদিক, অরুয়াইল, সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া