ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

একটি বাংলা পাঠাগার প্রতিষ্ঠা ও বাংলা কমিউনিটিতে মননশীল সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে প্যারিসে আত্মপ্রকাশ করল অক্ষর নামে একটি সাহিত্য সংগঠন। ১৭ জানুয়ারি রোববার প্যারিসের লো তেয়াত দু তমপ থিয়েটার হলে এক মনোজ্ঞ কবিতা ও সংগীতসন্ধ্যার মধ্য দিয়ে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
প্যারিসে অক্ষরের বীজ অঙ্কুরিত হয় মূলত প্রায় দুই বছর আগে ফ্লন্স (flunch) রেস্তোরাঁয় শুরু হওয়া কয়েকজন কবিতাপ্রেমী বন্ধুদের সাহিত্য আড্ডার মধ্যদিয়ে। সেই আড্ডায় নিয়মিত নতুন-পুরোনো বন্ধুদের যাওয়া আসার মধ্যদিয়ে কয়েকজন বন্ধুর আড্ডা স্থায়ী রূপ নেয় সন্ত্র জর্জ পমপিদোর নিচতলায়। সেখানে প্রতি মাসেই বসে কবিতা পাঠের আসর। এই আসরের বন্ধুরা ধীরে ধীরে স্বপ্ন দেখেন কবিতার সুধা নিজেদের মধ্য থেকে প্যারিসের বাংলা কমিউনিটির সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। পাশাপাশি উপলব্ধি করেন বাংলাদেশে সৃজনশীল সাহিত্য, সাংস্কৃতিক চর্চা ও পাঠাভ্যাসের ভেতর দিয়ে একটি মননশীল জাতি গঠনের যে স্রোতোধারা প্রবাহিত ছিল তা আজ রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক অবক্ষয়, বৈদেশিক অপসংস্কৃতির প্রভাবে মন্থর হয়ে পড়েছে। এই মন্থরগতিকে পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে বসবাসরত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চিন্তাধারার বাংলাভাষী মানুষ একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ার চেষ্টা করছেন। এই সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সম্মিলিত ভাবে কাজ করার লক্ষ্যে মূলত একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার উপলব্ধি থেকেই মূলত অক্ষরের সৃষ্টি।
মানুষের জ্ঞানচর্চার ইতিহাস সুদীর্ঘ। কিন্তু জ্ঞান লিপিবদ্ধের যাত্রা শুরু অক্ষর আবিষ্কারের মাধ্যমে। অক্ষর সৃষ্টির ফলেই আজ জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রত্যেকটি শাখা প্রশাখার এই বিকাশমান রূপ এবং অক্ষরজ্ঞান অর্জনের ভেতর দিয়েই মানুষের জ্ঞানের বিস্তৃত ভুবনে প্রবেশ। তাই অক্ষর নামকরণের মাধ্যমে এর আত্মপ্রকাশ এবং অক্ষরকে বিন্দু করেই অক্ষরের সহযাত্রীরা তাদের লক্ষ্য ও প্রয়াসকে অব্যাহত রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। অক্ষরের সতীর্থরা কেউ নিজেদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বোদ্ধা ব্যক্তিত্ব মনে করেন না। কিন্তু তারা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুরাগী। অক্ষর তার কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে প্যারিসের বসবাসরত বাঙালিদের মধ্যে মূলধারার সাহিত্য সংস্কৃতি ও পাঠচর্চার বিকাশ ঘটাতে চায়। অদূর ভবিষ্যতে কমিউনিটির সচেতন মানুষের সার্বিক সহায়তা ও পরামর্শে প্যারিসে একটি স্বতন্ত্র মতাদর্শের স্থায়ী বাংলা লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য স্থির করেছে। এই লাইব্রেরি শুধু একটি পড়াশোনার কেন্দ্রস্থলই হবে না এটি হবে প্যারিসে অবস্থানরত সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা এবং জ্ঞান পিপাসু বাঙালিদের মননশীল আড্ডাস্থল। অক্ষর বিশ্বাস করে তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে কমিউনিটির সৃজনশীল মানুষদের সব সময় পাশে পাবেন।

12604765_10205114590575378_2108641674525289834_o

অক্ষর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় কবিতা আবৃত্তি করেন বদরুজ্জামান জামান, মোহিত জ্যোতি, সাইফুল ইসলাম, মুহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ, ওয়াহিদজ্জামান, শম্পা বড়ুয়া ও গিয়াস বাবু। পুথি পাঠ করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় পুথিশিল্পী ও গবেষক কাব্য কামরুল।

সংগীত পরিবেশন করেন আবুল কালাম আজাদ, মৌসুমি ভট্টাচার্য, শাহাদত হোসেন, নীলিমা সেন, অমিয়া রহমান, সাগর বড়ুয়া ও রোজী মজুমদার।

শিল্পীদের তবলায় সহযোগিতা করেন প্লাসিড শিপন। মঞ্চসজ্জায় ছিলেন মোহিত জ্যোতি ও আলোকচিত্র ধারণ করেন সুমন আজাদ।

সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন প্যারিসের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুনির কাদের। অনুষ্ঠানটি সাফল্যমণ্ডিত করতে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও সাহিত্য অনুরাগী হাসনাত জাহান।