ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মন্ত্রীত্ব নিয়ে রেলওয়ের কালো বিড়াল খুঁজে বের করার ঘোষণা দিয়েছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সেই বিড়াল খুঁজে বের করার আগেই আরেক বিড়াল বেরিয়ে আসে ৯ এপ্রিল। মন্ত্রীর এপিএসের গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা পাওয়ারর কথা জানা যায়। মন্ত্রী মহোদয় শুরুতে এপিএসের পক্ষ নিলেও পরে নানামুখী চাপে তাকে বরখাস্ত করেন। শেষ পর্যন্ত ১৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন রেলমন্ত্রী। পরদিন ১৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা জানান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

রেল ভবনে তিনি বলেন, “আমি কারো বোঝা হতে চাই না। দল, সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর দায় হতে চাই না। গণতন্ত্র রক্ষায় আমি এ সাহসী সিদ্ধান্ত নিলাম। ৪০ বছরে যা দৃষ্টান্ত নেই সে দৃষ্টান্ত আমি স্থাপন করলাম। গণতন্ত্রের মাত্রাকে আমি প্রসারিত করলাম।”

তিনি আরও বলেন, “আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিচার বুদ্ধি ও স্বভাবসিদ্ধ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সরে দাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যা আমি গ্রহণ করলাম।”
তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের সুবিধাটুকুই সবাই নেয়। কিন্তু দায়িত্ব কেউ নেয় না। আমি দায়িত্ব নিলাম।”

গত ৯ এপ্রিলের ঘটনাকে ‘অনিভেপ্রেত’ উল্লেখ করে সুরঞ্জিত বলেন: ‘জীবন সায়াহ্নে এসে আমি আত্মত্যাগ করলাম। এটা গণতন্ত্র রক্ষায় একটি সাহসী সিদ্ধান্ত।’

ওই ঘটনায় আমার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ততা নেই বলে আবারো দাবি করেন তিনি। তবে নিজের মন্ত্রণালয়ের ঘটনা হওয়ায় এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন সুরঞ্জিত।
সেদিনের ঘটনার তদন্ত যুক্তিসংগত সময়ে শেষ হবে বলে আশা করে সুরঞ্জিত আশা প্রকাশ করেন, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।

তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে আবার রাজনীতিতে ফিরে আসারও ঘোষণা দেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

তবে যারা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে চেনেন, জানেন তারা বেশ হতাশ হয়েছেন তার সিদ্ধান্ত নিতে দেরী করার কারণে। অনেকেই বলছেন শুরুতেই এই ধরনের ঘোষণা আসলে তার ইমেইজ কিছুটা হলে রক্ষা পেতো। কিন্তু জল অনেকটা ঘোণা হয়ে গেছে এক সপ্তাহে। এরই মধ্যে তার এপিএস এবং রেলওয়ের শীর্ষ কর্তাদের দূর্নীতির অনেক তথ্য সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। আরো আসবে। রেলমন্ত্রী ৫ মাসে কালো বিড়াল খুজে বের করতে পারেননি। সেই বেড়ালদের খবর নিয়ে আসছে সংবাদ মাধ্যম। নিজে কালো বিড়ালদের খোঁ না পেলেও তার ঘনিষ্ট কর্মী এপিএসের কালো বিড়াল বেরিয়েছে। এর সঙ্গে বড় কোন বিড়াল যুক্ত আছে কীনা সেটা কী আদৌ বের হবে? মন্ত্রী পদত্যাগ করলেও এই ধরনের ঘটনার তদন্তে সত্যিকার তথ্য পাওয়া যায়না বলেই প্রমাণ রয়েছে। এখন অপেক্ষা ‘রেলওয়েগেট’ কেলেঙ্কারির কালো বিড়াল খুঁজে পাওয়ার। আর এর সঙ্গে কোন বড় বিড়াল আছে কীনা সেটাও জানার অপেক্ষা সবার।