ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

Screenshot_2017-04-28-03-35-18

কাসেম বিন আবু বকর। এই সময়ের খুব আলোচিত নাম। বিবিসিকে দেয়া তার একটি সাক্ষাতকার পড়ছিলাম।  বিবিসিকে তিনি বলেছেন, “তার পাঠকদের ৮০ শতাংশই গ্রামের, বাকিরা শহরের।”  

 

কাসেম বিন আবু বকরের উচ্চারিত “শহর ও গ্রাম”  শব্দ দুটোকে সামনে রেখেই আমার বক্তব্য। তখন আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়তাম। ওই সময়ে আমি কাসেম বিন আবু বকরের একটি উপন্যাস পড়েছিলাম,”বিদায় বেলায়” নামে। সেই উপন্যাসের কাহিনি, চরিত্র কিছুই আমার মনে নেই। উপন্যাসটি যে পড়েছি তাও মনে থাকতো না, যদি না সেই সময়ে আমার ডায়েরি লেখার অভ্যাস না থাকতো।

সহজ করে বললে, তখন আমি ডায়েরি লিখতাম। কোন উপন্যাস বা গল্প বই পড়লে তা লিখে রাখতাম। এই ডায়েরিই আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, কাসেম বিন আবু বকরের আরো কয়েকটি বই আমি পড়েছি মাধ্যমিক স্তর পার হওয়ার আগেই। সাথে এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছে, মাধ্যমিক স্তর পার হওয়ার পর তার কোন বই পড়া হয় নি। তাই এতবছর পর এসে ওই লেখকের লেখার মান এবং লেখার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা তার ভাবাদর্শের বিষয়টিও আমার মনে নেই। তবে এতটুকু মনে আছে,  সেই বয়:সন্ধিকালের অপরিণত বয়সে প্রেম জাতীয় গল্পগুলো আকর্ষণ করতো বেশ। সদ্য “ঠাকুরমার ঝুলি”কে বিদায় জানানো ছেলেটি পরিবারের সিনিয়রদের চোখ এড়িয়ে এসব গল্পে মজাটায় ছিল স্বাভাবিক। সময়ের প্রেক্ষাপটে আমার চিন্তার জগতে পরিবর্তন আসার পর বা পাঠ নির্বাচনে স্বাধীনতা অর্জনের পর ধীরে ধীরে পাঠক হিসেবেও রুচির জায়গায় পরিবর্তন আসে। সে ভিন্ন কথা।

 capture_02

এবার আসা যাক সাক্ষাতকার প্রসঙ্গে। কাসেম বিন আবু বকরের বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারের সূত্র ধরেই বলি, আমার বেড়ে উঠাও গ্রামে। জীবনের অনেকগুলো সোনালি দিন কাটিয়েছি গ্রামে। তবে কি গ্রামে বেড়ে উঠা বলেই আমিও কাসেম বিন আবু বকরের উপন্যাস পড়েছি? বিষয়টা ওভাবে ভেবে দেখিনি। তবে এটা মনে আছে,  গ্রামের যে বাজারের লাইব্রেরি থেকে বই কিনতাম সেখানে কাসেম বিন আবু বকরের বই পাওয়া যেত। গ্রামে কিছু দোকান ছিল যেখান খাতা-কলম, জুতা-সেন্ডেলের পাশাপাশি বইও বিক্রি করতো। ওসব দোকানেও কাসেম বিন আবু বকরের বই বিক্রি হত। ওখান থেকে কিনতে পেরেছি বলেই তো সেই অপরিণত বয়সে কিনেছিলাম। এখানে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, কেন বিক্রি করতো দোকানিরা, পাঠক চাহিদা?  নাকি এই বই বিক্রিতে লাভ বেশি? 

 

এতদিন পর এসে আমার উপলব্ধি, গ্রামে তখন কাসেম বিন আবু বকরের বই ছিল সহজলভ্য এবং লাইব্রেরি মালিকের অসচেতনতার কারণে ছিল আধিপত্য। ফলে বিকল্প কোন সুযোগ না থাকায় গল্প প্রেমিকরা কাসেম বিন আবু বকরকেই বেছে নিত। যেমন আমিও স্রেফ, গল্প পড়ার জন্য পড়েছি। এই গল্প পড়তে গিয়ে কিছু কিছু বাক্য হয়তো অবচেতনে দাগও কেটেছিল তখন। 

 

তবে আমার বিশ্বাস, বাঙলা সাহিত্য যেসব লেখকের কাছে ঋণী, সেই সব  লেখকের লেখা বা উপন্যাস পড়ার পর কাসেম বিন আবু বকরে মজা পাবেন না পাঠকরা। অবশ্য  এখানে একটি বিষয়্ও জড়িত; পাঠক কি সত্যিকার অর্থে উপন্যাস পড়বেন নাকি উপন্যাসের নামে মোড়ানো সস্তা কোন প্রেমের গল্প পড়বেন। অর্থাৎ পাঠকের ক্ষুধা ও রুচির বিষয়টিই এখানে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। পাঠকের চিন্তার গভীরতাও সমান গুরুত্ব রাখে। একইসঙ্গে পাঠক সচেতন হলেই বুঝতে পারবেন, তিনি কি পড়ছেন। অবশ্য এই সচেতনতা একদিনে তৈরি হয় না।

 

বিবিসির সেই সাক্ষাতকারের লিংক হচ্ছে-www.bbc.com/bengali/news-39737366

মন্তব্য ২ পঠিত