ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

৭ মার্চ দুপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ফজিলাতুন্নেসা বলেছিলেন, “শোনো, তোমার সামনে লক্ষ মানুষ, তাদের হাতে লাঠি। তোমার পেছনে বন্দুক। এই লক্ষ মানুষ যেন হতাশ না হয়। কারও পরামর্শ শোনার দরকার নাই। তোমার বিবেকের দিকে তাকাও। তোমার মন যা বলবে, তাই-বলবা।”

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দি বঙ্গবন্ধুর কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে পাঠানো সেই চিঠিতে বঙ্গমাতা লিখেছিলেন, “খবরদার, তুমি প্যারোলে মুক্তি নেবে না। তোমাকে নিঃশর্তভাবে ছাড়তে হবে।”

এই চিঠিটি তখনি পাঠানো হয়েছিল যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে লাহোরের গোলটেবিলে বৈঠকে যাওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি আইয়ুব খানের প্রস্তাব আসছিল।

এই দুটো ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা থেকে বোঝা যায় কেন এই মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা হয়ে উঠেছিলেন।

নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া বলেছিলেন, “ভগিনীগণ! চক্ষু রগড়াইয়া জাগিয়া উঠুন- অগ্রসর হউন। বুক ঠুকিয়া বল মা, আমরা পশু নই। বল ভগিনী, আমরা আসবাব নই। বল কন্যে, আমরা জড়োয়া অলংকার রূপে লোহার সিন্দুকে আবদ্ধ থাকিবার বস্তু নই; সকলে সমস্বরে বল আমরা মানুষ।”

নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়কে কেন্দ্র করে নারী দিবসের সূচনা। সেই ১৮৫৭ সালে নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। এরপর কেটে গেল দেড়শ বছরেরও বেশি। এখনো ‘অধিকার চাই’ বলতে হয় নারীদের। তবে কি আমরা তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা ও সম্মান দিতে ব্যর্থ হচ্ছি?

মন্তব্য ০ পঠিত