ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

২০০৭ সালের ১১ জুন প্রবল বর্ষণ শেষে পাহাড় ধসে ১২৭ জন মারা যাওয়ার ওই ঘটনা স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধস হয়ে আছে।

প্রতি বছর চট্টগ্রামের হাতে গোনা কয়েকটি সংগঠন দিনটিকে স্মরণ করে নানা কর্মসূচি পালন করে। নিহতদের মনে করে মোমবাতি প্রজ্বলন করে। কিন্তু এক যুগ আগের ওই দুর্ঘটনা থেকে প্রকৃত শিক্ষা নেয়নি চট্টগ্রামবাসী। এখনো বর্ষা এলেই পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যায়। ২০১৭ সাল ও ২০১৮ সালেও চট্টগ্রাম শহরে পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন তথ্যে পাহাড় কাটাকেই ধসের মূল কারণ বলা হয়েছে। এতে করে মাটির দৃঢ়তা নষ্ট হয়। চট্টগ্রাম জেলায় অবৈধ বাসস্থান নির্মাণ, ইটভাটায় মাটি ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্যই এ পাহাড় কাটা হচ্ছে এমন তথ্য উঠে এসেছে অনেক প্রতিবেদনে।

পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, পাহাড়গুলোতে বসতি স্থাপন করার জন্য পাহাড় কাটা হয়। আবার এখানে স্থাপনা তৈরি কিন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতিতে করা হচ্ছে না। এখন কেউ বৈধভাবে বসতি স্থাপন করলেও ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতিতে নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় না।

অভিযোগ আছে, ক্ষমতাসীন এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা দলের স্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ প্রভাব কাটিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় দখল নিয়ে বসতি নির্মাণ করেছেন। যদিও পাহাড়গুলোর মালিকানা রয়েছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার। সেবা সংস্থাগুলোর সংযোগও (বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি) স্থাপন করেছেন অবৈধভাবে।

প্রভাবশালী মহলটি নিজেদের নিয়োগকৃত লোকের মাধ্যমে পাহাড়গুলোতে ভাড়াটিয়ার ব্যবস্থা করেন এবং ভাড়াও আদায় করেন। ফলে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন চাইলেও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে পারছেন না। এমনকি প্রশাসনের অভিযানেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা না করার অভিযোগ আছে।

কেউ কেউ বলছেন, জাতীয় এবং সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী অংক কষেই রাজনীতিবিদরা অসহযোগিতা করেন উচ্ছেদ অভিযানে। কারণ, নগরীর সরকারি ও বেসরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন পাহাড়ে বাস করে প্রায় ২ লাখ পরিবার।

এসব যতদিন বন্ধ হবে না ততদিন পাহাড় ধসে প্রাণহানিও বন্ধ হবে না এবং লোকজন মারা যাবেন।

 

slide

মন্তব্য ০ পঠিত