ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

পরিসংখ্যান বলে, পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ মনের দিক থেকে অসুখী!
তার প্রধান দুটি কারন; “দ্বিধা” এবং “অবহেলা”।

সুখ যখন তোমার দরজায় কড়া নাড়ে, তুমি তখন হিসেব কষতে বসে যাও পা’ বাড়াবে কি বাড়াবে না। সুখি হবার অনেক উপকরণ তোমার হাতের নাগালে, অথচ তুমি অন্যত্র সেই সুখ খুঁজেতে গিয়ে আফসোস করো কি পেলেনা।

ভালো মাইনে পাওয়া চাকরীজিবি মানুষটা প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার সময় ভাবে, যদি লাখ দশেক টাকা থাকতো, পরের গোলামি ছেড়ে দিয়ে একটা ব্যাবসা-বাণিজ্য করতাম।
নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে ব্যাবসায় নামা ব্যাক্তিটি মাঝপথে এসে ভাবে, একটা চাকরি করলে মাস গেলে বেতনের টাকাটা বৌয়ের হাতে তুলে দিয়ে নির্ঝঞ্ঝাট জীবন কাটানো যেতো।
কৈশোর পেরোনোর আগেই প্রেম করতে গিয়ে ঝোঁকের বশে বিয়ে করে ফেলা ছেলেটা এখন আর বৌয়ের মাঝে তাঁর প্রেমিকাকে খুঁজে পায়না, বৌয়ের কথা এখন তাঁর কাছে ট্যাঁ ট্যাঁ মনে হয়।
অতি বুদ্ধিমতী মেয়েটা নিজের প্রেম’কে বিসর্জন দিয়ে মাঝ বয়েসি এক টাকা-ওয়ালা লোক কে তাঁর স্বামী হিসেবে গ্রহণ করে, এখন স্বামীর টাকা ভালো লাগলেও মাথার টাক’টা তাঁর ভালো লাগেনা।

কোন এক ভুল-বোঝাবুঝি’তে দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ভেঙ্গে যাওয়া বন্ধুত্ব পুনরায় জোড়া লাগছেনা শুধু একটা “হ্যালো”র অভাবে, দু’জনেই ভাবছে ‘আমি আগ-বাড়িয়ে কিছু করতে গেলে সে ভাববে প্রয়োজন’টা আমারই বেশি’।
উঠতে বসতে গার্লফ্রেন্ডের ঝাড়ি খেতে খেতে একবার প্রতিউত্তর করার কারনে যখন গার্লফ্রেন্ড কথা বন্ধ করে দেয়; কষ্টে ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া ছেলেটার তখন এক বন্ধুর কথা খুব মনে পরে, যে তাঁকে আকারে ইঙ্গিতে অনেকবার ভালোবাসার কথা বলতে চেয়েছে, তাঁকে ফোন করার জন্য সেলফোনটা হাতে নিয়েও আবার রেখে দেয় এই ভেবে যে, গার্লফ্রেন্ড’কে কিভাবে বলবে ‘ব্রেকআপ চাই’।
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকা একতরফা রিলেশানশিপের বোঝা টানতে গিয়ে যে হাসিখুশি মেয়েটা আজকাল হাসতেই ভুলে গেছে; খুব পছন্দের কোন মানুষের সাথে নিজের অজান্তে একটু ঘনিষ্ঠ হতে গেলেই তাঁর মাথায় ঘণ্টা বেজে ওঠে, ‘এটা ঠিক হচ্ছেনা’।

আবহেলা হচ্ছে, তোমার কাছে যা আছে তার পরিবর্তে অন্য কিছু, কিংবা একই জিনিস ভিন্ন আঙ্গিকে চাওয়া।
দ্বিধা ব্যাপারটা হচ্ছে, মন আর মস্তিষ্কের দন্ধ। যে’কোন ব্যাপারই প্রথমে মনে উদয় হয়, পরে মস্তিষ্ক সেটাকে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত দেয়।

তুমি চাকুরীজীবির মাস শেষে নিশ্চিত মাইনে’টা দেখলে, কিন্তু টার্গেট পূরণ করতে না পারায় বসের ভদ্র ভাষায় অপমান, কিংবা পারিবারিক ছোট ছোট উপলক্ষগুলোয় থাকতে না পারার কষ্টটা দেখলেনা।
ব্যাবসায়ীর স্বাধীনতাটা দেখলে, কিন্তু মন্দা চলাকালীন ঋণের বোঝা কিংবা দুর্যোগে অনেকগুলো নির্ঘুম রাত দেখলেনা।
বউ এখন আর আগের মতো ভালো বাসেনা; শেষ কবে বৌয়ের জন্য একটা গোলাপ হাতে করে নিয়ে গেছো, মনে করে দেখতো?
বান্ধবীর হ্যান্ডসাম হাসবেন্ড’কে দেখে আফসোস লাগে; তুমি কি জানো, যে টাকা তুমি একদিন পার্লারে খরচ করো তা দিয়ে সে সারামাস আলু-বেগুন কেনে?

যারা শুধু রোবটের মত তোমার হ্যাঁ তে হ্যাঁ মেলায়, তাঁদের কাছে বন্ধুত্ব না খুঁজে যেই কাটখোট্টা বন্ধুটির সঙ্গ একসময় উপভোগ করতে; তাঁকেই আবার কাছে ডেকে নাও।
যে নিজের সুবিধামত তোমাকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করতে চায়, তাঁর কাছে কাঙালের মতো পরে না থেকে যে তোমাকে তোমার মতো করে ভালো ভালোবাসে, তাঁর ডাকে সারা দাও।
জীবনটা একান্তই তোমার, এর প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার অধিকার তোমার আছে! কারো সাথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আছো? সে কি তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষা করছে? সম্পর্কের গাড়িটা এক চাকার উপর কতদিন ধরে রাখতে পারবা? মাঝপথে কোন আগন্তুক যদি পথসঙ্গি হতে চায়, তাঁর সঙ্গ যদি তোমার ভালো লাগে, ক্ষতি কি? তাঁকে তোমার পাশে চলতে দাও, যার কথা ভেবে আগন্তুক কে তোমার ধারে কাছে ভিড়তে দিচ্ছোনা, সেওতো একসময় আগন্তুকই ছিল…