ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

গত শুক্রবার ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া থানার আছিম বাজার এলাকায় কথিত জিনের বাদশা রাজা মিয়া (৪৫)কে গনধোলাই দিয়ে মূর্তিসহ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তাকে গেফতার করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে- রাজা মিয়ার বাড়ী গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মারিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম হোসেন আলী। রাজা মিয়া ৫/৬ দিন পূর্বে ০১৭৩৯৯৯১৭০৭ মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন করে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম বাজারের মুদি দোকানদার সেলিম মিয়ার নিকট। ফোনে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে সেলিমকে অনেকক্ষণ কোর’আন তেলায়ত শোনায় রাজা মিয়া। একপর্যায়ে সে জানায় সেলিমকে আল্লাহর ওলি খুব পছন্দ করেছেন। তাই সহযোগিতার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সহযোগিতা পেতে হলে সেলিমকে বগুড়ার কোন এক মাজারে গিয়ে একশত ফকির-মিসকিন খাঁওয়াতে হবে। যাতে খরচ হবে বিশ হাজার পাঁচশত পঞ্চাশ টাকা। টাকাটা দিতে হবে মাজারে অবস্থানরত হুজুরের নিকট। বিনিময়ে সে পাবে সাত কলসি টাকা। যা তার বাড়ীতেই মাটির নিচে রয়েছে। দুই তিন দিন এভাবেই কথা চলে তাদের মধ্যে। এক পর্যায়ে চালাকি করে সেলিম জানায়-এত টাকা নিয়ে সে বগুড়া যেতে ভয় পাচ্ছে। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী বাজারে আসলে সেলিম রাজা মিয়াকে টাকা দিয়ে দিবে ফকির/মিসকিন খাওয়ানোর জন্য।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৮জুলাই শুক্রবার রাত ৯টায় রাজা মিয়া হাজির হয় সাগরদিঘী বাজারে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সেলিমও হাজির হয় ১০/১২ জন লোক নিয়ে। নসিমন গাড়ীতে তুলে নিয়ে আসে আছিম বাজারে। সাথে ছিল আধা কেজি ওজনের পিতলের মূর্তি। কিছু উত্তম মাধ্যম দিয়ে তুলে দেওয়া হয় ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশের নিকট। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফূলবাড়ীয়া থানার এসআই কাইয়ুম বলেন রাজা মিয়া সারাদেশে বিস্তৃত প্রতারক চক্রের সদস্য ।