ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

টক্ক সাপের দৈর্ঘ মাপা হচ্ছে

আমাদের এলাকায় নাম টক্ক সাপ। শুদ্ধ বাংলায় নাম ‘তক্ষক’, ইংরেজীতে Gecko। উইকিপিডিয়ার বর্ণনা মতে তক্ষক বা Gecko হচ্ছে- Lacertilia বর্গের Gekkonidae গোত্রের একটি গিরগিটি জাতিয় প্রাণি। পিঠের দিক ধুসর বা নিলচে বেগৃনি-ধুসর। সারা শরিরে থাকে লাল ও সাদাটে ধূসর ফোঁটা। পিঠের সাদাটে ফোঁটাগুলি পাশাপাশি ৭-৮ টি সারিতে বিন্যস্ত। কমবয়সী তক্ষকের লেজে পরপর গাঢ় নিল ও প্রায় সাদা রঙের বলয় রয়েছে। মাথা অপেক্ষাকৃত বড় নাকের ডগা চোখ ভোঁতা। চোখ বড় বড়, ফণি ফালি গড়নের। লেজ সামান্য নোয়ানো। দৈর্ঘ নাকের ডগা থেকে পা পর্যন্ত প্রায় ১৭ সেমি হয়ে থাকে এবং প্রায় সমপরিমান লেজ থাকে। তক্ষকের ডাক চড়া, স্পষ্ট ও অনেক দূর থেকে শোনা যায়। ডাকের জন্যই এই নাম তক্ষক (টক্ক)। টক-টক-টক্কে আওয়াজ দিয়ে ডাক শুরু অতঃপর টক্কে-টক্কে করে স্পষ্টস্বরে কয়েক বার ডাকে। এরা কিটপতঙ্গ ঘরের টিকটিকি,ছোট পাখি ও ছোট সাপ খেয়ে বেচে থাকে। এরা মূলত বড় বড় বৃক্ষের গর্তে বা বাড়ীর ছাদের ভাঙ্গা ফাঁক-ফোঁকড়ে বাস করে।

বাংলা অভিধানে তক্ষকরে র্বণনায় উল্লখে আছে এই সাপ রাজা পরীক্ষতিকে ধ্বংশন করছেলি। ঠিক একারণে কিনা জানা যায়ন। তবে এখনো গ্রাম বাংলার অনকে মানুষ বিশ্বাস করে- এই সাপ কামড় দিলে মানুষ বাচেনা। অন্যান্য পৌরাণকি কাহিনীর মত এখানেও বাচাঁর উপায় একটা আছ। সেটো হলো ঐ সাপরে আগে পানিতে ডোব দিতে হবে। আবার বলা হয় কামড় দেওয়ার পর এই সাপ উড়ে গিয়ে পানিতে ডুব দেয়। যাতে সে বাঁচতে পারে।

পৃথিবীতে এর প্রজাতি রয়েছে প্রায় ৬ শতাধিক। তার মধ্যে এবপশড় (টক্ক সাপ একটি)। এপ্রজাতিটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলের পুরাতন বৃক্ষে এবং কোথাও কোথাও অবশিষ্ট বনাঞ্চলে এর অস্তিত্ব বজায় থাকলেও একটি গুজবের কারণে এর অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। একটি টক্কা সাপের ওজন সাড়ে ৩শ গ্রাম হলে তার মূল্য রয়েছে কয়েক কোটি টাকা-এমনটাই প্রচার করছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সেই প্রতারক চক্রটি ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত অঞ্চলে খুজ নিয়ে দিনে ও রাতের আধারে টক্ক সাপ সংগ্রহ করছে। টক্ক সাপ ওজনে ছোট হলে তাকে মেরেও ফেলা হচ্ছে। অন্যদিকে ক্রেতারা যে শর্ত দিচ্ছে ঐরকম সাপ একটিও মিলছে না। এ থেকে অনেকে সন্দেহ করছে বিষয়টি নিছক প্রতারনা।