ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

একসময় গ্রামবাংলার যত্রতত্র বসতো বাউল গানের আসর। বাউল গান ছাড়াও আয়োজন করা হত কিচ্ছা, জারী-সারি, ঘেটু গানের। দলের গান নামেও একধরনের গানের আয়োজন হত। সাধারণত অগ্রহায়ন মাস থেকে শুরু হয়ে চলত চৈত্র মাস পর্যন্ত।

গত ১১মে ২৮ বৈশাখ আমাদের উদীচীর সাধারন সম্পাক সারওয়ার কামাল রবীন ভাই কল করে বল্ল রাত ৯টায় কাশীগঞ্জ যাব। তৈরি থেক। উদীচী অফিসে নৃত্য বিভাগের মিটিং শেষে বাসায় রাতের খাবার খেয়ে মালগুদাম আসতে আসতে বেজে গেল ১০টা। আমি রবীন ভাই ও চিন্ময় দেবনাথ রওনা হলাম কাশীগঞ্জের উদ্দেশে। প্রচন্ড গরম থাকার কারনে মটর সাইকেলে ভা্লই লাগলো। যাওয়ার পথে রবীন ভাই জনালেন আমরা বাউল গান শুনতে যাচ্ছি। সেখানে অনেক শিল্পী এসেছেন। তাদের মধ্যে আছেন সুনাধন্য বাউল সুনীল কর্মকার ও ছালাম সরকার। আমাদের যিনি আমন্ত্রন জানিয়েছেন তিনি হলেন সদ্য ক্যানসার থেকে সাময়িক আরোগ্য লাভকারী শিল্পী ইমন। শুনে কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করলাম-বৈশাখ মাসে বাউল গান? তাও আবার খোলা মাঠে? যে কোন মুহুর্তে বৃষ্টি আসতে পারে।
যাইহোক আলোচনার ফাকে আমরা পৌছে গেলাম কাশিগঞ্জ। এই কাশিগঞ্জ হলো ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনা যাওয়ার পথে যে কাশিগঞ্জ পড়ে সেই কাশিগঞ্জ। ওখানে পৌছে জানতে পারলাম গনের আসর আরো ১ কিলোমত দূরে। অল্প সময়ের মধ্যেই আসরের নিকট গিয়ে দেখি খোলা মাঠ সদ্যকাটা ধানের খেতে মঞ্চ। আমরা পৌছার পূর্বেই শুরু হয়ে গেছে বাউল গান। দর্শক ২/৩ হাজার।

আসরে গান পরিবেশন করছেন প্রখ্যাত বাউ সুনীল কর্মকার

অন্ধকার রাত আলোর ব্যবস্থাও অপ্রতুল। মাটিতে বসে গান শুনছে মাটির মানুষেরা। এরাই বাঙালি সংস্কৃতির রক্ষক।

পালা গানের অপর শিল্পী বাউল ছালাম সরকার।

যারা বাঙালি সংস্কৃতির ভবিষ্যত অন্ধকার দেখেন তাদের জন্যই এ পোষ্ট। আমরা যারা শহরে বাস করি এবং বলি বাঙালি সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে-তাদের বলবো এরকম এক আসরের শ্রোতার সমান আমরা ২০টি আসরেও পাই না। ওরাই বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক।

বি.দ্র. সকল ছবি দিতে পারলাম না।