ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
04_Petrol+bomb_Kaliakair_Rajib+Karmakar_210115_0001

দশম সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে আবারো রাজনৈতিক সহিংসতা শুরু হয়েছে বছরের শুরু থেকেই। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ৫ই জানুয়ারিকে গণতন্ত্র রক্ষা দিবস এবং ২০দলীয় জোট এই দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। বিএনপির দাবি অনুযায়ী, ঢাকায় তাদের নির্ধারিত সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে সারা দেশে টানা অবরোধের ঘোষণা দেয় দলটি। এরই অংশ হিসাবে আজ ১৫তম দিনের মত চলছে অবরোধ।

আমাদের দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের সার্বজনীন সংজ্ঞাকে নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদের মত তৈরি করে নিয়েছেন। ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী উভয় দলগুলোই মনে করেন তারা যা করছেন সবই গণতন্ত্রের মধ্যে দিয়েই করছেন। গণতন্ত্র আজ তাদের নিজেদের হাতে তৈরি নিছক একটি খেলনা বস্তু।

চলতি বছরের ৫ই জানুয়ারি সরকার বিএনপির সভা-সমাবেশের উপর যে দমন-পীড়ন করেছে তা কখনো গণতন্ত্রকে সুসংজ্ঞায়িত করেনা। যেকোন দেশের উন্নয়নে শক্তিশালী বিরোধীদল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কিন্তু আমাদের দেশে তা কি আধৌ সম্ভব হয়েছে? সরকার এবং অপর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো পরষ্পরের মধ্যে হানাহানির কারনে দেশের উন্নয়ন আজ বিলম্বিত হচ্ছে। শান্তিপূর্ন সভা-সমাবেশ করার অধিকার গণতন্ত্রের মূল ধারারই একটি অংশ। তাহলে কেন সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছেনা? তাহলে কি ধরে নেওয়া যায় বিরোধীদলগুলো শান্তিপূর্ন সভা-সমাবেশ করছেনা?

বাস্তবে যদি দেখতে যাই তবে তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্যতাও খুঁজে পাওয়া যায়। গত ১৫ দিনে দেশে যে জ্বালাও, পোড়াও করে নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তা কোন গণতন্ত্রের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে? গণতন্ত্র যদি সাধারণ মানুষের কল্যাণার্থেই হয়ে থাকে তাহলে সেই গণতন্ত্রের উপহার কি চলতি অবরোধে নিরাপরাধ ২৮ জন মানুষের মৃত্যু? আজ গণতন্ত্রের নামে মানুষ হত্যার যে ভয়াল তান্ডব চলছে তাতে সারাদেশের মানুষ আতংকিত। পেট্রল বোমা, বাসে আগুন, ককটেল নিক্ষেপ করে এ কোন গণতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা চালানো হচ্ছে? স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে কি পায়দা নিতে চাচ্ছে বিরোধী জোটগুলো ? মানুষকে হত্যা করে, যানবাহনে আগুন দিয়ে, গরিব মেহনতি মানুষের কাজের পথকে বন্ধ করে কি গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা যায়? এবারেই প্রথম সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয়, বিশ্ব মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্মেলন ‘বিশ্ব ইজতেমা’র সময় পর্যন্ত অবরোধকে শিথিল করেনি ২০দলীয় জোট, এমনকি একটি ঘোষণার মাধ্যমেও বলেনি ইজতেমায় আগত সকল যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। যা জাতিকে হতাশ করেছে।

১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস বর্বরোচিত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গৌরবময় একটি স্বাধীন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো কার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে? সাধারণ মানুষকে হত্যা করাই কি গণতন্ত্রে জয়লাভের সমতুল্য? জ্বালাও, পোড়াও করে জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এ কোন ধরনের গণতন্ত্র?

এ দেশের সাধারণ জনগন এমন গণতন্ত্র চায়না, যে গণতন্ত্রে পৃষ্ট হয়ে তাদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে যায়, হারাতে হয় তার প্রিয় স্বজনটিকে, পঙ্গুত্ববরণ করতে হয় সারাটি জীবন। আজ মানুষকে রাস্তাঘাটে বের হলেই জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে।পেট্রল বোমা আর ককটেলের গণতন্ত্রকে তারা প্রাণপনে ঘৃনা করে।

এ দেশের জনগন এ দেশটাকে প্রকৃতভাবেই ভালবাসতে চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে রাজনীতির নামে গণতন্ত্রের নামে দেশে যে অরাজক পরিস্থিতি চলছে তা কখনো মেনে নেওয়ার নয়। তাই আরও একবার সময় এসেছে রাজনীতির নামে জ্বালাও, পোড়াও বন্ধ করার। একটি সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে সরকার এবং বিরোধীদলগুলোকে এক হয়ে কাজ করা এখন সময়ের দাবি। গণতন্ত্রের নামে জ্বালাও, পোড়াও বন্ধ করুন। গণতন্ত্র বলতে সাধারণ মানুষের কল্যাণার্থের গণতন্ত্রকে বেঁছে নিন।

মামুনুর রশিদ
শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়