ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই প্রাণের উৎসবেই নিজেদের নোংরা ক্ষুধা মেটাতে কিছু মানুষরূপী….(তাদের পশু/ জানোয়ার এ সকল নামে অভিহিত করতেও আমার রুচিতে বাঁধে, কেননা এ সকল প্রাণীকূলেরও একটা মানসম্মান আছে) এর হাতে নির্যাতিত হলেন আমাদের কারো মা, কারো বোন, কারো বা কাছের মানুষ। আমরা সবাই পুলিশ নামক একটি উদ্ভত প্রজাতির প্রাণীর উপর দোষ চাপিয়েই নিজেদের দায় মুক্তির তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে ব্যস্ত। কেউ বা আরেকটু এগিয়ে সেই উৎসব (?) স্থলে উপস্থিত লক্ষাধিক প্রাণীকূলের মধ্যে গুটিকয়েক মানুষকে বাহবা দিয়ে নিজেদের দায়বদ্ধতার কাজটি সম্পাদন করছেন। কিন্তু আমরা কি একজনও কেউ ছিলাম না সেখানে আমার ভাই লিটন নন্দী’র পাশে দাঁড়ানোর মতো?

সেদিনের সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মা দিবসে আবারো লাঞ্ছনার শিকার হলেন বাংলার মা এর জাতি আমার বোন। কি দোষ ছিল তার? কয়েকদিন আমরা খুব হৈ চৈ ফেলে দিলাম ঘটনাটি নিয়ে। ধিক্কার জানালাম সেইসব রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের। ব্যাস! এতেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে গেলো? কি শাস্তি হলো সেই সকল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের? তার খবর কি আমরা কেউ রেখেছি? জানতে চেয়েছি আমার সেই বোনটি এখন কেমন আছে? আর কারো কথা জানি না, আমি নিজের কথায় বলি। না, আমি জানতে পারিনি আমার বোনের খবর। হয়তো নানান ব্যস্ততা আর নিজেকে নিয়ে থাকার সংস্কৃতিই আমাকে রাখতে দেয়নি সেই খবর।

গত ২১ তারিখ রাতে বাংলাদেশের রাজধানীর অভিজাত একটি এলাকায় একজন মানুষকে লাঞ্ছনা করা হলো। একটা কথা খুব জানতে ইচ্ছে করে। ঢাকা শহরে রাত সোয়া ৯টা অনেক গভীর রাত? একজন জলজ্ব্যান্তমানুষকে দুইজন নরপিশাচ টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুললো আর সেটা কেউ দেখতে পেলোনা? আমরা সবাই এতটাই অন্ধ হয়ে গেলাম? মানলাম, পুলিশের ঝামেলা এড়াতে আমরা কেউ সামনে যাইনি। তাছাড়া, জীবনের মায়া কার না আছে? কিন্তু তাদের এই অপকর্মের কথাটাও কি আমরা কেউ পুলিশের কাছে জানাতে পারতাম না? নাকি আমার মা, বোন অথবা প্রিয়তমা ধর্ষিতা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কোনো দায় নেই? আর কতো দায় এড়ানোর সংস্কৃতিতে থাকবো আমরা? ক্ষমা করো বোন আমার, তোমার যোগ্য সম্মান দেওয়ার যোগ্যতা নেই এই রাষ্ট্রের।

পুলিশকে আমি কোনোরকম দোষারোপ করিনা। কেননা, তারা এখন আর রাষ্ট্রের সেবক নয়। তারা বর্তমানে শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীতে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই তাদের নিয়ে কিছু বলতে বা লিখতেও আমার রুচিতে বাঁধে।