ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

১১জৈষ্ঠ্য, ১৪২২; ২৫ মে ২০১৫। বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাব দিবস।তাঁকে উদ্ধৃত করে আমার বিশেষণ নিয়ে অনেকের  মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু আমার চিন্তা ও যুক্তিতে আমি অনড়।

নজরুলকে বলা হয় প্রেমের কবি, বিদ্রোহ ও সাম্যের কবি। আমার কাছে তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানবতার কবি হিসেবেই পরিচিত। আমি নিজে একজন আবৃত্তিকর্মী হিসেবে তাঁকে সেভাবেই চিনি ও জানি। মৌলবাদীরা বলে নজরুল ইসলামের কবি। গজল আর ইসলামী গান লিখলেই যদি ইসলামী কবি হওয়া যায় তাহলে তো শ্যামা সঙ্গীত আর ভক্তিমূলক গানের জন্য তিনি হিন্দু সমাজের অন্যতম প্রধান কবি হওয়ার প্রথম সারিতে থাকার দাবিদার। “মসজিদেরি পাশে আমায় কবর দিও ভাই/যেনো গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই” এই গানটির কারণে বেচারা কবি মৃত্যুর পরও শান্তি পাননি। তাঁকে তাঁর গানের মর্ম হাড়ে হাড়ে টের পাওয়ানোর জের সন্তানকে শেষ দেখার সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি করে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়। গানের কথায় মসজিদের পাশে কবর দেওয়ার অনুরোধ করায় কাউকে যদি মসজিদের পাশে কবর দিতে হয়, তবে কবি তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র বুলবুল ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে অভাবের তাড়নায় যখন লিখলেন “বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে দিস নে আজি দোল” এই গানটি দিয়ে কি তিনি তাঁর আদরের সন্তানের মৃত্যু কামনা করেছিলেন?

আর তাই যদি বা হয় তবে বুলবুলের অকাল প্রয়াণে শোকাহত কবি কেনই বা লিখলেন “ঘুমিয়ে গেছে শান্ত হয়ে আমার গানের বুলবুলি”? খুব জানতে ইচ্ছে করে। কবি মহোদয় আসলেই বড্ড অসময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। দয়া করে কি তাঁর পক্ষে কেউ উত্তরটি দিবেন?

পুনশ্চকবিকে কোনোভাবেই অবজ্ঞা করার জন্যে এই লেখাটি নয়। দয়া করে কেউ এটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। 

টি সম্পূর্ণই আমার পড়া অসাম্প্রদায়িক নজরুলকে সাম্প্রদায়িক চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমার নিজস্ব  মতামত