ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

“….এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান, বাঙালী-ননবাঙালী যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের ওপর, আমাদের যেন বদনাম না হয়। ….রক্ত যখন দিয়েছি, আরো রক্ত দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম.. জয় বাংলা!”

৭ই মার্চের ভাষণ বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে সহজ এবং কঠিন সত্যের ভাষণ! স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক নেতাদের ইতিহাসের ভাষনগুলোর মাঝে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ কে বলা যায় – ‘সহজ কথা, সহজভাবে বলার’ ভাষণ! যা ছিল যেমন টি গনমানুষের জন্য, ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবি-রাজনীতিবিদ তথা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের জন্যও!

দুঃখজনক সত্যি হোল শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে যদি ঘিরে থাকে সেইসব মানুষ যারা দুরাচার, দুর্বৃত্ত, পাপিষ্ঠ, দুর্বাক, দুর্মুখ, দুর্বিনীত, দুর্বুদ্ধি, ও দুষ্কর্ম চর্চা দ্বারা আবৃত, তখন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বদের চিন্তার স্বচ্ছতা কুহেলিকা মাত্র! আর তাই স্বাধীনতা এসেছিল ঠিকই, মুক্তি আজও আসেনি!

স্বাধীনতার পরবর্তীকাল থেকে আজ পর্যন্ত যে রাজনৈতিক লালসা,দুরভিসন্ধি, দুরবৃত্তায়ন, শঠতা, সন্ত্রাস, জিঘাংসা, আর ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের মুলচেতনা কে ভূলুণ্ঠিত করেছে যে শুধু তাই না বাংলাদেশের মানুষের দেশাত্মবোধের চেতনা কে প্রশ্নবিদ্ধ এবং অবক্ষয়ের সম্মুখীন করেছে!

তাই চার দশকেরও বেশী সময় পরে আজো চাই চিন্তার স্বচ্ছতা; মুক্তির স্বাধীনতা…কিংবা স্বাধীনতার মুক্তি !

“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির, জ্ঞান যেথা মুক্ত” ভয় কি বন্ধু বলে উঠি একসাথে তবে…
বল বীর –
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি, নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল বীর –
বল মহা বিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ভেদিয়া,
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ব বিধাত্রীর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর-
আমি চির উন্নত শির।