ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

ইন্টারনেটে নজরদারি এখন আপনার

হেঁশেলের দুয়ার ঠেলে ঢুকছে

 

ইন্টারনেট কাজে লাগিয়ে অগোচরে মানুষের ফ্রিজের ভেতর অবধি ঢুকবার পথ বের নিয়েছেন প্রযুক্তিবিদরা।আপনি মোবাইলে কলার টিউন বদলেছেন ঠিক কোন দিন, আপনি কী খেতে ভালোবাসেন, ডান দিকে ফিরে শুলে আপনার কোমরে ব্যথা হয় কি না এইসব অদরকারি তথ্য, নেহাতই ‘কখনও যদি কোনও কাজে লাগে’ ভেবে জমিয়ে রাখা হচ্ছিল খেলাচ্ছলে।

মানুষ সম্পর্কে যে পরিমাণ তথ্য জমা করা হচ্ছে, তার বেশির ভাগ অংশটাই মানুষ নিজেই জানে না। আর যে বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্যগুলিকে এত দিন স্রেফ মার্কেটিং বা ওই জাতীয় কোনও নির্দোষ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেই তথ্যকে এবার ইচ্ছে করলেই একটি নিরাপত্তা সংস্থা ব্যবহার করতে পারে। জমা হওয়া বিপুল তথ্যের ভিত্তিতে দুনিয়া জুড়ে নজরদারির জাল বোনা হয়েছে।ব্যক্তিস্বাধীনতার সমস্ত রক্ষাকবচ হারিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের রক্তচক্ষুর সামনে দুনিয়ার তাবৎ মানুষ আজ নগ্ন। সেটাই ফাঁস করে দিয়েছিলেন এডওয়ার্ড স্নোডেন।

৬ জুন, ২০১৩। দি ওয়া‍‌শিংটন পোস্ট ও দি গার্ডিয়ান পত্রিকায় একটি খবর বের হয়। খবরে প্রকাশ, মার্কিন সরকার তার দু’টি সংস্থা, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এন এস এ) ও (এফ বি আই)-র মাধ্যমে একটা মানুষ আরেকটা মানুষের সাথে ই-মেলে যা বার্তা পাঠা‌য়, মোবাইলে যা কথা বলে সবই নাকি নজরদারি করছে, দেখছে, শুনছে। নজরদারি চালানো হয় প্রতিটি লোকের ব্যক্তিগত কথাবার্তায়, খোদ মার্কিনীরাও এই নজরদারি থেকে বাদ নয়। ব্যাপারটি নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। কেউ বলে এসব আজগুবি উড়ো খবরের কোনও ভিত্তি নেই। পত্রিকা দু’টি দাবি করে, খবরগুলো সত্যি। কিন্তু, কে তাদের খবরগুলি দিয়েছে? যিনি এই খবরটি দিয়েছেন, সেই এডওয়ার্ড স্নোডেন তখন বসে হঙকঙ-এ। তিনদিন বাদে তিনি মিডিয়ায় সরাসরি আত্মপ্রকাশ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ)-র হাওয়াই-এর অফিসে কম্পিউটারের পরিকাঠামো দেখা তার কাজ ছিল। এর আগে তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-তেও কাজ করেছেন।

হেঁশেলের খবর বের করা নিয়ে যে প্রবাদটি এত দিন কেবল ব্যঞ্জনার্থেই ব্যবহৃত হত, তা এখন বাস্তবে রূপায়িত হতে চলেছে। প্রতি মুহূর্তে কে কী করছে তার খতিয়ান রাখাই শুধু নয়, সবটুকু কুড়িয়ে কাঁচিয়ে সর্বজনের চেটেপুটে খাবার তরে পরিবেশনের যথাযোগ্য এবং সুবন্দোবস্তের আয়োজন চলছিল এত দিন, কে কোথায় কী করলে বা না করলে এ ধরণীর কতটুকু লাভ বা ক্ষতি হত সে নিয়ে চিন্তা ভাবনায় আকুল মানুষ ব্যক্তিগত জীবনের সবটাই দুনিয়াব্যাপী মোচ্ছবের পাতে তুলে দিচ্ছিলেন, এখন অন্দরের বাকি যেটুকু রাখঢাক বজায় ছিল, সেটুকুও যেতে বসেছে।আসলে তথ্যের বিশ্লেষণে এসেছে আমূল পরিবর্তন। নজরদারি করে পাওয়া বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য দরকার নতুন কায়দা। তাই জনচক্ষুর প্রায় আড়ালে একবিংশ শতাব্দী পুনর্জন্ম দিয়েছে বিশেষ কয়েকটি ডিসিপ্লিনের, তার একটির নাম ডেটা অ্যানালিটিক্স।

স্নোডেনের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে মুখে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা নিয়ে বড়ো বড়ো কথা বলে, আর কার্যক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য-কথোপকথন সংগ্রহ করে ব্যক্তির গোপনীয়তাকে লঙ্ঘন করে তা ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়। ২০০২ সালে এনএসএ একটি কর্মসূচী নেয়, যার নাম দেয়— প্রিজম। এর মাধ্যমে, বিশ্বের যাবতীয় লোকজন ইন্টারনেটে যে-সমস্ত তথ্য আদানপ্রদান করে, নানা ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের কথা একে অপরের কাছে পাঠায়, তার সব কিছুই এনএসএ সংগ্রহ করে। স্নোডেন দেখান, পৃথিবীতে ইন্টারনেটে যা আদানপ্রদান হয়, তার শতকরা ৯০ ভাগের উপর আদানপ্রদান হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য দিয়ে। ইন্টারনেটে আদানপ্রদান করে যে কোম্পানিগুলি (যেমন- মাইক্রোসফ্‌ট, গুগল, ইয়াহু, ফেসবুক ইত্যাদি) তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত কম্পিউটারের সাহায্যে তা করে থাকে, আর তাদের কম্পিউটারের সমস্ত তথ্য দেয় এনএসএ-কে। এনএসএই সমস্ত তথ্যগুলোকে কম্পিউটারের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে, তার নির্যাস বার করে। ফলে কোনও মানুষেরই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলে কিছু থাকে না।

কলকাতা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনও বন্ধুর কাছে যদি ফোন করেন, তবে তার সমস্ত কথোপকথন তো এনএসএ-র খপ্পরে যাবেই। এমনকি কলকাতা থেকে অন্য কোনও দেশে যদি ফোন করেন, তবে দূরত্বের দিক থেকে সেই দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে অনেক কাছে হলেও, সেই টেলিফোন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে সেই দেশে যেতে পারে। আপনি ফোন করলে, টেলিফোন কোম্পানি প্রযুক্তির সাহায্যে দেখে নেয়, সেই মুহূর্তে কোন্‌ পথে আপনার টেলিফোনটি নিয়ে যাওয়ার খরচ সবচেয়ে কম। অনেক সময়েই দেখা যায়, সরাসরি না গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে গেলে তাতে খরচ কম হয়ে যাচ্ছে। আপনার বিলের ক্ষেত্রে যা রেট আছে তাই নেবে, কিন্তু টেলিফোন কোম্পানির খরচটা কমলো। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে গেলে, এনএসএ সেই তথ্য নিয়ে নেবে। আবার, কোনও মুহূর্তে এটা হতেই পারে যে সরাসরি গেলে, খরচ অনেক কম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে তা গেল না। সেই তথ্য জোগাড় করার জন্যও প্রিজমচেষ্টা করছে। ওরা ভারত মহাসাগরের কাছে ফাইবার অপটিক কেবল থেকে তথ্য চুরি করার জন্য যন্ত্র বসিয়েছে। সমুদ্রের তলায়, এইরকম যন্ত্র আরও বসিয়েছে আফ্রিকার দক্ষিণে ও লাতিন আমেরিকার কাছে। বিশেষভাবে, এ‍‌ই তিনটি জায়গা বেছে নেওয়ার কারণ, এই সমস্ত জায়গার লোকেরা ইংরেজি ছাড়া অন্য ‍‌ভাষায় কথা ব‍‌লে, তা সংগ্রহ করে তার নির্যাস তাড়াতাড়ি বার করা দরকার। স্নোডেন জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনএসএ-র এই সমস্ত কাজকর্মের সাথে যুক্ত আছে ব্রিটেনের গভর্নমেন্ট কমিউনিকেশন হেডকোয়ার্টার্স (জিসিএইচকিউ) নামক সংস্থাটি। এনএসএ এবং জিসিএইচকিউ একসাথে গুপ্তচরবৃত্তি চালায়, নিজেদের মধ্যে সংগৃহীত তথ্য আদানপ্রদান করে।

প্রিজম-এর মতোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি গুপ্তচরবৃত্তির কর্মসূচী Xkeyscore। এ‍‌ই কর্মসূচীতে গুপ্তচরবৃত্তি হয় নানাস্তরে। বিভিন্ন দেশের আজ মহাকাশে স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) আছে। এ‍‌ই স্যাটেলাইটগুলো তথ্য আদানপ্রদানে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যদেশের স্যাটেলাইটের তথ্য চুরি করে। তাছাড়া, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মোট ১৫০টি স্থানে ৭০০টি শক্তিশালী কম্পিউটার বসানো হয়েছে, এদের সাহায্যে সেই দেশগুলিতে ভিতরে ও বাইরে যে-সমস্ত তথ্য আদানপ্রদান হয়, তা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই ১৫০টি স্থানের মধ্যে ভারতের দিল্লি আছে। চীনে এরকম কোনও কিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও পর্যন্ত বসাতে পারেনি। স্নোডেন জানিয়েছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দে‍‌শের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নজরদারির মাত্রা বিভিন্ন। নজরদারির মাত্রায় ভারতের অবস্থান পঞ্চমে। ভারত এক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়া থেকে এগিয়ে। চীনের নাগরিক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উপর প্রায় একই মাত্রায় নজরদারি চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গোয়েন্দাদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন বারাক ওবামা।সম্প্রতি আমেরিকায় ফোনে আড়িপাতার বিপুল বন্দোবস্তের কথা স্বীকার করে নিয়েছে ওবামা প্রশাসন। ক্ষমতায় এসে জর্জ ডব্লিউ বুশের জমানার বাড়াবাড়ি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বারাক ওবামা। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওবামা জমানাতেই বেড়েছে নজরদারি।

এখানেই শেষ নয়! আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় গোপনে ‘নাক গলাচ্ছে’ ফেসবুকও! এরকম চাঞ্চল্যকর অভিযোগও উঠেছে এই মুহূর্তে বিশ্বের এক নম্বর সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটটির বিরুদ্ধে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইন্টারনেটে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর গতিবিধি অতি গোপনে নজরে রাখছে ফেসবুক। এমনকি কেউ যদি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছেও ফেলে বা ওয়েবসাইটি থেকে নিজেকে সরিয়েও নেয়, তা সত্ত্বেও ইউরোপের তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘন করে ইন্টারনেটে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু প্রশ্ন হল, কীভাবে? ব্রিটেনের সংবাদপত্র ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ফেসবুক গোপনে প্রত্যেক ব্যক্তির কম্পিউটারে নজরদারির সফটওয়্যার ইনস্টল করে দিচ্ছে। ওই সফটওয়্যারের সাহায্যেই ইন্টারনেটে ব্যবহারকারীর যাবতীয় ব্যক্তিগত কাজকর্ম নজরে রাখছে তারা। তাই ফেসবুক থেকে কোনও ব্যক্তি নিজের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললেও তার কম্পিউটারে গোপনে ইনস্টল করা সফটওয়্যার ইন্টারনেটে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যাবতীয় গতিবিধির তথ্য ফেসবুকের সার্ভারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ইউরোপের তথ্যপ্রযুক্তি আইন অনুযায়ী, কারও কম্পিউটারে গোপন নজরদারির সফটওয়্যার ইনস্টল করা হলে বা ওয়েবসাইটে ভিজিট ট্র্যাক করা হলে, ওই ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে বা তাঁকে জানাতে হবে। ফেসবুক-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সংস্থাটি আইন ভেঙে ব্যবহারকারীকে না জানিয়ে গোপনে সব কম্পিউটারেই নজরদারির সফটওয়্যার ইনস্টল করে দিচ্ছে। এমনকি গোপন নজরদারির সফটওয়্যার কেন ইনস্টল করা হল, তাও ব্যবহারকারীকে জানানোর প্রয়োজন মনে করছে না ফেসবুক। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

শুধু আমেরিকাই নয়, অভিযোগ উঠেছে গত এক দশক ধরে ভারত-সহ এশীয় দেশগুলির ইন্টারনেটের উপর নজরদারি চালাচ্ছে চীন। সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া ইন্টারনেট নিরাপত্তা সংস্থা ফায়ার আইয়ের এক রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার উপর ‘ফোকাসড অন টার্গেট’ নামের এক গোপন নজরদারি চালাচ্ছে চীন। ভারত সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ওই নজরদারির আওতায় রয়েছে। ফায়ার আইয়ের অন্যতম অধিকর্তা ও ওই রিপোর্টের অন্যতম লেখক ব্রাইস বোলান্ড বলেন, “এই নজরদারি এখনও অব্যাহত। এমনকি চীন তার দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে জড়িত আসিয়ান সদস্যভুক্ত দশটি দেশের উপরও নজরদারি চালায়।”  তবে চীনই প্রথম নয়। এর আগে ২০০৪ সালে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উঠেছে।

কেউ কেউ ভাবতে পারেন, ভারতে আর ক’জনই বা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাতে এসব নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামানোর দরকার নেই। একথা ঠিক, ভারতের জনসংখ্যার তুলনায়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম। কিন্তু সারা পৃথিবীর সাথে তুলনা করলে, এ দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম নয়— ‍১২ কোটি। সমস্ত দেশগুলির তুলনায় তা তৃতীয়, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর পরেই। যত লোক ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে, অনেক দেশের মোট জনসংখ্যা তার থেকে কম।আর নজরদারি তো শুধু ইন্টারনেটে হচ্ছে না। টেলিফোনে হতে পারে, বিশেষত মোবাইল টেলিফোনে। সেখানে নজরদারি করা অনেক সহজ। ভারতে প্রায় ৯০ কোটি লোক মোবাইল ব্যবহার করে, সমস্ত দেশগুলির তুলনায় তা দ্বিতীয়, শুধুমাত্র চীনের পরে।

তার ফলে মানব সভ্যতার জমার খাতায় লাভের অঙ্কটি কী রকম দাঁড়াল, বা বিপর্যয়েরই বা কী রকম সম্ভাবনা, সে রকম নানাবিধ প্রশ্ন মাথায় গজানোটাই স্বাভাবিক। আধুনিক মানুষের নানা জটিলতা থেকে হেলায় নিরুপদ্রব শক্ত জমিনে পা রাখতে পারার নানা কায়দা জানা হয়ে গিয়েছে। আগে বৈঠকখানা অবধি প্রযুক্তি নাক গলাতে পারত আর এখন হেঁশেলের দুয়ার ঠেলে ঢুকছে। তবে পরতে পরতে প্রযুক্তির এই উন্মোচন মানুষের বিস্মিত হওয়ার বোধটিকে নিয়ে যে ছেলেখেলা শুরু করেছে তা বলাই বাহুল্য। এক সময় সেটি সম্পূর্ণ অন্তর্হিত হবে, কেবল সময়ের অপেক্ষা।