ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে চলেছেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি পেত্রো পোরোশেনকো

ইউক্রেনে কমিউনিজম নির্মূল অভিযান শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের মার্কিন পুতুল রাষ্ট্রপতি পেত্রো পোরোশেনকো এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে চলেছেন এমনটাই আশ্বস্ত করেছে আমেরিকা। পোরোশেনকো যাতে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান তার জন্য নরওয়ের মার্কিন দূতাবাস ও ইউক্রেন সরকার যৌথভাবে লবি চালিয়ে যাচ্ছে। এতেই উৎসাহিত হয়ে আমেরিকাকে খুশি করতে পোরোশেনকো ইউক্রেনে কমিউনিজম নির্মূল অভিযানে ব্রতী হয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতেই কমিউনিস্ট প্রতীক ও প্রচার অভিযান নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি উগ্র দক্ষিণপন্থী নাৎসিবাদীদের স্বীকৃতি দিয়ে দুটি আইন অনুমোদন করেছেন মার্কিনপন্থী রাষ্ট্রপতি। শুধু কমিউনিস্ট প্রতীক নয়, এই আইনে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্মৃতি-স্মারক, সোভিয়েত জাতীয় সঙ্গীত থেকে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত সবকিছুই বেআইনি ঘোষিত হয়েছে। ইউক্রেনের তিনটি কমিউনিস্ট পার্টি — কমিউনিস্ট পার্টি অব ইউক্রেন, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইউক্রেন (নিউ) এবং পার্টি অব ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজান্টসকে এই আইনের আওতায় এনে তিনটি দলেরই পার্টি কর্মসূচী, গঠনতন্ত্র, প্রতীক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কমিউনিজম নির্মূল অভিযান ত্বরান্বিত করতে একটি কমিশনও গঠিত হয়েছে। গত ২৩শে জুন কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বিচার বিভাগের প্রথম উপ-মন্ত্রী নাতালিয়া সেভাস্তিয়ানোভার সভাপতিত্বে। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী ইয়াতসেনুক জানিয়ে দিয়েছেন, কমিউনিজম নির্মূলে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করাই হবে কমিশনের প্রথম লক্ষ্য। যাঁরা আইন মেনে চলবে না তাঁদের স্থান হবে কারাগারে। ইতিমধ্যেই কমিউনিস্ট নেতাদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে গ্রেপ্তারি অভিযান শুরু হয়েছে। পার্টি অফিসে আক্রমণ, প্রবেশপথে তালা লাগিয়ে দেওয়া এবং কমিউনিস্টদের চিহ্নিত করে তাদের উপর হামলা চালানোর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। অর্থাৎ আইনি পথে, দৈহিক হামলা ও জেলে পাঠিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে কমিউনিস্ট কার্যকলাপ থেকে মানুষ যাতে‍‌ বিরত থাকেন এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দেশজুড়ে কমিউনিস্ট তথা প্রগতিবাদী মানুষদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছিল নিও-ফ্যাসিস্তদের নিষিদ্ধ করার। কিন্তু কমিশনের চেয়ারম্যান জানিয়ে দিয়েছেন তারা সে পথে হাঁটবেন না।

ইউক্রেনের কমিউনিস্ট পার্টি সারা পৃথিবী, বিশেষ করে ইউরোপের প্রগতিকামী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছে, কমিশনের উদ্দেশ্য শুধু কমিউনিজমকে নির্মূল করা নয়, ইউক্রেনের সরকার-বিরোধী শক্তি বামপন্থী আন্দোলনকে সমূলে ধ্বংস করাই তাদের লক্ষ্য। ইউক্রেনের মানুষ যারা বর্তমান মার্কিনপন্থী সরকারকে পছন্দ করে না, তাদের শাস্তি দিতেই এমন কঠোর আইন বলবৎ করতে চলেছে সরকার। অর্থাৎ স্বাধীনতা, সমতা, সহমর্মিতা এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বামপন্থীদের আন্দোলনকে গণহত্যাকারীদের সঙ্গে এক করে দেখানোর চেষ্টা করে বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ইউক্রেনের কমিউনিস্ট পার্টি বলেছে, নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করছে এই সরকার। নাগরিকদের কোনোরকম প্রতিবাদের অধিকারকে বর্তমান সরকার উড়িয়ে দিচ্ছে। কেউ তা অমান্য করে প্রতিবাদ জানালে কিংবা সরকারি পদক্ষেপের বিরোধিতা করলে তার বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পোরোশেনকো সরকারের কাছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অর্থই হচ্ছে প্রথমেই ধরে জেলে ঢুকিয়ে দাও। ইউক্রেনের বর্তমান সরকার ওয়াশিংটনের বিশেষ আশীর্বাদধন্য নিও-ফ্যাসিস্তদের সরকার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউক্রেনের যারা হিটলারকে সাহায্য করেছিল তাদের অনুগামীদের নিয়ে এই সরকার চলছে। সময় এসেছে ইউক্রেনের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে বিশ্বের প্রগতিবাদী মানুষের এগিয়ে আসা। এবং এই সরকারকে ওয়াশিংটনের সমস্তরকম মদতদানে বিরোধিতা করতে সোচ্চার হওয়া।