ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

মাত্র দু’টি লাইন। একটি প্যারা।

এই সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জীতেই (সিভি) দেশের ঐতিহ্যবাহী ফিল্ম ইন্সটিটিউটের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয়েছিল গজেন্দ্র চৌহানকে। তথ্য জানার অধিকারের মাধ্যমে এমনটাই প্রকাশ্যে এসেছে। গজেন্দ্র চৌহানের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার সম্পর্কেও জানতে চেয়েছিলেন এক আবেদনকারী। কিন্তু, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের থেকে যে উত্তর মিলেছে তাতে এই সব তথ্যের কোনও উল্লেখ নেই। সেখানে বলা হয়েছে, ‘গজেন্দ্র চৌহান একজন অভিনেতা, যিনি ছোট পর্দায় সম্প্রচারিত ‘মহাভারত’-এ যুধিষ্ঠিরের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তিনি প্রায় ১৫০টির মতো ছবি ও ৬০০টি টিভি সিরিয়ালে কাজ করেছেন।’

অমিতাভ বচ্চন, রজনীকান্ত, বিধু বিনোদ চোপড়া, রাজু হিরানি, জয়া বচ্চন, আদুর গোপালকৃষ্ণন, রমেশ সিপ্পি, গোবিন্দ নিহালানি থেকে আমির খান, প্রত্যেকের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রকের কাছে থাকলেও দু’লাইনের সিভিতেই সবাইকে পিছনে ফেলে এফটিআইআইয়ের চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি।

…………………………………………………………………………………………………..

  • মোদি যদি কোন বিষয় এক বার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, তবে বিজেপিতে কারোরও ক্ষমতা নেই যিনি এই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন। মোদি গজেন্দ্র চৌহানকে চেয়ারম্যান পদে রাখবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। যদি তুমি ওদের সঙ্গে একমত হও, তাহলে অসাধারণ, না হলেই ওরা আঘাত হানবে। সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করার জন্য ইচ্ছা মত ওরা হিন্দু বিরোধী, দেশ-বিরোধী তকমা জুড়ে দেবে। তোমরা মেধাবী, কিন্তু তোমাদের মাথার উপর এক জন মধ্য মেধার মানুষকে চেয়ারম্যানকে বসানো হয়েছে। -রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সহ-সভাপতি
  • এফটিআইআই ফিল্ম নিয়ে পড়াশোনার জন্য শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এমন একটা সময় দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান যাচ্ছে, যখন শিক্ষাদানের বিষয়টিতেই ভীষণ ভাবে দূরদর্শিতার অভাব রয়েছে। চৌহান একেবারেই অযোগ্য ব্যক্তি। ফিল্ম শিক্ষা নিয়ে ওঁর কোনও অভিজ্ঞতাই নেই। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি ফিল্ম আর টেলিভিশন জগতের সঙ্গে যুক্ত। আমাকে একটু সুযোগ দেওয়া হোক। কাজ করতে দেওয়া হোক। এফটিআইআই-এর উন্নতি সাধনই হবে আমার এক মাত্র কাজ। -চিত্রনাট্যকার অঞ্জুম রাজাবলি
  • ব্যক্তিগত ভাবে আমি গজেন্দ্রের বিরোধী নই। কিন্তু যে ভাবে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছে, সেই পদ্ধতি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। এফটিআইআই-এর মাথায় বসবেন এমন একজন, যাঁর প্রতিভা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকবে না। প্রতিষ্ঠানের শুভাকাঙ্খী হয়ে এমনটাই তো চাইব। এ রকম না হলেই কিন্তু মানুষ বিষয়টি পছন্দ করবে না। -জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী পরিচালক জে বড়ুয়া
  • এফটিআইআই-য়ের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান পদে যদি গজেন্দ্র সিংকে পড়ুয়ারা মেনে নিতে না পারেন তবে অবশ্যই তার সরে দাঁড়ানো উচিৎ। -সলমন খান
  • স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কিছু আইন-কানুন থাকলেও বাক্-স্বাধীনতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রছাত্রীরা এমন একজনকে চাইছেন, যাঁকে দেখে তাঁরা অনুপ্রাণিত হবেন। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দক্ষ শিক্ষক বা সঠিক পাঠ্যক্রম চেয়ে ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনকে কোনও ভাবেই অযৌক্তিক বলে মানতে পারছি না। যে এফটিআইআই নিয়ে আমরা সবাই গর্ব করি, সেই প্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রীদের কাছে চূড়ান্ত হতাশার জায়গায় পরিণত হোক— তা আমরা চাই না। -ইউটিউব-বার্তায় রণবীর কাপুর
  • একেবারেই ব্যক্তিগত আক্রোশ নাই। এর সঙ্গে কোনও ব্যক্তিগত মানসিকতাও জড়িত নেই। পড়ুয়ারাই গজেন্দ্রকে আর চাইছেন না। এ অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ওই পদ আঁকড়ে থাকার কোনও মানে নেই। বরং নিজের সম্মান বজায় রেখে নিজে থেকে গজেন্দ্রর সরে যাওয়া উচিৎ। -ঋষি কাপুর/অনুপম খের
  • গজেন্দ্র চৌহান কে? আমি জীবনে ওঁর নাম শুনিনি। উনি কে? এফটিআইআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য যে ধরনের কাজ দরকার, যে রকম প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন, তা ওঁর নেই।-সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
  • ওই প্রতিষ্ঠানের কাউন্সিলে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা কারা, আমি জানি না। আমাদের সময়ে পরিস্থিতি অন্য রকম ছিল। তখন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সম্পর্কও ছিল অন্য ধরনের।-মৃণাল সেন
  • পুনের এই চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের গর্ব। সেখানে এই গৈরিকীকরণের সিদ্ধান্ত আমি মানতে পারছি না।-অপর্ণা সেন
  • যে প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল ছিলেন ঋত্বিক ঘটক সেই প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর গজেন্দ্র চৌহান এটা রীতিমতো হাস্যকর।-সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়
  • ওই প্রতিষ্ঠান নিয়ে ছেলেখেলা করার আগে দু’বার ভাবা উচিত।-বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত
  • আমাদের সংস্থা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের। কোনও ভাবেই তাকে সমস্যায় দেখতে চাই না। -শত্রুঘ্ন সিনহা
  • অবিলম্বে ডিরেক্টর গজেন্দ্র চৌহান–সহ পুনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের বর্তমান কমিটিকে ভেঙে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, পুরো নির্বাচন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনতে হবে। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নই। আমরা বিরোধিতা করছি যে ব্যবস্থা চলে আসছে তার। -পুনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বিভাগের ছাত্র রাজর্ষি সরকার
  • সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জানতে পারলাম আমার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। যাঁরা গোটা বিষয়টায় রাজনীতির রং চড়াচ্ছেন, তাঁরা কিন্তু ভুলে যাচ্ছেন, আমি বিজেপি করছি মাত্র দশ বছর। আর অভিনয় জগতের সঙ্গে আমি জড়িত পঁয়ত্রিশ বছর। -গজেন্দ্র চৌহান
  • গজেন্দ্র চৌহানকে সরকার নিয়োগ করার পর থেকে হিন্দু বিরোধীরা সেটাই শুরু করল যেটা তারা সব থেকে ভাল পারে। নয়া নিযুক্ত চেয়ারম্যান গজেন্দ্র চৌহানের বিরোধীতা করতে শুরু করে দিয়েছে ওরা। এই প্রতিষ্ঠানের তথা কথিত শুভাকাঙ্ক্ষীরা কেন পড়ুয়াদের সমর্থন জানাচ্ছে সে বিষয়টিও পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের উন্নতির নয় ওদের মূল উদ্দেশ্য হিন্দুত্ব বিরোধী প্রোপাগান্ডা আরও বাড়িয়ে তোলা। -আরএসএস-এর মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এ প্রকাশিত।