ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

 

আদালত বুঝিয়ে দিয়েছে তাঁরাও আম-আদমি!

প্রায় এক দশকে যাঁকে গোটা দেশ আদর করে ‘মুন্নাভাই’ বলে ডেকেছে, সেই সঞ্জয় দত্ত এখনও জেলের কুঠুরিতে। ১৯৯৩ মুম্বই বিস্ফোরণের সময় বেআইনি অস্ত্র মজুত রাখার অভিযোগে ফের জেলে যেতে হয়েছে তাঁকে। ২০০৬ সালে টাডা কোর্ট ছ’বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল সঞ্জয়কে। পরে সুপ্রিম কোর্ট তার মেয়াদ এক বছর কমিয়েছে। কী অপরাধ ছিল সঞ্জয় দত্তের? ১৯৯৩ সালে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস। মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার দিঘি ও শেখাড়ি উপকূলে এসে ভেড়ে একাধিক নৌকা। আগন্তুকরা পাকিস্তান থেকে বোঝাই করে আনে প্রচুর পরিমাণে আরডিএক্স এবং আগ্নেয়াস্ত্র। পরে এই সব অস্ত্রই ব্যবহার করা হয় ’৯৩-এর মুম্বই বিস্ফোরণে। এর মধ্যে থেকে হাত ঘুরে একটি ৯ এমএম পিস্তল এবং এ কে-৫৬ পৌঁছয় সঞ্জয়ের হাতে। অস্ত্রগুলো তাঁকে দিয়েছিলেন দুই প্রযোজক বন্ধু, সমীর হিঙ্গোরা ও হানিফ কড়াওয়ালা। বেশ কিছু কার্তুজ, ম্যাগাজিন এবং হ্যান্ড গ্রেনেডও তাঁরা দিয়েছিলেন সঞ্জয়কে। পরে সঞ্জয়ের পালি হিলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় সে সব অস্ত্র। সঞ্জয় তখন জেরার মুখে জানিয়েছিলেন, পরিবারের উপর হামলা চালানো হবে, এমন খবর পেয়েই বাড়িতে অস্ত্র মজুত করেছিলেন তিনি। মুম্বই বিস্ফোরণের খবর তিনি বিন্দুমাত্র জানতেন না। কিন্তু ওই সব অস্ত্র তো সন্ত্রাসবাদীদের মজুত করা অস্ত্রের অন্যতম! তাই বাড়িতে বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং মুম্বই বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে।

সঞ্জয় তখন ‘আতিশ’ ছবির শুটিংয়ে মরিশাসে। দেশে ফিরতেই ১৯ এপ্রিল বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। দিন কুড়ি জেলে থাকার পর ৫ মে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি পান তিনি। এর পর ’৯৪ সালের ৪ জুলাই টাডা আদালত জামিন নাকচ করায় ফের জেল। এ বার টানা ১৬ মাস। সুপ্রিম কোর্ট জামিন দেওয়ায় রেহাই মিলল ১৯৯৫ সালের ১৭ অক্টোবর। পিছু ছাড়ল না কারাবাস। বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই মিললেও অস্ত্র আইনে দোষী ঘোষণা করল টাডা আদালত। ২০০৭-এর ৩১ জুলাই মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলে নিয়ে যাওয়া হল সঞ্জয়কে। পরে সেখান থেকে সরানো হয় পুণের ইয়েরওয়াড়া জেলে। মাঝে কিছু দিনের মুক্তি, ফের জেল। ২০০৭-এর ২৭ নভেম্বর জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট। সুনীল দত্ত-নার্গিসের এই সন্তানটির সঙ্গে অপরাধ জগতের নাম মাঝেমাঝেই জড়িয়েছে। বয়স তখন ২৫ পেরোয়নি, জড়িয়ে পড়েছেন মাদক চক্রে। সালটা ১৯৮২। সে বছর মাদক রাখার অপরাধে পাঁচ মাস জেল খাটেন সঞ্জয়। ছাড়া পাওয়ার পর বছর দু’য়েক থাকেন আমেরিকায়। জনতা কিন্তু তাঁর সেই মাদকাসক্ত ভাবমূর্তির জন্য তাঁকে দূরে ঠেলে দেয়নি। বরং অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে সঞ্জয় যখন বলেন, মাদক বিরোধী লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকতে চান তিনি, তখন এক রকম মাথায় তুলে রেখেছে তাঁকে। তাতে অবশ্য কিছু যায়-আসেনি সঞ্জয়ের। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে মুম্বই-বিস্ফোরণের সময় অস্ত্র রাখার অপরাধ। তাতেও অবশ্য ভাটা পড়েনি সঞ্জয়ের ফিল্মি-কেরিয়ারে। ১৯৯৩ সালে দাউদ-যোগে জড়িয়ে পড়েন সঞ্জয়। সে বছরই ‘খলনায়ক’ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতা মনোনীত হন! দীর্ঘ দিন জেল খেটে বাইরে আসার পরে ‘দাউদ’ ছবিতে দারুণ ভাবে ফিরে আসা। দু’বছর পর ‘বাস্তব’ ছবিতে গ্যাংস্টারের চরিত্রে সেরা অভিনেতার সম্মান ঝুলিতে ভরার পরে আর সে ভাবে পিছোনে তাকাননি। কিন্তু জনপ্রিয়তায় বোধহয় সব কিছুকে ছাপিয়ে গেল তাঁর মুন্নাভাই সিরিজ। দেশ জুড়ে সঞ্জয়-ভক্তরা তাঁকে মুন্নাভাই বলেই ডাকতে শুরু করেন। মুন্নাভাই সিরিজের তৃতীয় ছবির সইসাবুদ পর্ব সবে শেষ হয়েছে। ছবির নাম ‘মুন্নাভাই চলে দিল্লি’। তার মধ্যেই আবার জেলের পথে।

তারকা তকমার বেহিসেবি জীবনের আড়ালে এরকমই রয়েছে কতো অন্ধকারের কাহিনী। সম্প্রতি সেই অন্ধকার জীবনের খেসারত দিতে হচ্ছে বলিউডের অভিনেত্রী শ্বেতা বসু প্রসাদকে। দেহ ব্যবসার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুধু শ্বেতাই নয়, রুপালি জগতের আরও অনেক তারকা আছেন যারা বিভিন্ন সময়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন কিংবা অন্যভাবে তাদের কৃতকর্মের খেসারত দিয়েছেন। কেউ হারিয়ে গিয়েছেন চিরতরে। কেউ লড়াই করে ফিরে এসেছেন নিজের জগতে।

মাফিয়া ডনদের সঙ্গে বলিউড তারকাদের মাখামাখি ‘অপেন সিক্রেট’ ব্যাপার। অভিনতা গুলশান কুমার তার জীবন দিয়ে এর মূল্য দিয়ে গিয়েছেন। তবে তারকাদের সঙ্গে অপরাধ জগতের মাতব্বরদের সম্পর্ক বেশির ভাগ সময়ই ছিল নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার খাতিরে। তারা যোগাযোগ রাখতে বাধ্য হতেন। অপরাধ জগতের মাতব্বরদের লালসার হাত থেকে রূপসী বলিউড তারকরাও নিস্তার পায়নি। তারা সুন্দরী অভিনেত্রীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তাদের সঙ্গে প্রেম করেছেন। এমন অনেক গোপন অভিসারের কথা ইতিমধ্যে ফাঁস হয়ে গিয়েছে। তবে আরও বহু ঘটনা এখন পর্যন্ত আড়ালেই চাপা পরে আছে। অভিনেত্রী মমতা কুলকারনির কাহিনী এইরকমই। অপরাধ সম্রাট ছোট্ট রাজনের ভয় দেখিয়ে রাজ কুমার সন্তোষীর মতো বড় বড় প্রযোজকদের কাছ থেকে সিনেমায় চরিত্র বাগিয়ে নিতেন। দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর গত বছরের মে মাসে খবরের শিরোনামে আসেন মমতা কুলকার্নি। প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দুবাইতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী ভিকি গোস্বামীকে মুক্ত করতে ২০১২ সালের নভেম্বরে তাঁর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন মমতা। বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের সময় দুবাইতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ভিকি। ১৯৯৭ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাঁকে। দুবাইতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামিকে ২৫ বছর জেল খাটতে হয়। ভিকির মতো মমতাও ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এর পরপরই তিনি মুক্তি পান। বর্তমানে তিনি স্বামীর সঙ্গে কেনিয়ার নাইরোবিতে রয়েছেন। কিন্তু চিরতরে হারিয়ে গিয়েছেন বলিউডের দুনিয়া থেকে।

আরও এক তারকার সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। হালকা রঙের সুন্দর চোখের মায়াবিনী অভিনেত্রী মন্দাকিনী। ১৯৮৫ সালে মুক্তি পাওয়া রাম তেরি গঙ্গা মাইলি ছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বলিউডে সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারেননি তিনি। দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁর সখ্যকেই বলিউডে মন্দাকিনীর ক্যারিয়ারের ভরাডুবির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরবর্তীতে দাউদ ইব্রাহিম যখন আত্মগোপনে চলে যান, অভিনেত্রী মান্দাকিনি অন্য আরেকজনকে বিয়ে করে করেন। কিন্তু রুপালি পর্দায় আর ফিরে আসেননি। আন্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাংস্টার আবু সেলিমের হাত ধরেই অবশ্য অপরাধ জগতের লাইমলাইটে আসেন বলিউড তারকা মনিকা বেদী। আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন অনৈতিক কাজ, প্রতারণা ও জাল পাসপোর্টের দায়ে পর্তুগাল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন বিতর্কিত অভিনেত্রী মনিকা বেদী। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বেশ কয়েক বছরের জেল হয়ে যায়। জেল জীবন সমাপ্তির পর আবার রুপালি পর্দায় ফেরার চেষ্টা করছেন মনিকা। তবে এবার বলিউডে নয়, তার অভিষেক হতে যাচ্ছে পাঞ্জাবি ছবিতে। পর্দায় মনিকাকে শেষ দেখা গিয়েছিল বিগ বস রিয়েলিটি শো-এর দ্বিতীয় আসরে। রাজীব রায় পরিচালিত ত্রিদেব ছবিতে অভিনয় করে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন সোনম। পরবর্তী সময়ে বলিউডের চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজীব রায়কে বিয়ে করেন সোনম। আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে তোলাজির হুমকি পাওয়ায় ভারত ছেড়েই চলে যান একসময়ের জনপ্রিয় এই তারকা অভিনেত্রী।

বলিউডের অনেক বাঘা বাঘা তারকাই বিভিন্ন মামলার আসামি। এসব মামলার কারণে ঘন ঘনই আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাদেরকে। কার্যত বিনা অপরাধেই অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রেকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। তিনি সলমন খানের হরিণ শিকারের মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। ফলে সলমনের মামলার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাকেও। হরিণ শিকারের মামলায় সালমানের সঙ্গে ফেঁসে যাওয়া আরেক অভিনেত্রী টাবু। ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে যোধপুরের কাছের একটি গ্রামে সালমান দুটি হরিণ শিকার করেছিলেন, সে সময় সালমানের গাড়িতে অন্য দুই অভিনেত্রীর সঙ্গে বসে ছিলেন টাবু। জুয়েলারি ডিজাইনার ও অভিনেত্রী নীলাম কোঠারির বিরুদ্ধেও একটি শিকারের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। হরিণ শিকারের মামলায় সলমনের সঙ্গে আগেই অভিযুক্ত হয়েছিলেন সাইফ আলি খান। অভিনেতা ফিরোজ খানের পুত্র ফারদিন খান। ফারদিন খান ২০০১ সালে অভিযুক্ত হয়েছিলেন কোকেন রাখার দায়ে। সেই বছর মে মাসে তিনি এই মামলায় গ্রেফতারও হয়েছিলেন। পরে অবশ্য এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, কিন্তু ফারদিন খানের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া দুই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এখনও মামলা চলছে।

আনিস বাজমি পরিচালিত ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ ছবির মাধ্যমে অবশেষে বলিউডে ফিরছেন বিতর্কিত অভিনেতা শাইনি আহুজা। ২০০৯ সালে গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছিল শাইনির বিরুদ্ধে। মামলার রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় শাইনিকে। প্রায় পাঁচ মাস কারাবন্দী থাকার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। ওই ঘটনার পর নিজেকে গুটিয়ে নেন শাইনি। চলচ্চিত্র কিংবা মিডিয়া থেকে পারতপক্ষে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সুধীর মিশ্রের পরিচালনায় চিত্রাঙ্গদা সিং-এর বিপরীতে ‘হাজারো খোয়াইশে এ্যায়সি’ ছবিটি ছিল শাইনির জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট। ২০০৫ সালে ১২টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয় এই ছবিটি। ঠিক পরের বছরই বলিউডের অন্যতম প্রযোজক মহেশ ভাটের সঙ্গে জুটি বাঁধেন শাইনি। এই জুটি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উপহার দেন ‘গ্যাংস্টার’ এবং ‘ও লামহে’র মতো ব্যবসাসফল দুই ছবি। ২০০৮ সালে ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’ ছবিতেও মহেশ ভাটের সঙ্গে কাজ করেন শাইনি। এরপর তিনি কাজ করেন ‘জিন্দেগী রকস, খোয়া খোয়া চাঁদ, ভুলভুলাইয়া’ ছবিতে। ২০০৯ সালে হাতে পাঁচটি ছবির কাজ নিয়ে তিনি যখন পুরোদস্তুর ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় ঘটে ভয়ঙ্কর ঘটনা। ঐ বছরের মাঝামাঝি গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হন তিনি। গৃহপরিচারিকার বক্তব্য অনুযায়ী শাইনি তাঁর স্ত্রী ও আড়াই বছরের কন্যা আরশিয়ার অনুপস্থিতিতে তাকে ধর্ষণ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০০৯ সালের ১৫ জুন মুম্বই পুলিশ গ্রেফতার করে শাইনিকে।

সেলিব্রিটিরাও যে আম আদমি, বারবার সেই বার্তাই দিয়েছে দুনিয়ার সব আদালত। রেহাই পাননি হলিউড তারকারাও। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর দায়ে ২০০৭ সালে তিন সপ্তাহ লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি জেলে কাটাতে হয়েছিল প্যারিস হিলটনকেও। বিশ্বকাপ ফুটবলে দক্ষিণ আফ্রিকায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক মারিজুয়ানা রাখার অভিযোগ উঠেছিল। পরে সেই অভিযোগ থেকে মুক্তি পান। কিন্তু মাদক মারিজুয়ানা রাখার অভিযোগে আবার তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল। যাবার আগে সানডে হেরাল্ডের পুরো পাতা জুড়ে নিজের কান্না ভরা মুখ উপহার দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি মার্কিন মুলুকের জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী প্যারিস হিলটন। হলিউডের এই সেলিব্রিটির বেহিসাবী জীবন নিয়ে কত কাহিনী। প্রতিদিন গাদা গাদা রিপোর্ট।প্যারিসের জেলে যাওয়া নিয়ে তাবড় তাবড় সংবাদপত্রে চলে কাউন্ট ডাউন।জেলে প্যারিস নাকি সঙ্গে করে খাতা কলম নিয়ে গিয়েছিলেন। জেলে গিয়ে তিনি ‘ডিয়ার ডায়েরি’ নামে আত্মজীবনীমূলক কোনও উপন্যাস রচনা করতে পারেন, এই আশায়। আর সেই ডায়েরি কেনার জন্যে প্রকাশকদের মধ্যে কতো লড়াই।কোনও একটা পত্রিকা নাকি প্যারিসের এজেন্টের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছিল। জেল থেকে বেরোবার পরে তাদের পত্রিকায়ই প্যারিস প্রথম সাক্ষাৎকার দেবেন। এবং তার জন্যে কত টাকা পেয়েছেন বলুন তো? খুব বেশি নয়, মাত্র ১.১ মিলিয়ন ডলার!

একের পর এক কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়ে চলেছেন হলিউডের আরও এক তারকা লিন্ডসে লোহান৷ পুলিশের সঙ্গে মিথ্যাচার এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগের ভিত্তিতে লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতে তোলা হয়েছে। ঋণখেলাপির অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস) তার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সিল করে দিয়েছে। মাদকসেবন আর উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় লোহানকে কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি। এখনও পর্যন্ত তাকে পাঁচ-পাঁচবার মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত কারণে এর আগেও জেল খেটেছেন তিনি৷ কিন্তু নিজের স্বভাব বদলাতে পারছেন না এই হলিউড তারকা৷ পড়তি ক্যারিয়ার বাঁচাতে তাই শেষ পর্যন্ত প্লেবয় ম্যাগাজিন ভরসা৷ তাতে অন্তত নিজেকে আলোচনায় রাখা যাবে৷ আশির দশকের দুনিয়া কাঁপানো সঙ্গীতশিল্পী এলভিস প্রিসলি। মাত্র ৪২ বছর বয়সে ১৯৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন ‘দ্য কিং অব রক অ্যান্ড রোল’ খ্যাত মার্কিন গায়ক, সংগীত পরিচালক ও অভিনেতা এলভিস প্রিসলি। তাঁর অকালমৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ধারণা করা হয়, মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন তুমুল জনপ্রিয় এই তারকা সংগীতশিল্পী। মার্কিন কমেডিয়ান অভিনেতা টিম অ্যালেনের কথাই ধরুন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে জেলে কাটাতে হয়। অপরাধ? তিনি কোকেন পাচারের সময় ধরা পড়েন। তার দুই বছরের জেল হয়।

দ্য শিল্ড ও স্টেট অব প্লে সিরিজের অভিনেতা মাইকেল জেস অভিযুক্ত হয়েছেন স্ত্রী হত্যার দায়ে। এই বছরের ১৯ মে এপ্রিল জেসকে লস অ্যাঞ্জেলসের একটি বাড়িতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। দোষী সাব্যস্ত হলে ৫০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে এই অভিনেতার। আপাতত জামিনে মুক্ত। ধারণা করা হচ্ছে দাম্পত্য কলহই এই হত্যাকাণ্ডের কারণ। হলিউডের খ্যাতিমান আরও এক অভিনেতা ম্যাথু ব্রডারিক ১৯৮৭ সালে দু’জনের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ান। প্রেমিকা জেনিফার গ্রেকে নিয়ে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের একটি রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন ম্যাথু। সমস্যা হত না, যদি রং সাইডে না গিয়ে ঠিক পথে থাকত গাড়িটা। বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। নিজেদের কিছু না হলেও অপর গাড়িটির দুই আরোহী মারা যায়। প্রথমে পাঁচ বছরের জেল হলেও পরে মাত্র ১৭৫ ডলার জরিমানা দিয়েই ছাড়া পান ম্যাথু। ইচ্ছে করে কাউকে খুন করেননি হলিউড তারকা রেবেকা গেহার্ট। তবে তার ভুলের কারণেই প্রাণ হারাতে হয়েছিল ৯ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুকে। ক্রসওয়াক ব্যবহার করে রাস্তা পার হচ্ছিল ছেলেটা। বাকিরা সবাই গাড়ি ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়লেও ফোনে কথা বলতে থাকা রেবেকা বিষয়টি খেয়াল করেননি। খেয়াল করার পর কড়া ব্রেক কষলেও লাভ হয়নি। ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশুটি। এক বছরের জন্য লাইসেন্স বাতিল, ২৮০০ ডলার জরিমানা ও ৭৫০ ঘণ্টার সামাজিক শ্রমের বিনিময়ে আইনগতভাবে দায়মুক্তি ঘটে রেবেকার। রুডি ও এলিয়েন থ্রি খ্যাত অভিনেতা চার্লস ডি ডাটনের এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীত রয়েছে। ১৭ বছর বয়সে রাস্তায় এক মারামারিতে প্রতিপক্ষ ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছিলেন তিনি। সাড়ে সাত বছরের জেল হয় তার। জেলখানায় আরেক আসামী একটি বরফের টুকরো দিয়ে খুন করার চেষ্টা করে ডাটনকে। কিন্তু ততদিনে পাল্টে গিয়েছেন ডাটন। প্রতিশোধ নিতে তৎপর না হয়ে শান্ত থাকেন। আর তখনই মাথায় ঢোকে থিয়েটারের পোকা। এমনকি বের হয়ে এইচবিও’র জন্য একটি টিভি সিরিজের পরিচালনাও করেন। পরে অবশ্য অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে ফের শাস্তির মুখে পড়েন ডাটন। জেল খাটতে হয় আরও তিন বছর। হলিউড, বলিউডে আছে এমনই অনেক অজানা অভিসারের কথা। কখনও কখনও সেই গোপন কাহিনীকে নিছকই গুজব বলে এড়িয়ে গিয়েছেন ওই তারকারা। আবার কেউ কেউ অকপটে স্বীকার করেছেন সেই সব কথা। কিন্তু সেলিব্রিটিরাও যে আম আদমি, তা প্রতি মুহূর্তে ঠেকেই শিখতে হয়েছে তারকাদের।