ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

মুক্তমনা হত্যাকাণ্ড ষড়যন্ত্রেরই অংশ

প্রথমে নরেন্দ্র দাভোলকার।

বছরের গোড়ায় গোবিন্দ পানসারে।

শেষে এম এম কালবুর্গি।

একের পর এক স্বতন্ত্র চিন্তার কন্ঠরোধ।

মুক্ত স্বাধীন যুক্তিবাদী মতকে নৃশংস হত্যা। দিনের আলোয় কপালে, বুকে বুলেট। গোঁড়া ধ্যান-ধারণা, অন্ধ বিশ্বাসকে হাতিয়ার করে প্ররোচিত করা হচ্ছে সামাজিক শক্তিকে। রাজনৈতিক আধিপত্যের খোঁজে মুক্ত চিন্তাকে নিকেশ করতে চলছে বেপরোয়া অভিযান। কালবুর্গির পর এবারে হত্যার হুমকির মুখে মহীশূরের বাসিন্দা, বিশিষ্ট কন্নড় লেখক কে এস ভগবান। দু’বছর আগে এই আগস্টেই, পুনে শহরে হিন্দুত্ববাদী শক্তির আততায়ীদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন মহারাষ্ট্রে কুসংস্কার-বিরোধী আন্দোলন তথা জাতপাতের ভেদাভেদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আজীবন যোদ্ধা সুচিকিৎসক নরেন্দ্র দাভোলকার। ফেব্রুয়ারিতে, কোলাপুরে গোবিন্দ পানসারে। দু’টি ঘটনাতেই অপরাধীদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। শেষ ঘটনা, আততায়ীর গুলিতে নিহত হলেন বিশিষ্ট কন্নড় লেখক ও শিক্ষাবিদ মাল্লেশাপ্পা এম কালবুর্গি। গবেষক, কর্ণাটক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য কালবুর্গিকে নিজের বাড়িতেই গুলি করে আততায়ীরা। হত্যার কারণ খুঁজতে সিবিআই তদন্তেরও কোনও দরকার নেই। স্থানীয় বজরঙ দলের নেতার ট্যুইট-ই যথেষ্ট। কালবুর্গির হত্যার পর জান্তব উল্লাসে বানতোয়ালে বজরঙ দলের যৌথ আহ্বায়ক ভূবিথ শেট্টির ট্যুইট: ‘তখন ছিল ইউ আর অনন্তমূর্তি, এখন এম এম কালবুর্গি। হিন্দুত্বকে নিয়ে তামাশা এবং একটি কুকুরের মৃত্যু। এবং প্রিয় কে এস ভগবান, এরপর আপনি।’ দুই সীমান্তের ওপারে তালিবান, জামাত। শিকার হুমায়ুন আজাদ, অভিজিৎ রায়, নিলাদ্রিরা। এপারে টার্গেট দাভোলকার, পানসারেরা। দুই মৌলবাদ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

অধ্যাপক কালবুর্গি নিজের স্বাধীন মুক্ত মত প্রকাশে কখনও দ্বিধা করেননি। হিন্দুদের মূর্তি পুজো নিয়ে বরাবর সওয়াল করেছেন। ব্রাহ্মণ্য ধর্মের আচার–অনুষ্ঠানকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি। তাঁর ধারালো বক্তব্য প্রায়শই পালটা আঘাত হেনেছে আধুনিক পরিচিতি সত্ত্বার রাজনীতির উদ্দেশে নতুন করে ইতিহাস লেখা এবং মিথ নির্মাণের চেষ্টার বিরুদ্ধে। কন্নড় সাহিত্যে ‘নব্য’ আন্দোলনের পথিকৃৎ, পদ্মভূষণ, জ্ঞানপীঠে সম্মানিত অনন্তমূর্তির ব্রাহ্মণ্যবাদ, কুসংস্কার এবং ভণ্ডামির বিরুদ্ধে বিতর্কিত উপন্যাস ‘হোয়াই নুড ওরশিপ ইস নট অ্যাকসেপটেবল’ গ্রন্থের পাশে দাঁড়িয়েছেন জোরালোভাবে। প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছেন। এক বুক সাহাস নিয়ে বলেছেন, লেখক অনন্তমূর্তি তাঁর লেখায় প্রমাণ করেছেন হিন্দু দেবদেবীরা আদৌ মহাশক্তিধর নন। নিজের যুক্তিবাদী মননে তিনি ছিলেন অবিচল। অচঞ্চল। স্থির, প্রত্যয়ী। এবং অকুতোভয়। তাঁর মন্তব্যে হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলি রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। কুশপুতুল পুড়িয়েছে। এমনকি তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে বজরঙ দলের কর্মীরা ছুড়েছে ইট-পাটকেল, সোডার বোতল। সাতাত্তর-বছরের জীবনে বহুবার হত্যার হুমকি শুনেছেন। কখনও আমল দেননি। নিজের অবস্থান থেকে এক চুলও সরেননি। ‘মৃত্যুর আতঙ্ক নিয়ে বাঁচতে চাননি বাবা। ‘নিজের মতাদর্শ ও বিশ্বাসে অটল থাকার মূল্য দিলেন তিনি।’ বলেছেন তাঁর মেয়ে।

১৯৩৮, অতীতে ব্রিটিশ ভারতের বোম্বাই প্রেসিডেন্সির (এখন বিজাপুর জেলার সিংদি মহকুমা) ইয়ারাগাল গ্রামে কালবুর্গির জন্ম। ওই গ্রামেই প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয়ে পড়েন তিনি। বিজাপুরের কলেজ থেকে প্রথমে স্নাতক, পরে ১৯৬২তে কন্নড় ভাষা নিয়ে কর্ণাটক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর অর্জন। পেয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের নানা পুরস্কার। ২০০৬সালে তাঁর গবেষণামূলক নিবন্ধের সংকলন মার্গা-চতুর্থ খণ্ডের জন্য পান জাতীয় সাহিত্য ‌আকাদেমি পুরস্কার। পেয়েছেন রাজ্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারও। মার্গা-প্রথম খণ্ডের প্রকাশ আটের দশকের গোড়ায়। কন্নড় লোকগাথা, ধর্ম ও সংস্কৃতির উপর গভীর গবেষণারই ফসল মার্গা’র একের পর এক খণ্ড। অর্ধশতকের কেরিয়ারে তাঁর চারশ’রও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

মূর্তি পুজো, আচার–অনুষ্ঠান পালনের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই সরব কালবুর্গি। দ্বাদশ শতকের দার্শনিক, কবি, সমাজসংস্কারক বাসবের লেখা ‘বচন’ কবিতা নিয়ে বহুদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন। এসব কারণেই বারবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরঙ্গী দলের মতো কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের রোষের মুখে পড়েছেন। তাঁর ধারওয়াড়ের বাড়িতে ছোঁড়া হয়েছে ইট, বোতল। যদিও সেসবে কোনওদিনই পাত্তা দেননি তিনি। তাঁর জন্য নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে রাজ্য সরকার। দিন ১৫ আগেই তা সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন কালবুর্গি। তারপরই আসে চরম আঘাত। তাঁর ধারালো বক্তব্য প্রায়ই পাল্টা আঘাত হেনেছে হিন্দুত্ববাদীদের নতুন করে ইতিহাস লেখা ও মিথ নির্মাণ চেষ্টার বিরুদ্ধে। কালবুর্গি কন্নড় সাহিত্যে ‘নব্য’ আন্দোলনের পথিকৃৎ, পদ্মভূষণ, জ্ঞানপীঠে সম্মানিত অনন্তমূর্তির সমর্থক ছিলেন। অনন্তমূর্তির লেখা ব্রাহ্মণ্যবাদ, কুসংস্কার ও ভণ্ডামিবিরোধী বিতর্কিত উপন্যাস ‘হোয়াই নুড ওরশিপ ইজ নট অ্যাকসেপটেবল’ গ্রন্থের পাশে তিনি দাঁড়িয়েছেন জোরালোভাবে। প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছেন। একবুক সাহস নিয়ে বলেছেন, লেখক অনন্তমূর্তি তাঁর লেখায় প্রমাণ করেছেন হিন্দু দেব-দেবীরা আদৌ মহাশক্তিধর নন। কালবুর্গি যুক্তিবাদী মননে ছিলেন অবিচল, অচঞ্চল, স্থির, প্রত্যয়ী এবং অকুতোভয়।

এ ছাড়া কালবুর্গি দ্বাদশ শতকের দার্শনিক, কবি, সমাজসংস্কারক বাসবের লেখা ‘বচন’ কবিতা নিয়ে বহুদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছিলেন। দার্শনিক বাসবও হিন্দুদের শ্রেণিভেদ ও মূর্তিপূজার বিরোধিতা করে বলেছিলেন, শুধু কর্মই হচ্ছে ধর্ম। তাঁর যুক্তিবাদী আন্দোলনের পতাকাতলে বহু মানুষ সমবেত হয়ে গড়ে তোলে লিঙ্গায়াত সম্প্রদায়। এ কারণে তাঁদের ওপর প্রভাবশালী ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের নৃশংসতা, অত্যাচারও নেমে আসে। তবে কালক্রমে ওই লিঙ্গায়াত সম্প্রদায় ফের পৌত্তলিকতায় আকৃষ্ট হয়ে পড়ে এবং তাদের যুক্তির পথে আনার আন্দোলনটিই করছিলেন সম্প্রদায়ের সাহসী মুখ কালবুর্গ, লেখা ও বক্তৃতার মাধ্যমে। তাঁকে পাল্টা বিতর্ক কিংবা যুক্তিবাদী তথ্যপ্রমাণে চ্যালেঞ্জ করার বদলে হত্যা করে বসে ধারবাদের রক্ষণশীল শক্তি। আসলে বাকস্বাধীনতা, যুক্তিনির্ভর মতের সামনের সারির মানুষগুলোকে সরিয়ে দিয়ে মৌলবাদী শক্তি অসহিষ্ণুতা ও দুর্জ্ঞেয়তাবাদ (অবসকিউরেন্টিজম) পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়।

ধরুন নরেন্দ্র অচ্যুত দাভোলকারের কথাই। ১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর তাঁর জন্ম। বাবা অচ্যুত দাভোলকার। মায়ের নাম তারাবাঈ দাভোলকার। দশ ভাইবোনের মধ্যে সকলের ছোটো ছিলেন নরেন্দ্র। সাতারা শহরের নিউ ইংলিশ স্কুলে পড়েছেন। তারপর তিনি সাংলির উইলিংডন কলেজে ভর্তি হন। ১৯১৯ সালে এই কলেজটি তৈরি হয়। একশো পঁচিশ একর জায়গা জুড়ে কলেজটি দাঁড়িয়ে আছে। কলেজের বিখ্যাত ছাত্রের তালিকায় রয়েছে একটি মাত্র নাম। সাহিত্য আকাদেমি ও সোভিয়েত ল্যান্ড পুরস্কার জয়ী সুব্বান্না এক্কোনভি (১৯২৩-১৯৯৫)। কলেজ এবার নিশ্চয়ই সেই তালিকায় পদ্মশ্রী নরেন্দ্র দাভোলকারের নাম যোগ করবে।

ডাক্তারি পাস করে নরেন্দ্র বছর বারো রোগীদের চিকিৎসা করেছেন। যিনি ‘ভালোমানুষ’ চিকিৎসক, তিনি সমাজের উপকারী মানুষ হিসেবে সম্মান অর্জন করেন। নরেন্দ্র চিকিৎসক হিসেবে খুবই প্রশংসিত ও শ্রদ্ধেয় ছিলেন। কিন্তু নিজের জীবনোপলব্ধিতে আরও বড়ো আহ্বান অনুভব করেন তিনি। সর্বক্ষণের চিকিৎসার কাজ ছেড়ে দেন। সমাজকর্মী হিসেবে নিজের পরিচয় গড়ে তোলেন। দেশ স্বাধীনতার সাত দশক পার করতে চলেছে। কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাসে ডুবে আছে সারা দেশ। এই ভয়াবহ সামাজিক পশ্চাৎপদতা দেশের সকলক্ষেত্রে বয়ে এনেছে মালিন্যের ছাপ।

আশির দশকে নরেন্দ্র দাভোলকার বুঝতে পারেন, চিকিৎসার বাইরে তাঁকে আরও বড়োকাজে হাত দিতে হবে। বড়ো কাজ, বিপদেরও কাজ। ভণ্ড সাধুবাবাদের মুখোশ ছিঁড়বেন তিনি, নানা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বলবেন তিনি, জাত-পাতের বিরুদ্ধে বলবেন, নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথা ঘোষণা করবেন। সামাজিক আন্দোলন বলতে প্রথমে তাঁকে বাবা আধভ-এর ‘একটি গ্রাম একটি পানীয় জলের কুয়ো’ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে। ‘অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি’-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। পাশাপাশি মাদকাসক্তিদের নিরাময়ের জন্য ‘পরিবর্তন’ নামে সাতারায় একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। যুক্তিবাদী শিক্ষক তৈরির নতুন আন্দোলন শুরু করেছিলেন তিনি। একটি নতুন সংগঠন গড়ে তার নাম দিয়েছিলেন ‘বিবেক বাহিনী’। ‘বিজ্ঞান মানসিকতা’ কেমন করে প্রচার করা যেতে পারে তার শিক্ষা দিতে তিনি ‘বিবেক বাহিনী’ গড়েছিলেন। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীরা পর্যন্ত সেখানে আসতেন। ধর্মান্ধরা এর মধ্যে নিজেদের বিপদের বীজ দেখতে পান। প্রতিক্রিয়ার শক্তি এক-দু’দিনে নয়, নিশ্চয়ই একটু একটু করে নরেন্দ্র দাভোলকারকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

‘অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূল সমিতি’ বহু সাধুবাবার ভণ্ডামির মুখোশ খুলেছে। তান্ত্রিকদের কাণ্ডকীর্তির রহস্য সকলের কাছে তুলে ধরেছে। ‘অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূল সমিতি’-র দাবি, ভূত তাড়াবার নাম করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা চলবে না। অলৌকিকতার নামে কাউকে ঠকানো চলবে না। বন্ধ্যা মহিলাকে সন্তানের লোভ দেখিয়ে পূর্বজন্মে তার স্বামী ছিল বলে মহিলাকে সহবাসে বাধ্য করা চলবে না। কাউকে ডাইনি বলে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা চলবে না। তিনি ও তাঁর সংগঠন গত দেড় দশকে প্রায় দশ হাজার ‘বিবেক বাহিনী’-র সদস্য তৈরি করেছেন। তাদের থেকে ভণ্ড সাধুবাবা ও তান্ত্রিকদের ভয়। ধর্মের ধ্বজা তুলে যে সকল সাম্প্রদায়িক সংগঠন বেঁচে থাকতে চায় তাদের ভয়। প্রায়ই উগ্র হিন্দু সাম্প্রদায়িক সংগঠনের কাছ থেকে হুমকি পেতেন নরেন্দ্র দাভোলকার। পুলিসি সহায়তা চাইতে রাজি হতেন না। মহারাষ্ট্রের পরিচিত ও অপরিচিত নানা কাগজে তিনি নিয়মিত লিখতেন। ভণ্ডবাবাদের কাণ্ডকারখানা বের করতে গিয়ে তাঁর যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সেসব লিখতেন। একটি চলমান ‘বিজ্ঞানবোধ বাহিনী’ ছিল। সারা রাজ্য ঘুরে এরা বিজ্ঞানের নানা পরীক্ষা দেখায়। কুসংস্কারবিরোধী নানা পরীক্ষা করে দেখায়। নিয়মিত নরেন্দ্র দাভোলকার কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিতেন। কয়েক বছর ধরে তিনি ‘সামাজিক কৃতিনাট্যনিধি’ নামে একটি সংস্থা গড়েছিলেন। সমাজে যারা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন, নিজের কথা কখনও ভাবেননি, তাদের সহায়তা করার কথা ভেবে এই সংগঠনটি গড়েছিলেন নরেন্দ্র দাভোলকার। ড. শ্রীরাম লাগু, সদাশিব আম্রপুরকারের মতো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই সংগঠনে জড়িত।

‘অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি’ কয়েক বছর ধরে মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল, বিধানসভায় ‘কুসংস্কারবিরোধী বিল’ ও ‘তুক্‌তাক্‌ বিরোধী বিল’ পেশ হোক। দু’টো বিল আলোচনার মধ্য দিয়ে গ্রহণ করা হোক। মহারাষ্ট্র সরকার সামান্যতম আগ্রহ দেখায়নি। দাভোলকারের প্রাণের বিনিময়ে আগ্রহ দেখাল সরকার। এখন আর বিধানসভার পূর্ণ অধিবেশনের অপেক্ষা নয়। অর্ডিন্যান্স করে পাস করিয়ে নেবেন, মুখ্যমন্ত্রী এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু অপবিজ্ঞান দূর করে বিজ্ঞানের সত্য প্রতিষ্ঠা কি পৃথিবীতে সহজ কাজ? যে বিল পাস করার আন্দোলন নরেন্দ্র ও তাঁর সংগঠন দেড় দশক ধরে লড়াই করে চলেছেন, কাদের অঙ্গুলিহেলনে বিধানসভার আলোচনায় আসেনি? খুনি দু’জনের একজনও যে এখনও ধরা পড়েনি!