ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

তুরস্কের বোদরুম সমুদ্রসৈকতে কোমরের দু’পাশে দু’টো হাত রেখে ছোট শরীরটাকে ভেজা বালিতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখে মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন নিলুফার দেমির। তুরস্কের সাংবাদিক নিলুফার ছাড়া ঘুমভাঙা চোখে ভেসে উঠত না সেই মর্মান্তিক ঘটনা— আইএস জঙ্গিহানার তাড়া খাওয়া হাজারো মানুষের সমুদ্র পেরিয়ে দেশান্তরী হওয়ার তাড়না, আর সেই ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ উথালপাথাল সমুদ্রের গিলে খাওয়ার নিদারুণ ছবি। নিলুফারের ক্যারমেরায় ছোট্ট আয়লানের সেই নিথর ছবিই সাড়া ফেলে দিয়েছে দুনিয়াজুড়ে। পৃথিবীর মানুষকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছে, আর কত প্রাণ কাড়ার পর বন্ধ হবে যুদ্ধ?

সিরিয়ার কোবানির পরিবারটাকে আচমকাই ‘শরণার্থী’ বানিয়ে দিল যুদ্ধ পরিস্থিতি। কোবানি ছেড়ে প্রথমে দামাস্কাস, আলেপ্পো, সেখান থেকে আবার কোবানি। কিন্তু সিরিয়ায় আইএস জঙ্গি এবং কুর্দ বাহিনীর লড়াইয়ে ছেদ পড়ে না। তাই একেবারেই ছাড়তে হয় ভিটেমাটি। মাসখানেক হল, সপরিবার বদরামে এসেছিলেন আবদুল্লা।

আবদুল্লা ঠিক করেন, সমুদ্র পেরিয়ে যাবেন গ্রিসে। গভীর রাতে ভেসেছিল নৌকো দু’টো। দু’টোই ডুবেছে। বিশাল বিশাল ঢেউ উঠছিল সমুদ্রে। ডিঙিটা দুলছিল বিপজ্জনক ভাবে। আবদুল্লা কুর্দি হঠাৎ দেখেছিলেন, হাল ধরে থাকা লোকটা জলে ঝাঁপ দিল।

আবদুল্লা বুঝেছিলেন, নৌকো ডুবছে। সঙ্গে স্ত্রী এবং তিন ও পাঁচ বছরের দুই ছেলে। আরও অন্তত জনা তেরো যাত্রী নৌকোয়। আবদুল্লা চেষ্টা করলেন হাল ধরার। তবু নৌকো উল্টোল। আর তখন স্ত্রীর হাতটা শক্ত করে ধরতে ধরতে আবদুল্লা দেখলেন, হাতের ফাঁক গলে তাঁর বাচ্চা দু’টো পড়ে গেল ওই উথালপাথাল সমুদ্রে।

পরিবারের সঙ্গে সেই শেষ দেখা আবদুল্লার। দিনের আলো ফুটলে তাঁর ছোট ছেলের একরত্তি দেহটা ভেসে এসেছিল তুরস্কের বদরামের সমুদ্রসৈকতে। ভেজা বালির মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল তাঁর আদরের আয়লান। লাল জামা, নীল প্যান্ট পরা। পায়ে খুদে খুদে জুতো। ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে ধুয়ে দিচ্ছিল তার মুখ।

আয়লানের নিথর জুতোজোড়া মনে করিয়ে দিয়েছে আর্নেস্ট হেমিংওয়ের এক বাক্যের এক গল্পের ধাক্কা, ‘বিক্রি হবে: কখনও না পরানো এক জোড়া পুরানো জুতো।’ আয়লানের ওই ছবিটা ফিরিয়ে এনেছে ভিয়েতনামে মার্কিন নাপাম বোমায় পোড়া কিশোরীর ভয়ার্ত মুখ। ফিরিয়ে এনেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অসহায় ইহুদি কিশোরী আনা ফ্রাঙ্কের আকুতি। বিপন্ন শৈশব-বিপন্ন মানবতার চিহ্ন, সেই চিহ্নই আজ ভাসছে ভূমধ্যসাগরে। যুদ্ধের বিশ্বায়ন আজ মৃত্যুরও বিশ্বায়ন ঘটাচ্ছে।

এতদিন আইএস জঙ্গিদের তাড়া খাওয়া ইরাক-সিরিয়ার ভিটেহারারা ছিলেন নাম-পরিচয়হীন মানুষের মিছিলে। নিজের প্রাণ দিয়ে আয়লান সেই ভিড়কে দিয়ে গেল একটা মুখ। নির্মম একটা পরিচয়। অনুপ্রবেশকারী থেকে পরিচয় বদলে শরণার্থী।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে নানা ওয়েবসাইটে ছবিটা ছড়িয়ে পড়তেই শিউরে উঠেছে বিশ্ব। আর সেই সঙ্গে উঠে এসেছে বেশ পুরনো একটা প্রশ্নও— আর কত দিন? কেউ প্রাণ দেবে বোমা-গুলিতে, আবার কারও জীবন শেষ হয়ে যাবে নিজের দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরতে ঘুরতে। আর কত দিন যুদ্ধের বলি হবে নিরীহ জীবন? বলি হবে আয়লানের মতো শিশুরা?

কেন দুনিয়াজুড়ে এই হত‌্যালীলা?

যুগে যুগে মৌলবাদ-সন্ত্রাসবাদের ধর্ম শিখিয়েছে, অন্য ধর্মকে মার। পেটাও। বিধর্মী, অবিশ্বাসীর মুন্ডু ছিঁড়ে দাও। এটাই ওদের ধর্মের স্বর্ণশিক্ষা। বন্দুক হল মৌলবাদীদের ধর্মের সবচেয়ে বন্ধু। ফুলপাতার চেয়ে অনেক জরুরি উপচার। ধর্মকে সত্যিকারের ভালবাসা মানে, বন্দুক ছুরি আধলা ইট নিয়ে বিরোধীদের তেড়ে মারতে যাওয়া। যাতে, কোনও হতভাগার মনে এতটুকু সন্দেহ না থাকে, কোন ধর্ম শ্রেষ্ঠ। এই মতান্ধ, বিশ্বাসান্ধ, ধারণান্ধ গোঁড়াদের কোনও রকম যুক্তি নেই। তাদের মনে সব সময় বাস্তুচ্যুত হওয়ার আতঙ্ক কাজ করে। সে আতঙ্ক স্নায়বিক। যেমন পরাক্রান্ত শিকারি বাঘও আসলে ভিতু, মানুষকে ভয় পায়। সে আত্মরক্ষার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াতেই আক্রমণ করে। মতান্ধ, বিশ্বাসান্ধ, ধারণান্ধ গোঁড়াদের সংগঠিত করে কাজে লাগাতে পারে রাজনৈতিক দল। এই ধর্মকে ঘিরেই ইরাক-সিরিয়া-আফগানিস্তান-পাকিস্তান আজ রক্তাক্ত। পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা এমনকি ইউরোপও। বছরভর বিশ্ব শুনেছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। কোনও কোনও দেশে পুরোদস্ত্তর যুদ্ধ থামলেও প্রাণহানি অব্যাহত। হত্যা যেন হয়ে উঠেছে প্রতিটি বেঁচে-থাকা মুহূর্তের বাধ্যতা। গুনে শেষ করা যায় না এমন গণহত্যা।

অথচ, ধর্মে তো বলপ্রয়োগ নেই। বলা হয়েছে আল কোরানে (৪৯:১১)। বলা হয়েছে, তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম এবং আমার জন্য আমার ধর্ম। লেখা আছে: তোমার প্রভু যদি ইচ্ছা করতেন, তা হলে পৃথিবীর সমস্ত মানুষই (ইসলামে) বিশ্বাসী হত, তবে কি তুমি মানুষকে ধর্মের পথে আনবার জন্য তার ওপর বলপ্রয়োগ করতে যাবে? ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ১৯ মার্চ আরাফত ময়দানে শেষ ভাষণে পবিত্র হজরত মহম্মদ বলেছিলেন, ধর্মের সম্পর্কে কেউ বাড়াবাড়ি করবে না। এই বাড়াবাড়ির জন্য বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। অথচ, একদল ক্ষমতালোভী ধর্ম-ব্যবসায়ী গণতান্ত্রিক ভাবে না পেরে, ভয় দেখিয়ে, বোমা ছুড়ে শিশু-নারী হত্যা করে ক্ষমতায় যেতে চায়। সব দেশে, সব কালে ধর্মের নামে প্রবল অধর্মকে লালন ও পালন করে। ইসলামের নামে ইসলামের আদর্শকে হত্যা করে। হিন্দুত্বের নামে হিন্দুত্বের মূল নীতিকে। মুসলমান বা হিন্দু নয়, এদের জাত একটাই: ধর্মব্যবসা। ধর্ম, রাজনীতি ও ক্ষমতার ‘ককটেল’ বানিয়ে অর্থ, প্রতিপত্তি অর্জন করতে চায়। তাই ব্যাংক বানায়, হাসপাতাল চালায়, স্কুল-কলেজ খোলার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ মারে। হত্যা করে কুপিয়ে চপার মেরে। যেমন দেখছি, তালিবান, আল-কায়েদা থেকে শুরু করে সদ্য মাথাচাড়া দেওয়া ইসলামিক স্টেটের কর্মকাণ্ডে।

রাষ্ট্রের রাজনীতিতে আমরা বিভিন্ন দল ও আদর্শের প্রতিযোগিতামূলক দ্বন্দ্ব দেখতে পাই। কেউ একে ব্যাখ্যা করেন ক্ষমতার দ্বন্দ্ব হিসেবে, কেউ করেন পুঁজির আধিপত্যের দ্বন্দ্ব হিসেবে। কেউ করেন ‘সব-আছে’ আর ‘সব-হারা’-র দ্বন্দ্ব হিসেবে। এগুলোর পাশাপাশি আরও একটা দ্বন্দ্ব রয়েছে, যুক্তিবাদী বিশ্বদৃষ্টির সঙ্গে অন্ধ বিশ্বাসপ্রবণতার দ্বন্দ্ব। তাত্ত্বিকরা বলবেন, এই দ্বন্দ্বও আসলে পূর্বোক্ত দ্বন্দ্বগুলিরই পরোক্ষ ফল বা লক্ষণমাত্র। হতেই পারে। কিন্তু এও মনে হয় যে এই শেষোক্ত দ্বন্দ্বটিও অতি বিশিষ্ট, প্রবল ভাবে বিরোধাত্মক, যা বার বার রীতিমতো অস্তিত্ব-সংকটের দ্যোতক হয়ে উঠতে পারে। এই বিরোধাত্মক যুদ্ধেরও আর সব যুদ্ধের মতোই ‌‘শহিদ’ আছে, আততায়ীও আছে। এবং পক্ষগুলোর মৌলিক ধরনটাই এমন যে সেখানে শহিদদের সবাই শুধু প্রথম দলেই, আর আততায়ীরা অন্য দলে। যেখানে প্রথম দল বিশ্বাস করে লেখা, লেখনী, বাকশক্তি, মুক্তচিন্তা। আর দ্বিতীয় দল তাদের আধিপত্য বিস্তার করে অস্ত্র, সেখানে মৃতদের সবাই যে প্রথম দলেই থাকবে, তা আর বিচিত্র কী!

এই যুগের খ্যাতনামা দার্শনিক ড্যানিয়েল ডেনে ধর্মকে এই মর্মে গালি দিয়েছেন যে, তা ‘ভাল’ মানুষকে ‘খারাপ’ কাজ করতে প্ররোচনা দেয়। উদাহরণ হিসাবে ডেনে ৯/১১-এর প্রসঙ্গ টেনেছেন। বলেছেন, কেবল ধর্মবিশ্বাসের কারণে কিছু মানুষ ওই রকম একটি হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হতে পারে। ৯/১১ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ডেনে-র দাবি পৃথিবীজুড়ে যত্রতত্র সন্ত্রাসবাদী ক্রিয়াকলাপের মূলে অনেকখানি জুড়ে থাকে ধর্মীয় উন্মাদনাজনিত প্ররোচনা। ডেনে-র এই মতের বিরোধিতা করেছেন বিজ্ঞানী ফ্রিম্যান ডাইসন। তাঁর দাবি, ধর্মকে অবিমিশ্র নিন্দনীয় গণ্য করা ভুল। ধর্ম যে শুধুই ‘ভাল’ মানুষকে ‘খারাপ’ কাজে প্ররোচনা দেয় তা নয়, অনেক ‘খারাপ’ মানুষকেও ‘ভাল’ কাজ করতে উৎসাহ দেয়। উদাহরণ দিয়েছেন সেই সব ধনী মানুষের, যাঁরা অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করলেও তার অনেকটা গরিবের উপকারে দান করেন। ডাইসন-এর যুক্তি, ওই সব দানধ্যানের মূলে পুণ্যার্জন অথবা স্বর্গবাসের যে প্রতিশ্রুতি ধর্ম দেয়, তা অবাস্তব হলেও গরিবের উপকার কিন্তু নিতান্তই বাস্তব একটি প্রাপ্তি। ডেনে এবং ডাইসন-এর মধ্যে তর্কে এসে পড়েছে বিজ্ঞান সম্পর্কে আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ এক সমালোচনা। বিজ্ঞান উত্তরোত্তর আবিষ্কারে মগ্ন। সেই আবিষ্কারে জীবকুলের ভাল না মন্দ, তা বিচারে মৌন অবলম্বনই বিজ্ঞানের ধর্ম— এই মতবাদ সমালোচনার সম্মুখীন। বলা হচ্ছে, ‘মরালিটি’ বা জীবনযাপনের নীতিনির্ধারণে বিজ্ঞানের যে কোনও বক্তব্য নেই, তাতে পৃথিবীতে জীবকুলের বড় ক্ষতি হচ্ছে। অবশ্যই  এরকম সমালোচনা করে থাকেন প্রধানত ধর্মবিশ্বাসী মানুষেরা। স্বাভাবিক। কারণ ধর্মবিশ্বাসে অনেকখানি জুড়ে থাকে মরালিটি। কী রকম আচরণ মানুষের কাছে কাম্য, তা বলতে ধর্ম সর্বদাই উদ্গ্রীব। বিজ্ঞান যদি সে কাজে আদৌ উৎসাহী না হয়, তা হলে তো তার ভাগ্যে সমালোচনা জুটিবেই। মরালিটি থেকে ধর্মের রেহাই নেই।

আসলে, ‘সৃষ্টির মনের কথা মনে হয়— দ্বেষ’। আজ থেকে বহু বছর আগে বিক্ষুব্ধ পৃথিবীর দিকে চেয়ে এমনটাই অনুভব করেছিলেন কবি (জীবনানন্দ দাশ)। আজ আবারও কবির সেই অনুভূতির খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আমরা। যে-পৃথিবীতে শিশুর প্রথম শয্যা পাতা হয় মারণাস্ত্রের সমাহারে, মানুষেরই হাতে মানুষের প্রাণনাশের ভিডিও আপলোড করা হয় উৎসাহের সঙ্গে, সেখানে দ্বেষ ছাড়া আর কীই-বা রয়েছে আমাদের?

রক্ত, জিঘাংসা, প্রতিহিংসা কোথাও পৌঁছে দেবে আমাদের? অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে ছিলেন পবিত্র মহম্মদ। ক্ষমা করেছিলেন প্রিয় সাহাবির কলিজা ভক্ষণকারী মহিলা হিন্দাহকে। হজরত মহম্মদকে হত্যা করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন আরবের প্রসিদ্ধ কবি কাব। একদিন কাব চলছিলেন হজরত মহম্মদের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা কবিতা পড়তে পড়তে। শব্দচয়ন আর গীতমাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে কবিতার বিষয়বস্তুর কথা না ভেবে হজরত মহম্মদ নিজের পরিহিত শাসকের শিরোভূষণ পরিয়ে দেন কবি কাবের মাথায়। কাব বিস্মিত হয়ে যান। ধর্মের স্বঘোষিত অভিভাবক হত্যাকারীরা কি তা জানেন?

সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদের বিরোধিতাই মতান্ধ, বিশ্বাসান্ধ, ধর্মাচারান্ধ গোঁড়াদের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী ও সক্রিয় অস্ত্র। সন্ত্রাসবাদীদের চপার আছে, বন্দুকও আছে। আমাদের তুলি-কলম-গলা ও শরীর দিয়ে তৈরি সম্প্রীতির শিল্প-সংস্কৃতি আছে। বন্দুকের গুলি ফুরোয়, চপার ভোঁতা হয়ে যায়, তুলি-কলম দিনে দিনে নতুন ও ধারালো হয়। সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদের ইতিহাস খুঁজতে খুঁজতে অশান্ত দুনিয়ার নানা পর্যায় তুলে ধরার চেষ্টা এই পরিসরে। একুশ শতকের দুনিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবাদ-মৌলবাদের গভীরতর বিপদের সামান্য ধারনা দিতে পারলে প্রাপ্তিটা অনেক বেশি বলে বিবেচিত হবে।

ধর্ম জেহাদ সন্ত্রাস

নবজাতক প্রকাশন

এ-৬৪, কলেজ স্ট্রিট মার্কেট

কলকাতা ৭০০০০৭

দাম ২৫০ টাকা (ভারত)