ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মুখে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টিকে প্রায় দু’টুকরো করে ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! আসন্ন ভোটে দলের মুখকেই এখন মানতে চাইছেন না রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতা। তাঁরা কেউ প্রকাশ্যে গাল পাড়ছেন দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পকে। কেউ ট্রাম্পকে বলছেন ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’। আর কেউ একেবারে রাস্তায় দাঁড়িয়ে জোর গলায় জানিয়ে দিচ্ছেন, তাঁর ভোটটা তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকেই দেবেন। ট্রাম্পের একের পর এক ‘ভারসাম্যহীন মন্তব্য’ই সরাসরি বা পরোক্ষে হিলারির পাশে এনে দিচ্ছে রিপাবলিকান পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিবিরকে।

ভোটের মুখে ট্রাম্প-ইস্যুতে যে রিপাবলিকান শিবির ভেঙে চৌচির, ঘরের ঝগড়া বাইরে বেরিয়ে এসে তা ফাঁস করে দিয়েছেন তাঁরই দলের এক বর্ষীয়ান সিনেটর। সুজান কলিন্স। রিপাবলিকান এই সিনেটর মার্কিন দৈনিকে একটি প্রবন্ধে লিখেছেন। তাতে তিনি ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না বলে ঘোষণা করে দিয়েছেন। কলিন্স লিখেছেন, ‘যে ভাবে মানুষকে বিশেষত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ট্রাম্প অসম্মান করেন, একজন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর কাছ থেকে সেটা কাম্য নয়। আমি এটা নিয়ে অনেক ভেবেছি। রিপাবলিকান দলটাই আমার জীবনের সংজ্ঞা। এই দল আমাকে শিখিয়েছে মানুষকে কতটা সম্মান করতে হয়। কিন্তু ট্রাম্পের মধ্যে সেই ইচ্ছেটারই বড্ড অভাব। তাই ওর পাশে দাঁড়াতে পারছি না।’

5775485934190.image

রিপাবলিকান পার্টির তহবিল ভরানোর বড় দায়িত্বটা যিনি পালন করেন, সেই মেগ হুইটম্যান বলেছেন, ট্রাম্প যে সব কথাবার্তা বলছেন, তাতে জাতীয় সংহতিই না বিপন্ন হয়ে যায়! আরও দুই রিপাবলিকান- কংগ্রেসের স্পিকার পল রায়ান আর সেনেটর জন ম্যাকেন প্রকাশ্যেই বলেছেন, নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক-মুহূর্তে রিপাবলিকান পার্টি বরং আরও এক বার কনভেনশন ডেকে ঠিক করুক, কাকে তারা হিলারির বিরুদ্ধে লড়তে পাঠাবে!

আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির টিকিট পাওয়ার লড়াইতে যখন থেকে নেমেছিলেন, তখন থেকেই নানা বিতর্কের জন্ম দিতে শুরু করেছেন। তাঁর নানা মন্তব্য প্রচুর নিন্দা এবং বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু ট্রাম্প কোনও কিছুতেই বিচলিত নন। খোদ রিপাবলিকান নেতা তথা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ট্রাম্পের নিন্দায় সরব হয়েছেন। রিপাবলিকান নেতা মিট রমনি বলেই ফেলেছেন, ট্রাম্প একটা প্রতারক। মাইক ব্লুমবার্গ ও জেব বুশ সুর মিলিয়ে বলেছেন, তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। টিভি ভাষ্যকার রবার্ট কেগান ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট নামেও দাগিয়ে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের লাগাতার মুসলিম-বিদ্বেষ রিপাবলিকান পার্টির বহু সেনেটর আর বিভিন্ন প্রদেশে তাদের গভর্নর ও প্রবীণ নেতাদের এতটাই চটিয়ে দিয়েছে যে তাঁরা নিজেদের মধ্যে সই সংগ্রহ করতে শুরু করে দিয়েছেন। অনেকটা গণ-স্বাক্ষর অভিযানের মতো। ট্রাম্পের লাগাতার মুসলিম-বিদ্বেষের জবাব দিতেই একটি অভিবাসী মুসলিম পরিবারের বক্তব্যকে আসন্ন ভোটে তাঁদের স্লোগান করে ফেলেছেন ডেমোক্র্যাটরা। ‘মাই নেম ইজ খান অ্যান্ড আই অ্যাম আমেরিকান পেট্রিয়ট’। ওই পরিবারের সন্তান মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য হয়ে ইরাক-যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন। ট্রাম্প তাকেও কটাক্ষ করায় প্রবীণ রিপাবলিকান নেতারা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, এই লোকটার হাতে কী ভাবে দেশের দায়িত্ব দেওয়া যায়, যিনি দেশের সেনাদেরই অপমান করেন?

রাজনৈতিক পত্রিকা পলিটিকো বলতে বাধ্য হয়েছে, ট্রাম্পের কথাবার্তা ‘তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রের মতো’। ‘নিউজম্যাক্স’ কিছুটা উদার হয়ে বলেছে, ট্রাম্পের ব্যাকরণজ্ঞান পঞ্চম শ্রেণির কোনও ছাত্রের থেকে বেশি নয়। এসব কথাবার্তার সারাংশ করেছেন নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যান। তাঁর কথায়, ‘ট্রাম্প একটা আকাট মূর্খ, চূড়ান্ত অসৎ, অসংলগ্ন, অপরিণত, আত্মম্ভরি এক মস্তান। সোজা কথায়, অত্যন্ত বাজে একজন লোক।’

এই ‘অত্যন্ত বাজে লোকটি’র চোখে মেক্সিকানরা মাদক ব্যবসায়ী ও ধর্ষকামী। আর মুসলিম মানেই জঙ্গি। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে আমেরিকা থেকে সোয়া কোটি অবৈধ অভিবাসীকে খেদাবেন। মুসলিমদের আমেরিকায় ঢোকা নিষিদ্ধ করবেন। তিনি বলেছেন, “পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে মুসলিম সম্প্রদায়কে মঙ্গল গ্রহে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত।”  এ ব্যাপারে তিনি একটি শর্তসাপেক্ষে প্রস্তাবও দিয়েছেন বিজ্ঞানী ইলন মাস্ককে। মাস্ককে তিনি প্রস্তাব দেন, যদি তিনি তাঁর রকেটে করে মুসলিমদের মঙ্গলে পাঠিয়ে দিতে পারেন, তা হলে তাঁকে ট্রান্সপোর্টেশন সেক্রেটারির পদ দেবেন। ট্রাম্পের মতে, এতে যেমন মুসলিমদের উপকার হবে, তেমনই বিশ্বে শান্তির আবহ ফিরে আসবে। তিনি আরও জানান, আমেরিকাকে ধর্ষক মুক্ত করতে এর থেকে ভাল এবং কার্যকরী উপায় হতে পারে না। তবে এখানেই থেমে থাকেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। মুসলিমদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বিশ্বাস করুন মুসলিমদের আমি ভালবাসি। আর সে কারণেই আমেরিকায় তাদের অনুপস্থিতি আমার হৃদয়কে আনন্দে ভরিয়ে তুলবে।”

ট্রাম্পের চেখে আমেরিকা এখন দুর্বল, আমেরিকাকে এখন আর কেউ ভয় করে না। তিনি প্রেসিডেন্ট হলে এই অবস্থা বদলে যাবে। ট্রাম্প বলেছেন, ওবামা আইএসের জন্ম দিয়েছেন, আর সেই আইএসকে নিশ্চিহ্ন করতে হেন ব্যবস্থা নেই, যা তিনি গ্রহণ করবেন না। মধ্যপ্রাচ্যের তেলকূপগুলি নিজের দখলে নেবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ভাবতে পারেন, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হলে ‘ভয়ংকর’ এই লোকটিই হবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট! যে দেশ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের হাতেই থাকবে সেই দেশের পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের সুইচ। ভয় হয় কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্পই তো প্রশ্ন তুলেছেন, হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার করা যাবে না কেন? এক বার নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রিপাবলিকান প্রার্থী বার বার এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছেন বিদেশনীতি সংক্রান্ত পরামর্শদাতাকে।

এসব সত্ত্বেও মার্কিন বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পকে সবচেয়ে ‘ভয়ংকর’ বলতে নারাজ। তাঁদের মতে, ট্রাম্প যদি নির্বাচিত হয়েই যান, তবে ক্ষমতায় বসার পর তাঁর গলার স্বর বদলাতে বাধ্য। তিনি নিজে চাইলেও তাঁর উপদেষ্টারা ও পারিষদ তাঁকে বেপরোয়া কিছু করতে দেবেন না। কিন্তু ভয়টা হল, ট্রাম্পের কমপক্ষে সোয়া কোটি সমর্থককে নিয়ে, যাঁরা বাছাইপর্বে তাঁকে ভোট দিয়েছেন। এই সমর্থকরা ট্রাম্পেরই মতো চিন্তাভাবনা লালন করেন। নির্বাচনে ট্রাম্প যদি হেরেও যান, তারপরও এই ট্রাম্প সমর্থকরা আমেরিকায় থেকে যাবেন। এঁদের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে নতুন কোনও নাৎসি পার্টি, যাদের ‘বিষাক্ত’ জাতীয়তাবাদ বিশ শতকের ফ্যাসিবাদকেও হার মানাতে পারে। আসল ভয়টা সেখানেই!

ব্যাপারটা এক দিনে ঘটেনি। আমেরিকার রক্ষণশীল মহল, যার কেন্দ্রে রয়েছে রিপাবলিকান পার্টির একটি অংশ ও ইভানজেলিক্যাল আন্দোলনের এক বড় অংশ। দীর্ঘদিন থেকেই তারা এরকম একজন ‘উদ্ধারকর্তা’র অপেক্ষায় থেকেছে। বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এদের রোষ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কালো, ওবামার বিরোধিতার সেই একটি কারণ মাত্র। কিন্তু তার চেয়েও বড় কারণ, মার্কিন শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে অহংকার। পৃথিবীর যেকোনও জায়গায় নিজের স্বার্থরক্ষায় যখন যেমন খুশি হস্তক্ষেপের যে তাত্ত্বিক ভাবনা মার্কিন রক্ষণশীল মহলের চিন্তাভাবনায় দেড়শ বছর ধরে কাজ করেছে, ওবামা সেই তত্ত্ব নিঃশর্তে মেনে নেননি। বিশ্বে আমেরিকার নাম শুনে সবাই এখন ভয়ে কেঁপে ওঠে না, আমেরিকার এই পতনের জন্য সব দায়ী ওবামাই। তাঁর জায়গায় চাই এমন একজনকে, যিনি আমেরিকান ব্যতিক্রমী অবস্থানকে তার পুরোনো জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। ট্রাম্পই সেই যোগ্য ব্যক্তি। এমনটাই মনে করেন ট্রাম্পের সোয়া কোটি সমর্থক।

তাঁর উৎকট মন্তব্য নিয়ে উত্তাল হয়ে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। তাঁকে নিয়ে নিরন্তর তৈরি হয়ে চলেছে একের পরে এক মেমে। তাঁর বিচিত্র মুখভঙ্গির ছবি হাতে হাতে ঘুরছে, তাতে জুড়ে যাচ্ছে ফোটোশপ-রঙ্গ।  ট্রাম্প ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে এক জালিয়াতির মামলায় মেক্সিকান বংশোদ্ভূত এক বিচারপতি ট্রাম্পের বিপক্ষে রায় দেন। ক্রুদ্ধ ট্রাম্প বলেন— ‘ওই বিচারক আমাকে যা-তা ভাবে ট্রিট করেছেন। আমি জানি, তিনি মেক্সিকান বংশোদ্ভূত। আমি পাঁচিল তুলছি। আমি পাঁচিল তুলছি।’ (এখানে মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে পাঁচিল তোলার কথা বলছেন ট্রাম্প। সীমান্ত সমস্যা এত সহজে কে-ই বা মেটাতে পেরেছেন?) কন্যা ইভাঙ্কা ‘প্লেবয়’-এর মডেল হলে তিনি কী করবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প-উবাচ— ‘ইভাঙ্কা এ কাজ করবে বলে মনে হয় না। যদিও ওর ফিগারটা দারুণ। ও আমার মেয়ে না-হলে আমি ওকে ডেট করতাম।’ ভাবুন তাহলে!

বিতর্ক ছড়াতে তিনি ওস্তাদ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়াকে রীতিমত রঙিন করে তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেই সোল্লাসে হাততালি দিচ্ছে। কেউ হাসছেন। কেউ বা রেগে আগুন ট্রাম্পের কাণ্ড-কারখানায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারবেন কি না তা ঠিক করবেন আমেরিকান ভোটাররাই। কিন্তু জীবনের ভোগ-বিলাস-প্রাপ্তিতে ট্রাম্পের ধারে কাছে আসতে পারবেন সে দেশের খুব কম মানুষই। ৬৯ বছর বয়সী ট্রাম্পের সম্পত্তির পরিমাণ ৮৭০ কোটি ডলার।

২০১৫ সালে ইরাক হামলার তাত্ত্বিক গুরু তথা প্রাক্তন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি একটি বই লেখেন। যার নাম একসেপশনাল: হোয়াই দ্য ওয়ার্ল্ড নিডস এ পাওয়ারফুল আমেরিকা। সেই বইয়ের মোদ্দা বক্তব্য, ওবামার কারণেই বিশ্বে আমেরিকার সম্মান ধুলোয় মিশে গিয়েছে। সেই সম্মান উদ্ধারের জন্যই এগিয়ে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নেমে শুরু থেকেই মুসলিমদের আক্রমণ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। যেমন, গত বছর ডিসেম্বরে সান বার্নাদিনোয় জঙ্গি হামলার পরে ট্রাম্প বলেছিলেন, “যাঁদের কাছে মানুষের জীবনের কোনও মূল্য নেই, যাঁরা শুধুমাত্র জেহাদে বিশ্বাস করে, আমেরিকা এমন লোকেদের আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারে না।” সেই শুরু। তার পরে একের পর এক মুসলিম-বিরোধী মন্তব্যে মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় তুলে দিয়েছেন রিপাবলিকানদের এই প্রথম সারির নেতা। ট্রাম্প বলছেন ভুল অভিবাসন নীতির ফলে দলে দলে সম্ভাব্য জঙ্গি এসে ঢুকছে আমেরিকায়। তিনি মার্কিন মুসলিম সম্প্রদায়কে বিশ্বাস করতেই নারাজ। তাঁকে জবাব দিতে গিয়ে অন্য দু’জন বলছেন আমেরিকায় মুসলিমদের ঢোকা বন্ধ করার কথা বললে গণতন্ত্রের বিরোধিতা করা হবে। পুরো মুসলিম সম্প্রদায়ের উপরে দোষ চাপিয়ে দিলে আমেরিকারই বিপদ বাড়বে। বরং তাঁদের সাহায্য নিয়েই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। রাজনীতিকদের মতে, এখন মার্কিন ভোটারদের মধ্যে জঙ্গিদের ভয়ই প্রধান বিষয় বলে মনে করছেন ট্রাম্প। তাই মার্কিন বহুত্ববাদ আর রীতিনীতি নিয়ে আর মাথা ঘামাচ্ছেন না তিনি। সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্পের বক্তৃতা আগাগোড়া ভুল আর তথ্যের কারচুপিতে ভর্তি। সিরিয়া থেকে দলে দলে শরণার্থী আসার কথা বলেছেন তিনি। কিন্তু আমেরিকায় সিরিয়া থেকে মাত্র ২,৮০৫ জন শরণার্থী এসেছেন। ওমর মতিনকে ‘আফগান’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। কিন্তু সে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক।

ট্রাম্পের বিরোধিতা করতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টন বলেছেন, আমেরিকার মুক্ত সমাজই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মুসলিম-বিরোধিতা আমেরিকার বিপদ বাড়াবে। বরং মার্কিন মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ বাড়াতে হবে। হিলারির কথায়, ‘‘২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জঙ্গি হানার সময়ে আমি নিউ ইয়র্কের সেনেটর ছিলাম। তখন দেশের সকলে হাত মিলিয়ে সন্ত্রাসের মোকাবিলার কথা বলেছিলেন। সেটাই প্রয়োজন।’’

ট্রাম্পের বক্তৃতা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতৃত্বই। তাঁরা কবুল করছেন, আমেরিকার মূল মন্ত্রেই আঘাত করছেন তিনি।ভয়টা সেখানেই! কারণ, ট্রাম্প পরাজিত হলেও ট্রাম্পবাদের পতন হবে না। যে লক্ষ লক্ষ শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীর সুপ্ত স্বপ্ন তিনি জাগিয়ে তুলেছেন, তারা অপেক্ষায় থাকবে তাদের পরবর্তী ফুয়েরারের। আরও এক ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য।