ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

তখনও ঘুম ভাঙেনি ভূস্বর্গের। চুপিসাড়ে উরির সেনা ছাউনিতে ঢুকে পড়েছিল সশস্ত্র চার পাক জঙ্গি। ভোর সাড়ে পাঁচটা। ছাউনির ভিতরে অঘোরে ঘুমোচ্ছেন বিহার রেজিমেন্টের ক্লান্ত জওয়ানরা। হঠাৎই ভোরের স্তব্ধতা খান খান করে কান ফাটানো গ্রেনেডের শব্দ। সঙ্গে অ্যাসল্ট রাইফেলের মুহূর্মুহু গুলি। ডিজেল ‘ডাম্প’ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হানা। মাত্র তিন মিনিটে ১৭টি গ্রেনেড চার্জ। ১৫০ মিটার এলাকার সব কিছু ভস্মীভূত করে দিতে সেটাই যথেষ্ট ছিল। সম্বিত ফিরে পেয়ে জওয়ানরা যখন পালটা গুলি চালালেন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। এরপরেও ঘণ্টা তিনেক গুলির লড়াই।

পাঠানকোটের সন্ত্রাসের ভোর যেন ফিরে এসেছিল উরিতে। ১৮ সেপ্টেম্বর কাকভোরে। ৪ আত্মঘাতী পাকিস্তানি জঙ্গি নিকেশ হয়েছিল বটে, কিন্তু তার আগেই ফিদায়েঁ হামলায় শহিদ হয়ে গিয়েছিলেন ১৮ জন সেনা। সেনাসূত্রে খবর, জঙ্গিদের কাছ থেকে চারটি একে-৪৭ রাইফেল, চারটি অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার হয়েছে। যার অনেকগুলিতেই রয়েছে পাকিস্তানি ছাপ্পা। মিলেছে পশতু ভাষায় লেখা একটি ম্যাপও। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্যুইট করে বলেছিলেন, ‘উরিতে এই কাপুরুষোচিত হামলা নিন্দনীয়। আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, এই জঘন্য হামলার পিছনে যারা রয়েছে, তাদের শাস্তি হবেই।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং দাবি তুলেছিলেন, ‘পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র। তাদের চিহ্নিত করে একঘরে করে দেওয়া উচিত।’ শুধু জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির গলায় হতাশার সুর। মেহবুবা বলেই ফেলেছেন, জঙ্গিহানার পর উপত্যকায় হিংসা আরও ছড়াবে। রক্ত আরও ঝরবে। সবই সইতে হবে কাশ্মীরের মানুষকে। সত্তর বছর ধরে এটাই চলছে। পাকিস্তান বলছে স্বাধীনতার সংগ্রাম, ভারত বলছে সীমান্তপারের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ। রাজায়-রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। কাশ্মীরের অবস্থা এখন ঠিক তেমনই। একদিকে একের পর এক জঙ্গি আক্রমণ, অন্যদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আস্ফালন। দুইয়ে মিলে রক্তাক্ত ভূস্বর্গ।

উরির ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৬৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কী ঘটেছিল কাশ্মীরসহ বিভিন্ন সীমান্তে। সে বছর আগস্টের শেষ থেকেই আইয়ুব খান দলে দলে জঙ্গি জম্মু-কাশ্মীরে ঢুকিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করেছিল। যদিও যুদ্ধে পর্যুদস্ত হয় আইয়ুব এবং তার প্রধান সেনাপতি ইয়াহিয়া খানের বাহিনী।

আবার সেই সেপ্টেম্বর মাস। ২০১৬। কী হবে বা কী হতে চলেছে, তা দেখতে দেশবাসী উৎকণ্ঠিত হয়ে আছেন। স্তম্ভিত বিশ্ব। চারদিকে প্রশ্ন একটাই, আবার কি যুদ্ধ আসন্ন?

 

অঙ্ক কষেই জঙ্গি হামলা

স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, পেশোয়ারের স্কুলে হামলার ঘটনায় ভারতের প্রতিটি শিশু কেঁদেছিল। এটাই ভারতের সংস্কৃতি। কিন্তু অন্য দিকে দেখুন! সেখানে সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করা হয়। জঙ্গিরা নিরীহ মানুষকে হত্যা করলে সেখানে উৎসব হয়। সম্প্রতি উরির ঘটনা তারই নয়া সংযোজন।

ভারতের প্রাক্তন বিদেশসচিব জে এন দীক্ষিত তাঁর Anatomy of a flawed inheritance-গ্রন্থে ১৯৭০ থেকে ১৯৯৪ সালের ভারতে পাক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন, ’৭১ সালে পাকিস্তান ভেঙে যখন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র গঠন হল তখন থেকে পাকিস্তান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তখন থেকেই ছায়াযুদ্ধ শুরু। সেই অঙ্গহানি আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে ইসলামাবাদকে। আর কাশ্মীরকে অগ্নিগর্ভ করে তারই প্রতিশোধ নিতে চাইছে। আজও। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেই সময় থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলার ট্র্যাডিশন সমানে চলছে। পাঠানকোট হয়ে উরি— সেই ইতিহাসের ধারাবাহিক পুনরাবৃত্তি।

কূটনীতিকদের একটা অংশ বলছেন, যথেষ্ট অঙ্ক কষেই এই সময় হামলা করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণসভায় যোগ দিতে নওয়াজ যে দিন পাকিস্তান থেকে আমেরিকার বিমানে উঠলেন, তার পরের দিন ভারতের মাটিতে এত বড় হামলার অঙ্কটা আগেই করে রেখেছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও সেনা। কে না জানে, নওয়াজ শরিফের সরকার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এলেও তাঁকে আসলে পরিচালনা করে পাক গুপ্তপ্তর সংস্থা আইএসআই। তারা যদি মনে করে তাহলে নওয়াজ থাকবেন। না চাইলে তিনি থাকবেন না। পাক সামরিক কর্তারা বিলক্ষণ জানতেন, উরির ঘটনায় নওয়াজ আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার মুখে তো পড়বেনই, দেশেও তাঁর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দুর্বল হবে। আর তাতে আখেরে লাভ হবে পাক সেনারই। এখনই অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শাসক বদল না করলেও ক্ষমতার রাশ থাকবে সেনার হাতেই। লক্ষ্য একটাই, ভারতের মাটিতে ছায়াযুদ্ধের যে পাক নীতি গত সাড়ে তিন দশক ধরে চলছে, তাকে আরও গতি দেওয়া। এমনিতেই কাশ্মীর নিয়ে ভারত গত কয়েক মাস ধরে বেশ চাপে। পালটা হিসেবে নয়াদিল্লি বালুচিস্তান তাস খেলেছে। বালুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন করার কথা বলেছেন নরেন্দ্র মোদি। আর তাতেই ফেটে পড়েছে ইসলামাবাদ। উরির সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ইসলামাবাদের তরফে স্পষ্ট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কাশ্মীরের পালটা বালুচিস্তান নামের পাটকেলটি ছোড়ার জন্য তারা নয়াদিল্লিকে ভোগাবে।

 

পাশার দান উলটে দিয়েছে উরি

কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিক্ষোভ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে হইচই করে ক’দিন আগেও ভারতকে প্যাঁচে ফেলে দিয়েছিল পাকিস্তান। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলের কাশ্মীরে আসা নিয়ে মাত্র এক সপ্তাহ আগেই প্রবল চাপের মধ্যে ছিল নয়াদিল্লি। উরির ঘটনার পরে সেই কমিশনের সামনে দাঁড়িয়েই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ইসলামাবাদকে তুলোধনা করেছে ভারত। পাশার দান উলটে দিয়েছে উরি। নয়াদিল্লির তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হাফিজ সইদ, সৈয়দ সালাউদ্দিনের মতো আগমার্কা জঙ্গিরা পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিরাট জনসভা করতে পারে! পাকিস্তান আসলে সন্ত্রাসবাদের মৃগয়াক্ষেত্র। শুধু রাষ্ট্রসংঘে মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে ফ্রান্স ও রাশিয়া উরির ঘটনা নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করেছে পাকিস্তানকেই। রাষ্ট্রসংঘে নিজের শেষ বক্তৃতায় সরাসরি পাকিস্তানের নাম না করলেও ওবামা বলেছেন, যে সব দেশ ছায়াযুদ্ধে মদত দিচ্ছে, তারা তা বন্ধ করুক। মার্কিন বিদেশসচিব জন কেরি বলতে বাধ্য হয়েছেন, পাকিস্তানের ভূখণ্ডটা যেন জঙ্গিদের মুক্তাঞ্চল হয়ে না যায়। জঙ্গিরা যেন একেবারে স্বর্গরাজ্য ভেবে পাকিস্তানকে না ব্যবহার করে।

উরির ঘটনায় বেসামাল শরিফ শেষপর্যন্ত সেই কাশ্মীর জিগিরকে আকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন। আর কে না জানে, পাকিস্তানে লোক খেপানো অথবা গদি বাঁচানোর সেরা হাতিয়ারটির নাম ‘কাশ্মীর’। তাই শরিফ সেনা সংঘর্ষে নিহত জঙ্গি বুরহান ওয়ানিকে তুলে ধরেছেন ‘সাধারণ কাশ্মীরিদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নয়া ইনতিফাদা-র (বিদ্রোহ) প্রতীক’ হিসাবে। হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি বুরহান ওয়ানি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কাছে তরতাজা এক রাজনৈতিক নেতা। কাশ্মীরের আত্মা। অথচ, বুরহান সব সময়ই নিজেকে ‘জঙ্গি’ হিসেবেই ঘোষণা করেছে। এমনকি তার ফেসবুকে যে সব ছবি পাওয়া গিয়েছে, তাতেও সে ছাপ স্পষ্ট। জবাব দিতে দেরি করেননি বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ। ট্যুইট করে বলেছেন, বুরহান ওয়ানিকে মহিমান্বিত করে শরিফ সন্ত্রাসের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কটা ফের বুঝিয়ে দিলেন।

 

ইসলামাবাদকে একচুল জমি ছাড়া নয়

সীমান্ত সন্ত্রাস নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার প্রয়াসে অনেকটাই এগিয়ে সুষমা স্বরাজরা। ভারতের পাশে আমেরিকা, রাশিয়া। এমনকি, নাম না-করে উরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের পরম বন্ধু চীনও। পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ ঘোষণা করার জন্য বিল পেশ হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসেও। মার্কিন কংগ্রেসের সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত সাবকমিটির চেয়ারম্যান তথা রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টেড পো বলেছেন, পাকিস্তানকে সাহায্য করা বন্ধ করতে হবে কারণ তারা বেইমানি করছে। পাকিস্তান আসলে যে ধরনের রাষ্ট্র, তাদের সেই তকমাই দিতে হবে— সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র। ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে দহরম মহরম, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান কোন পক্ষে তা বুঝে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। এটা স্পষ্ট যে পাকিস্তান মোটেই আমেরিকার পক্ষে নয়। ইসলামাবাদকে চাপে ফেলে রাষ্ট্রসংঘে ভারত বলেছে, ১৯৪৭ থেকেই ভারতের জমি দখল করতে মরিয়া পাকিস্তান। ১৯৪৭, ১৯৬৫ এবং ১৯৯৯-তে পাকিস্তান তার প্রমাণও রেখেছে। এই মুহূর্তে তারা জম্মু-কাশ্মীরের ৭৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা বেআইনি ভাবে দখল করে রেখেছে। ভারতের দাবি, পাকিস্তানকে এই বেআইনি দখলদারি ছাড়তে বলা হোক। ভারতে হিংসা ও সন্ত্রাসে মদত দেওয়া এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতেও মানা করা হোক ইসলামাবাদকে।

কে না জানে, পাকিস্তান মানেই তিন ‘এ’। আমেরিকা, আর্মি এবং আল্লা। সেই জন্মলগ্ন থেকেই। ১৯৬৫-র যুদ্ধে আমেরিকা পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। প্রশ্ন হল, মোদির বন্ধু বারাক ওবামা এখনও কি পাকিস্তানকে আবার সমর্থন করবেন? এশিয়ার বুকে নয়া যুদ্ধে সবুজ সংকেত দেবেন? নাকি সবই যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা!

 

চাপে রয়েছেন মোদিও

ইসলামাবাদের আকাশে চক্কর দিতে শুরু করেছে এফ ১৬ যুদ্ধ বিমান। সড়ক থেকেই যুদ্ধবিমান ওড়া শুরু করছে, এমন ছবি ট্যুইটারে পোস্ট করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ লিখেছেন, ‘আমাদের বিমানবাহিনী সদা প্রস্তুত। সড়কই আমাদের রানওয়ে।’ তবে কি ভারতের প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় পাকিস্তান ভয় পেয়ে গিয়েছে? তাই যুদ্ধের জিগির পাকিস্তানে?

ভারতের দিকেও প্রবল সামরিক তৎপরতার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। নিয়ন্ত্রণ রেখায় বিপুল আর্টিলারি সরঞ্জাম মোতায়েন হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। ৭৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বিভিন্ন চৌকিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ভারী গোলাবর্ষণের সরঞ্জাম। উরির ঘটনার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘন ঘন ঢুকছেন ওয়ার রুমে। দিল্লির সাউথ ব্লকের এই বিশেষ ঘরটি যুদ্ধ বা ওই ধরনের পরিস্থিতিতেই ব্যবহার করা হয়। অনেকেই মনে করছেন, ওয়ার রুমে মোদির যাওয়া দলের সামনে একটা বার্তা। কেননা, ক্ষমতায় এসে মোদির সামনে চ্যালেঞ্জ তাঁর পুরনো কথাগুলিই।

বছর তিনেক আগে, ২০১৩ সালে গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জম্মু–কাশ্মীরে পাক জঙ্গি হামলায় কাঠগড়ায় তুলেছিলেন ইউপিএ সরকার ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে। গুজরাতে বসে তিনি মনমোহন সরকারকে দুর্বল ও অশক্ত আখ্যা দিয়েছিলেন। শুধু তা–ই নয়, ভারতে পাক জঙ্গি হামলার ‘জবাব’ হিসেবে ‘চোখের বদলে চোখ’ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। মোদির সেই বক্তব্য তুলে ধরে পালটা আক্রমণ শানানো শুরু করেছে কংগ্রেসও। সরকারের ঘোষিত কোনও পাক–নীতি নেই বলে মন্তব্য করে কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, মোদির আড়াই বছর পূর্ণ না–হতেই পাঠানকোট ও উরির মতো ঘটনা ঘটে গেল। উরিতেও পাঠানকোটের মতোই ‘‌রীতিমতো পরিকল্পনামাফিক সেনা ঘাঁটিতে কাপুরুষোচিত হামলা’‌ চালাল পাক–জঙ্গিরা। ১৮ জন সেনা জওয়ান শহিদ হয়েছেন। এখন প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করুন, তিনি সত্যিই কতটা শক্তিশালী। চ্যালেঞ্জ কংগ্রেসের।

সামনে উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচন। দলের এবং সঙ্ঘ পরিবারের অনেকেই চান, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করে জাতীয়তাবাদের হাওয়া আরও উচ্চগ্রামে নিয়ে যান মোদি। কিন্তু বিরোধী দলে থেকে বলা আর কুর্সিতে বসে দায়িত্ব পালনের মধ্যে বিস্তর ফারাক। তাই এই জাঁতাকলে পড়ে এখন ভারসাম্যের পথ খুঁজতে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদিকে। তাঁর অজানা নয়, শহিদ সেনা জওয়ান গঙ্গাধর দলুই, বিশ্বজিৎ ঘোড়ইদের লড়াই সাপ-লুডো খেলা নয়!