ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

e46b2-rafale

উরি হামলার পর থেকেই শুরু ভারত-পাক সীমান্তে যুদ্ধের আবহ। যুদ্ধের হুমকি পাকিস্তানের।ওপারে উত্তরের আকাশসীমায় উড়ান নিষিদ্ধ। বন্ধ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের হাইওয়ে। ইসলামাবাদের আকাশে চক্কর কাটছে যুদ্ধবিমান। মাঝে মধ্যেই সীমান্তের ওপার থেকে ধেয়ে আসছে গুলি, মর্টার, শেল। এপারে পালটা জবাব। নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। ঘন ঘন ওয়ার রুমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জঙ্গি হানার আশঙ্কায় জলে নৌসেনা, ডাঙায় চিরুনি তল্লাশি আর আকাশে সেনা হেলিকপ্টার। সবই যুদ্ধের পটভূমি। আর এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার মাঝেই স্বাক্ষরিত বহুপ্রতীক্ষিত রাফাল চুক্তি। শুধু যুদ্ধবিমান নয়, ভারতের হাতের মুঠোয় মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্রও। চুক্তি অনুযায়ী, ৩৬টি বিমানের ক্রয়মূল্য প্রায় ৫৮ হাজার কোটি। সীমান্তে যুদ্ধের আবহের মধ্যেই অস্ত্র আমদানিতে এখন দুনিয়ার প্রথম সারিতে ভারত। আর তাই ভারতকে ঘিরেই এখন বিশ্ব অস্ত্র বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা। মোদি সরকারের দোরগোড়ায় লাইন পড়ে গিয়েছে ফ্রান্স, আমেরিকা, ব্রিটেনের মতো দেশগুলির।

শুরু থেকেই রাফালের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ইউরোফাইটার টাইফুন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ছিটকে যেতে হয়েছে ব্রিটেনকে। দর কষাকষিতে শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল আমেরিকাও। কার্গিলের যুদ্ধে ফ্রান্স থেকে আমদানি করা মিরাজ যুদ্ধবিমান যে ভাবে কার্যকর হয়ে উঠেছিল, তাতে বায়ুসেনার পাইলটদের মধ্যেও ফ্রান্সের বিমানের উপর দুর্বলতা ছিল। যার ফলে অন্যান্য যুদ্ধবিমানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই রাফাল এগিয়ে থেকেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের সঙ্গে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে পাকাপাকিভাবে সই করে ফেলেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্কার। ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান হাতে চলে এলে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারতই এগিয়ে যাবে কয়েক যোজন। দেশবাসীর জন্য এইটুকু বার্তাই যথেষ্ট। দারিদ্র, বেকারত্ব, অভাবের জ্বালা যতই থাক, পাকিস্তানের কাছে তো মাথা নোয়ানো যায় না! তাই বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে রাফাল চুক্তি নিয়ে চারদিকে উত্তেজনা। গর্বও বটে। দেশবাসী যেন চাইছে, প্রতিশোধের জোয়ারে ভেসে যাক সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর ‘পাক’ ভূমি। রক্ত ঝরবে। ঝরুক। সহ্যেরও তো ক্ষমতা থাকা চাই। কিন্তু আখেরে লাভটা কার হবে? না এপারের, না ওপারের। নাকি অস্ত্র কারবারীদের? সেই ভাবনা চুলোয় যাক। কে না জানে, অস্ত্র যখন ‘পণ্য’ হয়, যুদ্ধ তখন তো ‘বিজ্ঞাপন’ হয়!

যেমন হয়েছে ইরাকে, আফগানিস্তানে, প‌্যালেস্তাইনে…সম্প্রতি সিরিয়ায়। এক সিরিয়াকে কেন্দ্র করে রাশিয়া আবার অস্ত্র বাজারে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ইরান থেকে শুরু করে আরব দুনিয়ার বহু দেশ এখন রাশিয়ার সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান কিনতে মরিয়া। তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো তথ্য হল, এই মুহূর্তে বিশ্বে পাঁচ দিনের অস্ত্র কেনার পিছনে যে খরচ হয়, তা বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার ২০ বছরের গুটিবসন্ত উচ্ছেদ কর্মসূচির খরচের সমান। বিশ্বে প্রতি এক লক্ষ মানুষের বিপরীতে রয়েছে ৫৫৬ জন সেনা। কিন্তু এই এক লক্ষ মানুষের জন্য ডাক্তার রয়েছে ৮৫ জন। প্রতিটি সেনার জন্য বছরে গড়ে খরচ ২০ হাজার ডলার। অথচ বিশ্বের প্রতিটি স্কুলবয়সী শিশুর পিছনে আমরা খরচ করি মাত্র ৩৮০ ডলার। বিশ্বে তিন সপ্তাহে যে সামরিক খরচ হয়, তা দিয়ে গোটা বিশ্বের মানুষের সারা বছরের খাবার জল জোগান দেওয়া যেত। আর এর ফলে গোটা মানবসমাজের রোগ অর্ধেক কমে যেত। গোটা দুনিয়ায় বছরে রোগ ও ক্ষুধায় মারা যায় এক কোটি শিশু। অথচ, আমরা ১ মিনিটে অস্ত্রের পিছনে খরচ করছি ৬৫ লক্ষ ডলার। বাস্তব তথ্য হল, মানুষ আজ যে পরিমাণ অর্থ খরচ করছে উন্নয়ন খাতে, সেই তুলনায় ২০ গুণ বেশি খরচ করছে যুদ্ধের পিছনে। তবুও গোটা দুনিয়াজুড়ে যুদ্ধের আতঙ্ক। অস্ত্র কেনাবেচার হিড়িক। অস্ত্রের কারবারীরা বলেন, আপনি যুদ্ধ করুন, আপনার পাশে আমি আছি। যা লাগে আমি দেব।

rafale-a-cazaux-19-mai-photo-philippe-wodka-gallien_p

অস্ত্র ব্যবসার গন্ধ ভারতেও!

নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থেকেই পশ্চিমের অস্ত্র রপ্তানিকারী দেশগুলি ভারতের অস্ত্র বাজারে বড় ব্যাবসার গন্ধ পেয়ে গিয়েছিল। বুঝতে পেরেছিল, ভারতকে সমরসম্ভারে সমৃদ্ধ করে তোলার উদ্যোগে জোয়ার আসবে এবার। তাদের উল্লাস আরও বাড়ে, প্রতিরক্ষায় বিদেশী লগ্নির সীমা বাড়ানোর সঙ্কেতে। স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ এশিয়ায় নতুনভাবে ভারতপ্রেমে মশগুল আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন। রাশিয়ার অস্ত্রসম্ভারের ওপর দিল্লি যে আর নির্ভরশীল থাকতে চায় না, সেটা অবশ্য মনমোহন সিংয়ের আমলেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। মোদি ক্ষমতায় এসেই তাকে আরও গতি দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে ঝোলায় দু’হাজার কোটির বরাত নিয়ে আমেরিকা ছুটে গিয়েছিলেন মোদি। জানিয়ে এসেছিলেন, যুদ্ধের জন্য আমেরিকার কাছ থেকে অনেকগুলি ‘অ্যাপাচে’ হেলিকপ্টার ও ‘চিনুক হেভি লিফ্ট হেলিকপ্টার’ কিনতে চায় ভারত। আমেরিকার রণকৌশলের অংশ হতে ভারত যে উদগ্রীব তা জানিয়ে আসতে ভোলেননি মোদি। ওয়াশিংটনও যেন তারই প্রতীক্ষায় ছিল।

অথচ, গত বছরও আমেরিকা পাকিস্তানকে প্রায় একশো কোটি মার্কিন ডলারের সমতুল্য অস্ত্র সাহায্য করেছিল। এর মধ্যে রয়েছে ১৫টি এএইচ ১ জেড ভাইপার হেলিকপ্টার ও অন্তত এক হাজার হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র। আমেরিকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি অভিযোগ তুলেছিলেন, জেহাদিদের দমন করার জন্য আমেরিকা যে অস্ত্র পাকিস্তানকে দিচ্ছে, পাক প্রশাসন তা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার কাজে লাগাবে বলে জমিয়ে রাখছে। শুধুমাত্র বারাক ওবামা-ই নন, ১৯৫০ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানকে যে পরিমাণ অস্ত্র সাহায্য করেছেন আন্তর্জাতিক বাজারে তার মূল্য অন্তত চার হাজার কোটি মার্কিন ডলার। দু’দিকেই তাল দিচ্ছে আমেরিকা। ভারতকে বলছে পাশে আছি, আবার পাকিস্তানের কাছে বিপুল অস্ত্র বিক্রি চালিয়ে গিয়েছে পেণ্টাগণ। এমনই মনে করছে সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি বড়সড় সামরিক চুক্তিতে (লজিস্টিকস এক্সচেঞ্জ মেমোরেন্ডাম অব এগ্রিমেন্ট বা লেমোয়া) আবদ্ধ হয়েছে ভারত ও আমেরিকা। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ এবার থেকে পরস্পরের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। ফলে পেন্টাগনের বলয়ে ঢুকে পড়া মোদির ভারতের পাশে আমেরিকা। স্বাভাবিকভাবেই উরির ঘটনার পর পাকিস্তানকে চরম শিক্ষা দিতে দিল্লিকে সাহায্যের বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। সূত্রের খবর, শীঘ্রই পেণ্টাগণের পক্ষ থেকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হবে জাভেলিন অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল প্রস্তুত করার টেকনোলজি। ভারতীয় সংস্থা টাটা পাওয়ার এসইডি ও মার্কিন জাভেলিন জয়েন্ট ভেনচারের মধ্যে হতে পারে এই মিসাইল তৈরির চুক্তি। ভারতকে জঙ্গি দমনে সাহায্য করে দিল্লির সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বের অন্য মাত্রা দিতে চাইছে ওয়াশিংটন।

তথ্য বলছে, ভারতকে অস্ত্র রপ্তানিতে গত বছরই রাশিয়াকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল আমেরিকা। এর মধ্যে পাকিস্তানকে রাশিয়া এম আই-৩৫ বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ায় দিল্লির বিরক্তিও নজরে এসেছে পশ্চিম দুনিয়ার। ফলে দ্রুত উলটে গিয়েছে এই উপমহাদেশকেন্দ্রিক রণকৌশল। পৃথিবীর অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সামনে এই মুহূর্তের বাস্তবতা এটাই। প্রতিরক্ষাকে মজবুত করার যুক্তিতে বিরাট কেনাকাটার রাস্তায় মোদির ভারতও। আর সেই কারণেই গত আড়াই বছর ধরেই ভারতের অস্ত্র-বাজারে আরও বেশি করে ঢোকার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়ে এসেছে ওয়াশিংটন। গত এক দশকে ভারতের সঙ্গে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র-চুক্তি হওয়ার পরেও এ ব্যাপারে আমেরিকার ‘প্রত্যাশা’ কমেনি। বরং মোদি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তাদের প্রত্যাশার মাত্রা যে বেড়ে গিয়েছে, আমেরিকার তরফে সরাসরি বা পরোক্ষে তা বেশ কয়েক বার বুঝিয়েও দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য একটাই: ভারতের অস্ত্র বাজার।

jf-17-13-large

রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান: ত্রিভুজ শক্তি গড়ার চেষ্টায়

গোটা দুনিয়া তাকিয়ে ভারত-পাক সীমান্তে যুদ্ধের আবহের দিকে। চারদিকে হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র ব্যবসার গন্ধ! পাকিস্তানের দরজায়ও টোকা মারছে চীন, রাশিয়া। ইতিমধ্যে চীনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে ২৫০টি জেএফ– ১৭ যুদ্ধ বিমান দেওয়ার চুক্তি হয়েছে। এই বিমান গুলি এক পাইলট দ্বারা চালিত ও বহু রকমের কাজের উপযুক্ত। এগুলি স্টেলস্ প্রযুক্তি সমৃদ্ধ। এই ধরনের একেকটি বিমানের দাম প্রায় এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ ডলার। সেই ১৯৯৯ সালে পাকিস্তান ও চীন এই ধরনের বিমান এক সঙ্গে তৈরি করার জন্য চুক্তি করেছিল। লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পশ্চিমের উপরে নির্ভরতা কমানোর। পাকিস্তান চীনের কাছে ৫২০টি ডুবো জাহাজ কেনার বিষয়েও চুক্তি সম্পন্ন করেছে। সামরিক সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান তার দীর্ঘদিনের ‘আর্মস পার্টনার’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রমেই সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাঁদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র-ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়ে এরই মধ্যেই বেজিংয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ইসলামাবাদ।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও অস্ত্রের ক্রেতা ছিল ভারত। ১৯৫০ সাল থেকে ভারত তার অস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি করত রাশিয়ার থেকে। পাকিস্তান করত মোট অস্ত্রের মাত্র ২ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র সম্পূর্ণ উলটো। ভারতের সঙ্গে এখন আমেরিকা ও ইজরায়েল গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে। ফলে নিজেদের অস্ত্র ব্যাবসা টিকিয়ে রাখতে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে রাশিয়াও। অভিযোগ, গোপনে পাকিস্তানকে ভয়ঙ্কর অস্ত্র দেওয়া শুরু করেছে রাশিয়া! ইতিমধ্যে রাওয়ালপিন্ডিতে গোপনে পাকিস্তান এবং রাশিয়ার চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের কাছে এমআই-৩৫ হেলিকপ্টার বিক্রি করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। ভারত-আমেরিকার পালটা শক্তি হিসাবে রাশিয়া, চীনকে নিয়ে শক্তিশালী ত্রিভুজ শক্তি গড়ার চেষ্টায় পাকিস্তান।

1021111021

‘প্রতিটি বন্দুক তৈরি, প্রতিটি রণতরী জলে ভাসানো, প্রতিটি রকেটে আগুন ধরানোর অর্থ শেষ পর্যন্ত হল— যাঁরা ক্ষুধার্ত, যাঁদের খাবার নেই, যাঁরা শীতে কুঁকড়ে রয়েছেন, যাঁদের শীতবস্ত্র নেই, আসলে তাঁদের থেকে চুরি করা।’ একথা বলেছিলেন মার্কিন রিপাবলিক্যান রাষ্ট্রপতি আইজেনহাওয়ার।

ইতিহাস জানে, সাম্রাজ্য তার আধিপত্য অটুট রাখতে বরাবরই ভরসা রেখেছে সামরিক শক্তির ওপর। এরজন্য অস্ত্র চাই। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এটাই দস্তুর। রোম সাম্রাজ্যের ক্ষেত্রে তা যেমন সত্য, তেমনই সত্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে। এমনকী তা সত্য এই একুশ শতকের মার্কিন, চীন, রুশ, ফরাসি সাম্রাজ্যেও।

অস্ত্রের কারবারীরা চায়, বিশ্বজোড়া সামরিক আধিপত্য। চায় পৃথিবীর প্রত্যেক কিলোমিটার জমিতে থাকবে তাদের যুদ্ধ বিমান-মিসাইল, প্রতি ইঞ্চি জমি থাকবে তাদের বিক্রি করা ক্ষেপণাস্ত্র পাল্লার মধ্যে। তারজন্য চাই দুনিয়াজুড়ে যুদ্ধের বিজ্ঞাপন!

আর তাই চারদিকে একটাই আওয়াজ: হল্লা চলেছে যুদ্ধে!