ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

অধিকার নামক আপাদমস্তক বিএনপি দলীয় মানবাধিকার সংগঠন আজ এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এ রিপোর্টে দেখানো হয়েছে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৯৫টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মূলত আইনপ্রয়োগকারি সংস্থার দিকে এর দায় দেয়া হয়েছে এবং এদের বিচারের মুখোমুখি করতে বলা হয়েছে। ঘটনা যে ঘটেনি তা নয়। তবে এদের অধিকাংশই বিএনপি ও বিশদলীয় জোটের সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় বাসে বা ট্রাকে আগুন দেয়ার সময় গুলি চালানো বা এ সময় গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে অভিযানের সময় গুলিতে মারা পরেছে। রিপোর্টে এবিষয়ে কোন উল্লেখ নেই। অবশ্যই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেশে বন্ধ হওয়া উচিৎ।

জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত আন্দোলনের নামে বিএনপি যে “বিচারবহির্ভূত” হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে নিরীহ জনগণের উপর সে বিষয়ে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে “রাজনৈতিক সহিংসতা” এবং এতে মারা গেছে ১৩৭ জন। এটাতো কোন রাজনৈতিক সহিংসতা নয়। ঠাণ্ডা মাথায় নিরীহ হত্যাকাণ্ড। সে সময় বিএনপি ও জামায়াত রীতিমতো জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। একটি অনৈতিক ও অবাস্তব একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। বাসের নিরীহ যাত্রী, ট্রাকের ঘুমন্ত ড্রাইভার ও হেলপারকে প্র্রেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে মারবে আর রাস্ট্রের অর্থে চালিত সরকার ও আইনপ্রয়োগকারি সংস্থা কোন ব্যবস্থা নেবে না তা কোন ভাবেই কাম্য হতে পারে না। এ সন্ত্রাসিদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা না নেয়াটাই অপরাধ। সরকার এক্ষেত্রে অনেক সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। ৯৪ দিনের সহিংস আন্দোলনে হাজারো মানুষের কান্না কি এ সকল দলীয় মানবাধিকার সংগঠন কি শুনতে পাবে? রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে নিরীহ জনগণকে কেন জিম্মি করা হবে? তারা নাকি সর্বময় ক্ষমতার উৎস? দেশের সম্পদ কেন জ্বালিয়ে দেয়া হবে? রেললাইন কেন উৎপাটন করা হবে? এটা কেমন জনগণের জন্যে আন্দোলন? রাজনৈতিক দেউলিয়ার কারণেই সাধারণ জনগণের আজকের এ ভোগান্তি।

প্রায়শই দেখা যায়, কোন এক সন্ত্রাসি নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেলে এলাকার মানুষ স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে, মিষ্টি বিতরণ করে। জনগণ এটিকে অনেকসময় মেনে নেয়। এসুযোগে অবশ্য কিছু সুযোগসন্ধানী লোক কাজে লাগিয়ে নিজেদের আখেরও গুছিয়ে নেয়। কিছু যে ব্যত্য় ঘটে না তা নয়। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনা এমনি একটি। সরকার এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তবে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে বলে মনে করি।

দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনের নামে সহিংসতাও বন্ধ হতেই হবে। কোন প্রকার ছাড় দেয়া যাবে না এদের। অধিকার’র রিপোর্ট আসলে আমলে নেয়ার কিছু নেই। ৫ই মে’র হেফাজতের জমায়েত নিয়ে এরা যে মিথ্যে রিপোর্ট করেছিল তা আজ সকলেরই জানা। এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমান ইতিমধ্যেই মিথ্যা রিপোর্টের দায়ে বিচারের মুখোমুখি। বর্তমানে জামিনে আছে। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক যিনি “রিফ্যুজি এন্ড মাগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ” নামক আরো একটি সংগঠনের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর। এ সংগঠনটি আড়ালে মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের অনেক রকমের অনৈতিক সাহায্য করে বলে অনেকের ধারণা।

জুন ০২, ২০১৫
লন্ডন, যুক্তরাজ্য