ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আমার ছেলে তখন ব্রিটেনে ক্লাশ টু’র ছাত্র। এক সময় আমার ঘর ছিল লন্ডনের ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেড ফুডবল ক্লাবের পাশে। একটি ম্যাচ নিয়ে দুই টীমের ভক্তদের মাঝে তুমুল হাতাহাতি, হট্টগোল। পুলিশের হর্স বাহিনীর টহল চলছিলো। আমার বাচ্চা ঘরের জানালা দিয়ে এই প্রথম মারামারি আর পুলিশের অ্যাকশন অবলোকন করছিলো। আমাকে বলেঃ আব্বু, এদেশের পুলিশ হাতের লাঠি কেনো ইউজ করে না? আমি জবাব দিলামঃ তুমি তোমার ছোট ভাই মাহরুস আর মাশকুরকে কেন আঘাত করো না? সে বললঃ ‘ওরা তো আমার ভাই। ওদের নিরাপত্তা দেয়া আমার দায়িত্ব’। আমি বললামঃ ‘ এদেশের পুলিশ তোমার মত একই কাজ করছে। এবার তার প্রশ্নঃ তাহলে আমার দাদু বাড়ীর (বাংলাদেশের) পুলিশ এতো রুড কেনো? আমার জবাব নেই।
তার ক’দিন পর আমার ছেলে এন টি ভি’র নিউজ শেষে আবার প্রশ্ন করলঃ দাদু বাড়ির পুলিশটি এক কাকাকে ( বিরোধী দলের চীফ হুইফ) শূয়রের বাচ্চা বলে গালি দিতে দিতে লাঠি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিলো কেন? আমার জবাব নেই।

গুলশান/ বনানীর পুলিশের এক এস আই যিনি নাকি ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হবার ঘটনার তথ্য দিতে পারবেন। সে এস আই’র নিখোঁজ হবার খবর শুনে আমার ছেলে আবার প্রশ্নঃ আব্বু পুলিশের হাতে কেন পুলিশ হারায়? আমার জবাব নেয়।

আমার ছেলের এক ক্লাশ মেডের বাবা পুলিশে চাকুরী করে। এ পরিচয় পাবার পর আমার ছেলে তার ফ্রেন্ডকে বললঃ আমি তোমার আব্বুকে দেখতে চাই। কারন এদেশের পুলিশ খুব ভদ্র। সে বাংলাদেশে তার খালামনিকে পুলিশ অফিসারের কাছে বিয়ে না দেয়ার জন্য তাঁর নানুকে কয়েক বার তাগাদা দিয়েছে।

ঢাকা ভার্সিটির এক অধ্যাপক (আমার কলিগ) লন্ডনে আমার বাসায় আসার পথে তার পাসপোর্ট হারান। পুলিশকে রিপোর্ট করে ঘরে ফিরতে না ফিরতেই আমার ঘরে এসে স্যার দেখেন পূলিশ আমার ঘরে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে। স্যার আর আমার পুত্র দুজনেই বেজায় খুশী। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ২ মাসের মাথায়, আর সাগর রুনি হত্যার ৪ মাসের মাথায় কোন কুলকিনারা না পাওয়ায় আমার ছেলের অনেক প্রশ্ন। পুলিশ কী করছে? আমার জবাব নেই।

আমার বাসার সামনে দুই তরুণ মারামারি করছিল। হঠাৎ পুলিশ এসে দুজন কে থামিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করলঃ আর ইউ অল রাইট? তারপর অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হসপিটালে পাঠিয়ে দিল। আর তার দাদু বাড়ির পুলিশকে নয়াপল্টন ইসলামী ব্যাংকের সামনে এক দাঁড়ীওয়ালার বুকে বুট দিয়ে আঘাত করতে দেখে। আমাকে নানান প্রশ্ন করে। আমার জবাব নেই।

ওয়েলসের এক মসজিদের দখল নেয়ার জন্য একদল বাঙ্গালী ফ্রোডের আশ্রয় নেয়। হাতাহাতি করে। মাইক কেঁড়ে নায়। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ বললঃ এটি তোমাদের কমিউনিটির নিজস্ব ব্যাপার। তোমরাই এর সমাধা কর। আর বাংলাদেশের পুলিশের মন্ত্রী তত্বাবধায়ক ইস্যুতে আন্দলনকারীদেরকে কঠোর হাতে দমনের কথা কাজে পরিনত করার পর আমার ছেলে অনেক প্রশ্ন করল। আমি জবাব দিতে পারলাম না।

এক পুলিশ আমার সাথে কথা বলার আগে ‘ এক্সকিউজ মি স্যার, ক্যান আই টক টু ইউ? আমার ছেলে আমাকে প্রশ্ন করলঃ তুমি কি তাঁর টিচার? আমি বললামঃ না। তাহলে তোমাকে সে স্যার বলল কেন? তখন আমি বললামঃ সকল ভদ্র লোক জনাব বা স্যার বলে মানুষ কে এড্রেস করে। আশুলিয়ায় শ্রমিকের বেদম প্রহর করার সময় শ্রমিকগন ‘স্যার -আমাকে বাচান’ বলে মিনতী করতেছিল। লোক টি কেন তাকে স্যার বলছে?- আমি জবাব দিতে পারিনি।