ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গান্ধীজীর তিন বানরের কথা নিশ্চয় সবাই শুনেছেন। একটি অন্যায় দেখে না, অন্যটি অন্যায় শুনে না এবং অপরটি অন্যায় বলে না। আমারা আজ ঐ বানরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছি যে অন্যায় দেখেও দেখি না, নিপীড়িতের আর্তচিৎকার শুনেও শুনি না আর এর প্রতিবাদ জানানোর জন্য কিছু বলিও না। তবে সবার মধ্যে ব্যাতিক্রম একটি নাম হল— হিমাদ্রী। পেশায় শিক্ষক প্রবীর কুমার মজুমদার এর বড় ছেলে ছিলেন হিমাদ্রী মজুমদার হিমু। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল সামার ফিল্ডের “এ” লেভেলের ছাত্র হিমাদ্রী। শুরু থেকে তার মাঝে দেশাত্ববোধ ও দেশের জন্য কিছু করে যাওয়ার একটা ইচ্ছা ছিল। নিজের ইছছের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে সে যুক্ত হয় “শেকড়” এর সাথে। “শেকড়” – চট্টগ্রামস্থ পাচলাইশ এলাকায় ঘটমান মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি সহ যে কোন অপরাধ নির্মূলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতাকারী সংগঠন। হিমাদ্রী দুই বছর আগে শেকড় এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এর সাথে জড়িত। খুব কম সময়ের মাঝে হিমাদ্রী সংগঠনে তার অপরিহারজতা প্রমাণ করে। তবে এটিই তার জন্য কাল হয়ে দাড়ায়।

গত ২৭ এপ্রিল হিমাদ্রীকে ডেকে নিয়ে যায় পূর্ব পরিচিত রিয়াদ, সাজু, ড্যানি ও সাওন। এরা সবাই মাদকাসক্ত ছিল এবং হিমাদ্রী এর সাংগঠনিক কার্যকলাপ তাদের ফুর্তিতে বাধা দেয়। ফলে তারা হিমাদ্রীকে মাস্টারমাইন্ড কারিকুলাম ভবনের তৃতীয় তলায় রিয়াদের বাসাই নিয়ে যাই। সেখানে তারা তাকে বেধড়ক পিটায় এবং তাকে ছাদে নিয়ে একই দৃশ্যের অবতারণা ঘটায়। বিল্ডিং এ তাকে টেনে হিঁচড়ে উপরে তুলতে, আসে পাশে তিনটি দোকানে লোকজন সকলে খেয়াল করলেও রিয়াদ প্রভাবশালীর ছেলে হয়ায় কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাইনি। এইদিকে হিমাদ্রীকে পেটানোর পর ছাদে তার উপর তিনটি হিংস্রপ্রজাতির ডোভারম্যান কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয়। তবে ডোভারম্যান কুকুরের চেয়ে ও হিংস্র তাদের মনোভাব তুষ্ট না হওয়ায় তারা হিমাদ্রীকে পাচতলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। ২৬ দিন মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর হয়ে ২৩ মে হিমাদ্রী মৃত্যু বরণ করে। হিমাদ্রীর মামা প্রকাশ দাশ অসিত বাদী হয়ে উল্লেখিত চার জনসহ রিয়াদের বাবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

তবে হিমাদ্রী আহত হওয়ার পরপরই তার পরিবার মামলা করতে চাইলে মামলা দায়ের না করে শুধু একটি অভিযোগ নেওয়া হই মাত্র। প্রশ্ন জাগে কেন তখন মামলা গ্রহণ করা হল না ? কেন হিমাদ্রীর মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করা হল ? কেন সুযোগ করে দেওয়া হল অভিযোগীদের পালিয়ে যাওয়ার ? হয়ত পুলিশ তখন কোন সাংবাদিক অথবা শিক্ষকে লাঠি পেটা করতে অথবা কোন শান্তি পূর্ণ শোক মিছিলকে বাধা প্রদান করতে ব্যস্ত ছিল।

যাই হোক, আই কথা নিশ্চিত হিমাদ্রী আজ আমাদের মাঝে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মত করে গড়ে উঠত। দেশকে মাদকামুক্ত, দুর্নীতি মুক্ত করার সপ্ন নিয়ে সোচ্চার ভুমিকা পালন করত। অন্য দিকে যারা তাকে হত্যা করেছে যদি তাদেরকে কাঠগড়ায় দাড় না করানো হয় তবে তারা হবে ভবিষ্যতে দেশের কালো দাগ। দেশকে জড়িয়ে দিবে দুর্নীতি ও মাদকের শেকলে।
আসুন, আমারা হিমাদ্রীরির আত্মত্যাগকে সফল করে তুলি। তার শরীর থেকে নিঃসৃত রক্তকে অনুপ্রেরণা হিসাবে গ্রহণ করে মাদকে দেশ থেকে উচ্ছেদ করতে এগিয়ে আসি।