ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

ছোট বেলায় অ আ ই ঈ শিখতে শিখতে এক সময় শিখেছিলাম ঁ (চন্দ্রবিন্দু)। তখন পড়ে‌ছিলাম বা জেনেছিলাম নাকের সাহায্যে কোন উচ্চারণে ঁ (চন্দ্রবিন্দু) উচ্চারণ করতে হয়। । চন্দ্রবিন্দু দিয়ে চাঁদ হয়। “আয় আয় চাঁদ মামা” কবিতাও এর সাথে সাথে শিখেছিলাম।
যাক সে কথা। নদীর জল অনেক গড়ালো। ‘সে’ ‘তিনি’ ‘তারা’ ও শিখলাম। এরা নাকি সর্বনাম। নামের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। বারে বারে যদি নাম লিখতে হয় তবে তার বদলে আমরা এগুলো লিখতে পারি। কি সহজ কথা। বারে বারে নাম লেখা কি যে কষ্টের। তা দুর করলো এই সর্বনাম।

একদিন আমাদের বাংলা ম্যাডাম আমাদের বললো, কি চাও তোমরা- বধূ না বধূঁ? আমরা তো অবাক। দুটোই তো বধূ। একটি তে আবার চন্দ্রবিন্দু কেন?

সে দিনই জানলাম ঁ ( চন্দ্রবিন্দুর) মর্মার্থ। অবাক হলাম শুনে। কি গুন, ক্ষমতাধর একটি ছোট চাঁদের। যার তার মাথায় এটি থাকে না। শুধু মাত্র সম্মানীয় ব্যক্তির নাম ব্যবহার করা হলে তার সর্বনামে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করা হয়। অবাক কান্ড। এমনও হয় নাকি?

আমাদের ম্যাডামও সেদিন আমাদের বোঝালো বধূ আর বধূঁর পার্থক্য। বিয়ে করলে বধূ পাওয়া যায়। তারা কর্তব্যের খাতিরে সংসার ধর্ম পালন করে। বউ হয়েছি তাই ঘর সংসার পালন করছি, ভাবটা এমন। কিন্তু বধূঁ?

সে অনেক বড় পাওয়া। এখানে শুধু কর্তব্যের খাতিরেই সংসার ধর্ম পালন করা হয় এমন নয়, এর সাথে সাথে থাকে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা।

আমরা সবাই জানালাম, আমরা বধূঁই চাই, বধূ নয়।

আমরা সেদিন আরো জানলাম চন্দ্রবিন্দু এমনি এমনি জোটে না, তাকে জোটাতে হয়। এর জন্য চাই কঠোর পরিশ্রম, কাজে চাই একাগ্রতা, মনোযোগ, অধ্যাবসায়। অনেক ত্যাগ স্বীকার করে এক একটি চন্দ্রবিন্দু জোটাতে হয়।

কিন্তু একবার চন্দ্রবিন্দু জোটাতে পারলেই তো হবে না, তাকে ধরে রাখতে হবে। যে কঠোরতার মধ্য দিয়ে আমরা চন্দ্রবিন্দু জোটাতে পারি, তার চেয়ে বেশি কঠিন হলো ধরে রাখা। পদে পদে মানুষ আপনাকে ঠকিয়ে নিয়ে নিতে চাইবে অর্জিত চন্দ্রবিন্দু। তার জন্য প্রয়োগ করবে নানান কুটিলতা, ষড়যন্ত্র। এদের বিরুদ্ধে দাড়াতে না পারলে হাত ফসকে ছুটে যাবে অর্জিত চন্দ্রবিন্দু।

এমন অনেক উদাহরণ আছে, যাতে আমরা দেখতে পাই, কিছু লোক বিখ্যাত হয়েছিল, তথা চন্দ্রবিন্দু জোটাতে পেরেছিল, কিন্তু তারা কিছু কাজে মাধ্যমে তা হারিয়েও ফেলেছে। যেমন- আমাদের একজন বিখ্যাত লেখক তার মেয়ের বয়সী……। যাক এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু তিনি যে চন্দ্রবিন্দু জোটাতে পেরেছিলেন তা একটি মাত্র কাজের মাধ্যমে হারিয়েও ফেলেছে।

এমন উদাহরণ আমরা আরো দিতে পারি। থাক আর উদাহরণ নাই বা দিলাম, কি হবে এতো কথা বলে। তাই যা বলতে এসেছিলাম তাই ছোট করে বলি-

চন্দ্রবিন্দু তা যতই ছোট হোক না কেন, অর্জন করতে যতটা কষ্টের, ধরে রাখা তার চেয়েও বেশি কষ্টের।