ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

গত কয়েকদিনের পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, দেশের তৈরি দোয়েল (ল্যাপটপ) বাংলার আকাশে উড়বার জন্য প্রস্তুত। যেটি কম মূল্যে পৌঁছে দেয়া হবে সকলের হাতে। আমাদের জন্য এটি একটি সুখের খবর। আমরা যারা খুব বেশি দামে কম্পিউটার কিনতে পারিনা, আবার কাজের জন্যে কম্পিউটারও জরুরী তাদের জন্য সোনায় সোহাগা।

একটি পাখির জন্য যেমন তার ডানার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তেমনি একটি কম্পিউটারের জন্য জরুরী হলো তার অপারেটিং সিস্টেম। অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া কোন কম্পিউটারে কাজ করা যায়না। আমরা সাধারনত যে সমস্ত কাজ করে থাকি তার জন্য অপারেটিং সিস্টেম অপরিহার্য। তবে যারা কম্পিউটারে অনেক বেশি পারদর্শী তাদের কথা হয়তো আলাদা। কিন্তু আমরা ঐ পর্যায়ে পড়ি না। তাই আমাদের একটি অপারেটিং সিস্টেম প্রয়োজন।

যতদুর জানি তাতে মনে পড়ে বাজারে কয়েক ধরনের অপারেটিং সিস্টেম প্রচলিত। এর মধ্যে এক ধরনের অপারেটিং সিস্টেম আছে যা আমাদের অর্থ দিয়ে কিনে নিতে হয়। আবার আরেক ধরনের অপারেটিং সিস্টেম আছে যা আমরা বিনামূল্যে পাই। তবে বিনামূল্যে যে অপারেটিং সিস্টেম পাওয়া যায় তা, দাম দিয়ে যে অপারেটিং সিস্টেম পাওয়া যায় তার চেয়ে কোন অংশে কম নয়। এই ধরনের অপারেটিং সিস্টেম যাকে লিনাক্স বলা হয় তা দিয়ে একজন ব্যবহারকারী নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারেন। লিনাক্স এখন গ্রাফিকাল উইজার ইন্টারফেস সমৃদ্ধ অর্থাৎ কম্পিউটারে কাজ করার জন্য বা কমান্ড দেয়ার জন্য কিছু লিখতে হয়না। শুধু মনিটরে ছবি দেখে তাতে ক্লিক করলেই কাজ করা যাচ্ছে। যেমন টা আমরা উইন্ডোজে করতে পারি।

লিনাক্সের ব্যাপারে অনেকে বলে থাকেন যে, এতে নাকি অন্যান্য কাজের প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সহজে ইনস্টল করা যায়না। তাদেরকে বলা যায় যে, উইন্ডোজের মতো সংক্ষিপ্ত কয়েকটি কমান্ড দিয়ে সহজেই যে কোন সফটওয়্যার ইনস্টল করা যায়। যেমন- লিনাক্সের একটি ডিস্ট্রো- ফেডোরাতে আপনি কমান্ড লাইন বা Add/ Remove Software থেকে সহজেই যে কোন সফটওয়্যার ইনস্টল করতে পারেন। কমান্ড লাইন ব্যবহার করতে চাইলে শুধু মাত্র লিখতে হবে-yum install * (* যে সফটওয়্যার ইনস্টল করতে চাই তার নাম)। আর উবুন্টুতে আছে উবুন্টু সফটওয়্যার সেন্টার। যেখানে কাজের উপযোগী সকল ধরনের সফটওয়্যার বিদ্যমান। তবে এ কাজের জন্য প্রয়োজন পড়বে ইন্টারনেট এর। তবে আশার কথা সফটওয়্যার ইনস্টলের জন্য কোন সিরিয়াল কী বা কোন রেজিস্ট্রেশন এর জন্য টাকা প্রয়োজন পড়বে না। শুধু মাত্র ইন্টারনেট এর বিল ছাড়া। তবে চাইলে আপনি লিনাক্স কমিউনিটি ফোরাম থেকে এর জন্য সহায়তা পেতে পারেন।

কয়েকদিন আগে পত্রিকার মাধ্যমে আমাদের একজন প্রযুক্তিবিদের ভাবনা জানলাম। তিনি বলতে চেয়েছেন,

”সরকারি এ কম মূল্যের ল্যাপটপ আনা হয়েছে যে শ্রেণীর মানুষের জন্য তারা ওপেনসোর্স লিনাঙ্ বা অ্যানড্রয়েড বুঝবেন কি না তা একবারও ভেবে দেখা হয়নি। সাধারণ মানুষ উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমেই অভ্যস্ত। ওপেনসোর্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে তারা বাস্তবতাবর্জিত একটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। সরকার চাইলে তো মাইক্রোসফটের কাছ থেকে অনেক কম মূল্যেই ‘বাল্ক’ হিসেবে অপারেটিং সিস্টেম কিনতে পারত। আর এ অল্প টাকা ল্যাপটপের দামের সঙ্গে যুক্ত হলে ক্রেতাদের খুব বেশি সমস্যা হতো না। কিন্তু সম্পূর্ণ অপরিচিত এ অপারেটিং সিস্টেমটি দেখে কম্পিউটারকে ‘কঠিন’ বলে মনে করবেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। তাদের মধ্যে কম্পিউটার-ভীতি তৈরি হবে বলে মনে হচ্ছে।”

[লিংক]

এ বিষয়ে বলা যেতে পারে- একজন ব্যবহারকারী যখন প্রথম কম্পিউটার ব্যবহার করবে তখন তার কাছে উইন্ডোজ ও যা লিনাক্স ও তা। দুটোই সমান কঠিন বা সহজ হবে। তাই সাধারণ মানুষ যে অপারেটিং সিস্টেমেই অভ্যস্ত থাকুক না কেন তা নতুন ব্যবহারকারীর উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। তাই যারা কোন দিন কম্পিউটার ব্যবহার করেনি তাদের কাছে ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম(!!) কে কখনই মাইক্রোসফট এর তুলনায় কঠিন বলে মনে হবে না। এছাড়া যেখানে আমরা একটি অপারেটিং সিস্টেম বিনামূল্যে পাচ্ছি সেখানে কেন মাইক্রোসফট এর কাছ থেকে কিনতে হবে। আমরা কেন ঐ অল্প পরিমান টাকাও তাদেরকে দেব??

বরং যাতে করে সকলে অত্যন্ত কম মূল্যে কম্পিউটার পায় তার জন্য আমাদেরকে ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে এ জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেমন ল্যাপটপটির কাভার বা এ ধরণের আরো আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ দেশেই তৈরি করা যায় কিনা? আমাদের নিজেদের কোন অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা যায় কিনা ? OLPC এর মতো আরো কম দামে শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ তৈরি করা যায় কিনা? ইত্যাদি।

আর সবচেয়ে বড় কথা দোয়েলের ডানাকে রাখতে হবে মুক্ত, যাতে কোন লাইসেন্স ‘কী’এর বেড়াজালে পড়ে তাকে মুখ থুবড়ে পড়তে না হয়। দেখতে হবে দোয়েল যেন উড়ে বেড়াতে পারে যেকোন বাধা বিঘ্ন ছাড়াই। অর্থাৎ মুক্ত করতে হবে দোয়েলের ডানাকে। যাতে করে দোয়েল আমাদের আকাশের সাথে সাথে অন্য দেশের আকাশও জয় করতে পারে।

***
ফিচার ছবি: আন্তর্জাল