ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

bongobondhu

তাঁর একটি ভাষণ বাঙালির হৃদয়ে দিয়েছিল দোলা। তাঁর একটি আঙ্গুলের নির্দেশে বাঙালি দেখেছিল ‘স্বাধীনতার সকল দুয়ার খোলা’। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পাকিস্তানে।

কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় তাঁর জন্য খোড়া হয়েছিল কবর। প্রস্তুত করা হয়েছিল ফাঁসির মঞ্চ। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে মেরে ফেল, আপত্তি করবো না। শুধু আমার লাশটা বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিও।’

এমন দৃঢ়তা ও সাহসের সঙ্গে যিনি বাংলা ও বাঙালির জন্য মৃত্যুকেও হাসি মুখে গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি আর কেউ নন। তিনি এই বাংলার বন্ধু, বাঙালির বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালে টানা নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ধ্বংস স্তূপের উপর বাঙালি বিজয়ের নিশানা উড়িয়েছে। সেই বিজয় আনন্দে বাঙালির একমাত্র না পাওয়া ছিল ‘বঙ্গবন্ধু’।

কারণ, তিনি তখন পাকিস্তান কারাগারে। অবশেষে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৩ ঘণ্টার ঐতিহাসিক আকাশযাত্রায় লন্ডন হয়ে দিল্লি আসেন বঙ্গবন্ধু। সেখান থেকে ১০ জানুয়ারি স্বদেশের বুকে ফিরে আসেন। তাঁর সেই স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের দিনটি ছিল বাঙালির প্রকৃত বিজয়ের দিন।

সেদিন ‘নেতা’ এবং ‘স্বাধীনতা’ দুটোই পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই থেকে এ দিনটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আজ ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি, কালের আবর্তে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এলো স্মৃতিময় সেই দিনটি।