ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

একদম সুন্দর,নিরিবিলি,ঝামেলাহীন চিরচেনা পথের বিষয়েও যদি কেউ বলে ওই রাস্তার অমুক স্থানে ভুত দেখা গেছে। ভুত আসলেই দেখা গেছে কিনা সেটা প্রমান না হলেও,সেই চিরচেনা পথে একা চলতে গেলে ভয় ভয় লাগবে বা,কেউ কেউ হয়তো ওই রাস্তায় চলতেই চাইবেন না। এই সংশয়,এই ভয় যেমন মোটেও অমুলক নয়, ঠিক তেমনি পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগের পর নিজস্ব অর্থায়নের তহবিল নিয়ে সংশয় ও অবান্তর কিছু নয়, বরং স্বাভাবিক।

তাই অন্য অনেকের মতো আমি ও কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত, আসলেই কি সম্ভব, নিজেদের উদ্যেগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো নির্মান? নাকি শুধুই ফাঁকা বুলি যা গত তিন বছর বা তারও আগে থেকে শুনে আসছি। তারপরও মনে আশা জাগে এই ভেবে জাতি হিসাবে আমরা অনেক অসাধ্য সাধন করেছি যখন সমস্ত দ্বিধা, সংশয় কাটিয়ে সবাই এক হয়েছি।যেমনটা করেছি ৫২,৭১,৯০ তে, এমনকি ৯৮ এর বন্যা , ২০০৭ এর সিডর, ২০০৯ আইলা সবই প্রতিরোধ করেছি নিজেদের অদম্য সাহস আর সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। আজ দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বে একটি মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত।তাহলে আমরা কি পারবো না আজ আমাদের একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দুর্নীতি নামক দুর্নাম,দুর্যোগ প্রতিরোধ করে নিজেদেরকে আর একটু উচুতে তুলে ধরতে?

পদ্মা পাড়ের মানুষ হিসাবে আমি এখনও আশাবাদী হতে চাই, স্বপ্ন দেখি ১০ মিনিটে নদী পাড় হয়ে ২/৩ ঘন্টা আগে বাড়ী যেতে পারবো, বাড়ী থেকে এসেই আফিস করবো, আরও কত ক। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ যখন আমাদের অংশগ্রহন অনিবার্য হয়েছে তখন কি আমরা আমাদের সংশয়,সন্দেহের কাছে হার মানবো?! কিন্তু তা কিভাবে হ্য় ? আমাদের পুর্ব পুরুষদের মনেও তো সংশয় ছিল ৭১ এ, তারপরও তো তারা হার মানেনি, জয় ছিনিয়ে এনেছে একটা পেশাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তাহলে আজ এতদিন পরে এসে আমরা কেনো পারবো না ?

অনেকে বলবেন এসব আবেগি কথবার্তা দিয়ে সবকিছু হয় না।আমিও একমত আবেগ দিয়ে সব হয়না, তবে এটা শুধু আবেগ নয়, আমরা যদি উদ্যোগ নেই তবে তা উদ্যমে পরিনত হয়, তা ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

সেতু বাস্তবায়ন হবে ৪/৫ বছরে সুতরাং প্রতিবছর ৪/৫ হাজার কোটি টাকা যোগান দেয়া আমাদের বর্তমান অর্থনীতির জন্য খুব বড় চাপ নয়।বরং আমাদের প্রবাসী ভাইয়েদের রেমিটেন্স, রপ্তানী খাতের বর্তমান ধারা সহায়ক ভুমিকা রাখবে।

অনেকের প্রশ্ন এই টাকা কিভাবে খরচ হবে, বর্তমান সরকার/আমলাদের প্রতি সেই আস্থা নেই মানুষের।আমি বলবো ,আমরা একটা সমাধান হিসাবে ড:জামিলুর রেজা সহ দেশের কিছু স্থাপত্য বিশারদের নিয়ে একটা টেকনিক্যাল কমিটি করা যেতে পারে, যেখানে দুদক, টিআইবি সহ সব সংসদীয় দলের একজন/দুইজন প্রতিনিধি থাকবে।এই কমিটির তত্ত্বাবধানে টাকা ছাড় হবে,এবং প্রতি তিন মাস অন্তর তারা সংসদে/প্রধানমন্ত্রী/রাষ্ট্রপতির কাছে অগ্রগতি/ব্যায়ের রিপোর্ট দিবে।এই কমিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কাজ করবে।তাহলে সরকার পরিবর্তন হলেও কাজের ধারাবাহিকতা বা আস্থার কোন সমস্যা হবে না।

যদি ও আমাদের দুই দলীয় রাজনীতির কারনে দেশের বিভক্ত বিরোধী শিবিরের মানুষ ভাবতে পারে এখন সেতুর কাজে সাহায্য করলে আওয়ামী লীগের লাভ হবে।আমি বলবো ভাই আসলে লাভ তো হবে আমাদের দেশের।আর আওয়ামী লীগ কাজ শুরু করলেও হয়তো শেষ করতে পারবে না, তাই আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি জয়লাভ করে তবে তারা কাজ শেষ করলে তারা দেশের টাকায় নির্মিত সবচেয়ে বর প্রকল্প উদ্বোধন করতে পারবে, সেটা নিশ্চয়ই কম ব্যাপার না।

অনেকে বলছেন আমার বাড়ি সিলেটে/রাজশাহীতে তাহলে আমি কেনো টাকা দেব? সত্য কথা, আমাদের সবার বাড়ী খুলনা/ফরিদপুর না, তবে আমাদের সবার বাড়ী বাংলাদেশে , আর আমার দেশের গঠনমুলক কাজে আমার অংশগ্রহন করতে পারা গর্বের বিষয়।৭১ এ মুক্তিযোদ্ধারা সারা দেশে লড়েছে কনো এলাকা বিশেষ বিবেচনায় নয়।

আমি বিশ্বব্যংকের অভিযোগকে মিথ্যা ধরে নয়,বরং জাতি হিসাবে আমাদের সক্ষমতা প্রমানের সু্যোগ হিসাবে, নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মানের সমর্থন করি। তাছাড়া বিশ্বব্যংক, আইএমএফ তথা পশ্চিমা বিশ্বের রাজনীতির বেড়াজাল থেকে মুক্ত হওয়া আমাদের জন্য আসলেই জরুরী।

পাদটিকা: পদ্মা সেতুর টাকা তোলা নিয়ে ছাত্রলীগের খুনোখুনি কোনভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়, বরং একটি মহতী স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এ ধরনের ধান্দাবাজদের প্রতিরোধ করতে হবে।নয়তো এক সময় এর উদ্দেশ্য ব্যহত হবে এবং সমলোচনা উস্কে দেবে।সরকার/আওয়ামী লীগ সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এব্যাপারে কঠোর হতে হবে।