ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 
21_PSC_Exam_231114_0005

আমি একটা কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করি। এটি টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার সেরা কিন্ডারগার্টেন (ভিত্তি জিপিএ ফাইভ)। আমি একটা কোচিং সেন্টারেও শিক্ষকতা করি। এটিও মোটামুটি নামকরা একটি কোচিং সেন্টার (ভিত্তি আমার এই কোচিং সেন্টারের ছাত্র-ছাত্রীদের জিপিএ এবং ঢাকা ভার্সিটি, মেডিক্যালসহ অন্যান্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ প্রাপ্তি)। আমার এই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানই আমি। আমি চাই ছাত্ররা শুধু ভাল ফলাফলের জন্য পড়বে না; এরা পড়বে জানার জন্য, জ্ঞানের জন্য, পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত – সর্বত্রই যারা কিছু না কিছু অবদান রাখবে। এজন্য আমি ছাত্র-ছাত্রীদের কোন নোট দেই না; বোর্ড বই পড়াই। পড়ার বাইরেও যে একটা জগত আছে সেই জগতের কথা বলি। স্বপ্ন দেখাই, স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ দেখাই, এবং সাধ্যমত সাহায্য করি।

আমার বিদ্যেয় যতদুর কুলোয় তার পুরোটাই ঢেলে দেয়ার চেষ্টা করি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের। আমার মূল কাজই হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনায়, নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী করা এবং সেদিকে তাদের ব্যস্ত রাখা। সবকিছুই মোটামুটি ঠিকই চলছিল কিন্তু বাধ সাধল যখন দেখি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের একটা অংশ পড়াশুনা করতে চাচ্ছে না। তারা ধরেই নিয়েছে প্রতিবছরই প্রশ্ন ফাঁস হবে, সরকার চেঁচামেচি করবে, জাফর ইকবাল স্যার পত্রিকায় প্রশ্ন ছাপিয়ে দিবে এবং কিছুই হবে না।

আমার ছাত্র-ছাত্রীদের মন খারাপ এজন্য নয় যে তারা প্রশ্ন পায় না বা আমি সংগ্রহ করে দেই না। তাদের মন খারাপ এজন্য যে তারা সারা বছর নিয়মিত পড়াশুনা করে যে ফলাফল করে তার চেয়ে হয়তো যারা পড়ে না তারাও তাদের চেয়ে ভালো ফলাফল করবে। তাদের মন আরো একটা কারণে খারাপ। কারণটা হচ্ছে: পরীক্ষা হলে নাকি চল্লিশটা নৈর্ব্যক্তিক, দশটা শুন্যস্থান ও দশটা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর কোন কোন শিক্ষক সঠিক করে দেন। তাদের আরো মন খারাপ হয় যখন কিছু কিছু শিক্ষক তাদের সঠিক উত্তরটাকে ভুল বলে তাদের কাটাছেঁড়া করতে বাধ্য করেন।

আমি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা জানি না বললে অভিভাবকরা আমাকে নিয়ে টিপ্পনী কাটেন। তাদের দাবী অমুকের ছেলেমেয়ে জিপিএ ফাইভ পাবে। আমার ছেলে না পেলে কি ইজ্জত থাকে? পরোক্ষভাবে তারাও দাবি করেন আমি যেন তাদের সন্তানদের  ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দেখে তার সমাধান করে দেই।

আমার বোঝাতে কষ্ট হয় যে আপনার সন্তানদের আমি এমন ভাবে পড়াই যেন তারা সবই পারে। কেউ বোঝে কেউ বোঝে না। শিক্ষক হিসেবে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের এসব কথায় আমি অসহায় হয়ে পড়ি। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কি কেউ বের করবে না?