ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

003-30

পড়ন্ত বিকেল।সাদামাঠা বসবার স্থানটুকু।কোন মঞ্চ নেই। কোন মাইক্রোফোনের আওয়াজে কারো কানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা নেই। শুধু কবিদের কন্ঠের মর মর ধ্বনি, এই কণ্ঠ কখনো বিদ্রোহী, কখনো আবার প্রেমের কথা বলেছিলো সেদিন। তবে তা ছিলো স্বাধীনতাকে নিয়ে। মিরসরাই থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা “মাসিক মিরসরাই” কার্যালয়। সবাই বসে পড়লেন মেঝেতে। কোন সঞ্চালকও নেই। শুরু হলো তুমুল আড্ডা।

002-3

আড্ডার শুরুতেই অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন আবৃত্তি করেন রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লার “কনসেনট্রেশন ক্যাম্প” কবিতাটি। এরপর কবি সাহাদাত হোসেন লিটন আবৃত্তি করলেন রুদ্রের “বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে”। এভাবেই শুরু হলো মিরসরাই কবিতা পরিষদের নিয়মিত আড্ডা। বিষয় ছিল কবিতায় স্বাধীনতা।

শনিবার (১২ মার্চ) বিকেলে বারইয়ারহাট ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বোরহান উদ্দিনের সভাপতিত্বে আড্ডার ফাঁকে চলছিল আলোচনা। মূল আলোচনা ছিল স্বাধীনতার কবিতা, কবিতায় স্বাধীনতা বিষয়টি। আলোচনায় আসে রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্, আল মাহমুদ, সৈয়দ হকের কবিতা। ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসে কবি শামসুর রাহমানের কবিতা।

এসময় কবি হুমায়ূন মোর্শেদ আবৃত্তি করেন “তোমাকে পাওয়ার জন্যে” শামসুর রাহমানের বিখ্যাত কবিতাটি। তিনি একটি স্বরচিত কবিতাও আবৃত্তি করেন। শারফুদ্দীন কাশ্মীর আবৃত্তি করেন কবি নির্মলেন্দু গুণের “স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো” কবিতাটি। “অভিশাপ দিচ্ছি” শামসুুর রাহমানের এই কবিতাটিও আবৃত্তি করেন তিনি।

কবি ও সাংবাদিক এনায়েত হোসেন মিঠু আবৃত্তি করেন নির্মলেন্দু গুণের ‘সে রাতের কল্প কাহিনী’ কবিতাটি। স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি মাহমুদ নজরুল।

আড্ডায় কিছুটা হলেও প্রান আনে বহুদিনের খরার। মিরসরাইয়ের মত শিল্প, সাহিত্য সমৃদ্ধ একটি উপজেলায় আবার কবিরা মনে করিয়ে দিয়েছে এখানে কবিতারা তাদের মর্যাদায় থাকে, কবিতাদের মনে রাখতে জানে এখানকার কবিরা।

আড্ডায় আরো উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক আবু সাঈদ ভূইয়া, সংগীত শিল্পী মহিবুল আলম আরিফ, সাংবাদিক আজিজ আজহার, শহীদুল ইসলাম রুবেল, মাঈন উদ্দিন।