ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

সুস্থতাই জীবনের পরম সম্পদ। মানুষের সুন্দর ও সাবলীল জীবন যাপনের জন্য সুস্থতা অপরিহার্য। সুস্থ মানুষ কর্মোদ্দম ও কর্মঠ হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব দেশই চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত ও অত্যাধুনিক করার জন্য সচেষ্ট থাকে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ভর্তুকি দিয়ে হলেও চিকিৎসাখাতকে পর্যাপ্ত উপকরণ দিয়ে সমৃদ্ধ করে থাকে। আমাদের দেশের চিকিৎসাখাত কতটা উন্নত তা পাঠক মহলের জানা থাকার কথা। থানা ও জেলা পর্যায়ে সরকারী হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র থাকলেও সেগুলোর বেহাল দশায় মানুষ এখন সেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে ক্রমে আস্থা হারাতে শুরম্ন করেছে। সরকারী হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত মেশিনারী ও উপকরণ না থাকায় সেসব সরকারী প্রতিষ্ঠানের সেবায় সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট নয়। এই সুযোগে বড় বড় ব্যবসায়িরা গড়ে তুলেছেন থানা ও জেলা পর্যায়ে বহু অত্যাধুনিক প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক। এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় সবার পক্ষে তার খরচ বহন করা সম্ভব নয়। ফলে নিম্ম শ্রেণীর ও মধ্যম আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা সরকারী হাসপাতাল থেকে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেক সময় ধুকে ধুকে মারা যাচ্ছে।

তবে সমাজের বিত্তবানদের অনেককে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত, মালেশিয়া, শিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্রে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করতে দেখা যায়। তারা সেখানে গিয়ে যেসব ডাক্তারের সেবা গ্রহণ করে, সমমানের ও সমান দক্ষতাসম্পন্ন ডাক্তার আমাদের দেশেও রয়েছে। কিন্তু তারপরও সে দেশে গিয়ে মানুষ উন্নত চিকিৎসা পায় আর আমাদের দেশে পায় না। পার্থক্য কোথায়? পার্থক্য হলো, সে দেশের হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা উন্নত ও ডাক্তারগণ রোগীদের প্রতি আমত্মরিক। দীর্ঘ সময় নিয়ে তারা রোগীর রোগ ধরার চেষ্টা করেন। আমাদের দেশের ডাক্তারগণ যদি আমত্মরিক হতেন তাহলে সমমানের চিকিৎসাসেবা আমাদের দেশেও পাওয়া যাওয়া সম্ভব। এতে একদিকে আমাদের দেশের বিপুল অর্থ বিদেশের মাটিতে খরচ করা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে চিকিৎসায় আমাদের দেশের সুনামও বয়ে আসবে। আমাদের দেশে দক্ষ ডাক্তার না থাকলে একটা কথা ছিল। দক্ষ ও মেধাবী ডাক্তার থাকা সত্ত্বেও শুধু অব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের দেশের রোগীরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশ যাওয়াটা সরকারের জন্যই ব্যর্থতার প্রমাণ। যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশ তার দেশের চিকিৎসা উন্নত করার জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে, বাংলাদেশ কি তা করা করেছে? যদি করে থাকে তাহলে এত বিপুল অর্থ ব্যয় করার পরও এই অঙ্গনটার কেন এত বেহাল দশা? আসলে এই অঙ্গনটার দিকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।

আমাদের দেশের অনেক খ্রিস্টান মিশনারী আছে, যারা প্রত্যমত্ম অঞ্চলে অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরি করে রোগীদের উন্নত সেবা দিচ্ছে। তাদের অনেক ডাক্তার আছে, যারা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যমত্ম বিনামূল্যে বা স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা দিয়ে মানব সেবা করছে। মুসলমানদেরকে তাদের নিজেদের ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা তাদের দেশ ত্যাগ করে ভিনদেশে বসে ধর্মের জন্য ত্যাগের যে উজ্জল দৃষ্টামত্ম স্থাপন করছে, তা আমাদের দেশের কোনো ডাক্তারের পক্ষে হয়তবা সম্ভব নয়। আমাদের দেশের সবকিছুর ভেতরে ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি ঢুকে গেছে। সামাজিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা কমে গেছে। সুতরাং এই অঙ্গনগুলোকে উন্নত করার আগে ডাক্তারদের মানস পরিবর্তনে চেষ্টা করা উচিত। তাদের মাঝে সামাজিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া ছাড়া রোগী সঠিক চিকিৎসা পাবে না।

সম্পাদক, মাসিক আরবি ম্যাগাজিন ‘আলহেরা’