ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পৃথিবীতে ক্ষমতার মসনদ টেকানোর জন্য অতীতের রাজা-বাদশাহদের ন্যায় বর্তমানে ক্ষমতাশীনরাও দেদারছে গুপ্ত হত্যা করে যাচ্ছে। বিচারবর্হিভূত হত্যা, গুম ও রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনকালে প্রাকশ্যে জনসম্মুখে পিটিয়ে হত্যা করা, লাশের ওপর উঠে নৃত্য করা ইত্যাদি বিষয়গুলো এখন অনেকটা সহনীয় হয়ে গেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যারা বিভিন্ন অজুহাতে খুন-হত্যায় মেতে ওঠে তারা আসলে মানুষের কাতারে পরে কিনা তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। যারা পেশাদার খুনী ও গুপ্ত হত্যায় জড়িত তারা আসলে কোন প্রকারের মানুষ তা মাঝে মাঝে আমাকে ভাবিয়ে তোলে। পশু ও মানুষের মধ্যে একটি পার্থক্য নির্ণিত হয় হিংস্রতা দ্বারা। মানুষের মাঝে তো পশুর মতো হিংস্রতা থাকা উচিত নয়। অন্যথায় পশু ও মানুষের মাঝে পার্থক্য কোথায়? সবল পশু যেমন দুর্বল পশুকে ছিড়ে ফেড়ে খায়, মানুষও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য যখন অপরকে নির্মমভাবে হত্যা করে তাকে তার মানুষ হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ সৃষ্টি হয়। যেই যাই বলুক অন্তত এ ধরনের লোক দেখলে বা বন্ধুদের কাছে শুনলে মনে হয় ভিন্ন প্রজাতির কোনো বন্য প্রাণী পথ ভুলে লোকালয়ে চলে এসেছে।
মানুষের নির্মমতা অনেক ক্ষেত্রে পশুর হিংস্রতাকেও ছাড়িয়ে যায়। একটি সবল পশু যখন অপর একটি দুর্বল পশুর ওপর হামলে পড়ে তাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেয়, তখন সে পশুটি অনেকটা একাই চলে যায়। তার মরার পর তার পরিবার-পরিজন, বাবা-মা, ভাই-বোনের কান্না ও দু:খ কষ্ট থাকে না। কিন্তু যে মানুষটি দুনিয়া থেকে চিরতরে বিদায় করে দেয়া হয় তার পেছনে তো অনেকের কান্না জড়িত। তার পরিবার, স্ত্রী, বাবা-মা, ভাই-বোন, তার সহকর্মী ও আরও অনেকের দু:খ বেদনা এর সাথে জড়িত। আরও ভয়ংকর হলো যদি মানুষটিকে হত্যা না করে গুম করা। সেক্ষেত্রে তার পরিবারের লোকদের যে অসহনীয় যন্ত্রণার শিকার হতে হয় তা জানে একমাত্র ভুক্তভোগী।
হিংস্রতার কারণে যদি পশুরা পশু হয়, কাউকে পশু বলে গালি দেয়া হয় তাহলে যে সব মানুষ হিংস্রতায় পশুকেও হার মানায় তাদেরকে মানুষ বলা হবে কোন যুক্তিতে? তাদেরকে ভিন্ন কোনো হিংস্রতা পশুর নামে নাম দেয়া যায় কিনা তা এখন ভাবার বিষয়।