ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

অশ্লীল পত্রিকা, নিকৃষ্ট ম্যাগাজিন, উলঙ্গ সিনেমা, বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, ইন্টারন্টে, ফাসেক ও পাপীষ্ঠদের প্ররোচণা, সর্বোপরি মুসলিম রমণীদেরকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইসলামের শত্রুদের অবিরাম প্রচেষ্টার ফলে বর্তমান মুসলিম নারীদের অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, যা ইসলাম ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করে। টিভি চ্যানেলে দেখা যায়, একজন পুরুষ একজন যুবতী মেয়েকে হাত ধরে নাচাচ্ছে, পরস্পর জড়িয়ে ধরছে, গালে গাল ও বুকে বুক লাগাচ্ছে। টিভি পর্দার সামনে কি সেই মহিলার পিতা-মাতা ও যুবক-যুবতী ভাই-বোন থাকে না? এ ধরণের পিতা-মাতা কি তাদের এই নায়িকা মেয়েটিকে চিনতে পারে না? তারা কি মুসলিম নয়? কোন মুসলিম কি তার মেয়েকে এই অবস্থায় দেখতে পছন্দ করতে পারে? এই দৃশ্য কি চোখ খুলে দেখতে পারে? তার কন্যাকে নিয়ে অন্য একজন পুরুষ এভাবে শারীরিক খেলায় মত্ত হবে, আর সে তা উপভোগ করবে- এটি কোন মুসলিম কি সমর্থন করতে পারে? ইসলাম তো দূরের কথা, এমনকি খ্রীস্টান ও অগ্নিপূজকদের ধর্মও তা সমর্থন করে না। তাদের ইতিহাস পাঠ করলেই এ কথার প্রমাণ মিলে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ কিছু মুসলিম দেশে মুসলিম নারী-পুরুষের চারিত্রিক অবস্থা এই পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, মানুষ তো দূরের কথা; পশুরাও তা গ্রহণ করতে পারে না।

দু’টি মোরগ যখন একটি মুরগীর নিকটবর্তী হয়, তখন মুরগীটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেওয়ার জন্য মোরগ দু’টি পরস্পর ঝগড়া করে এবং একটি অন্যটিকে তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তুমি দেখবে যে, মিশর, লেবানন ও বাংলাদেশের কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতসমূহে এবং ঢাকার পার্কসমূহে মুসলিম নারীদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। তাদের মুখ, মাথা, পেট, পীঠ এমন কি সবই উন্মুক্ত। শুধু তাই নয়; অবস্থা এ পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দু’জন পুরুষ মিলে একজন মহিলাকে ভাগাভাগি করে উপভোগ করছে। এই অবস্থা কি কোন পশু সমর্থন করে? একটি মোরগ কি চায় যে, তার আয়ত্তের মুরগীটির উপর আরেকটি মোরগ এসে আরোহণ করুক?

ব্যভিচার শুধু মানব জাতির কাছেই ঘৃণিত নয়, কিছু কিছু বন্য পশুও এই অপরাধকে ঘৃণা করে। সহীহ বুখারীতে এই মর্মে আমর বিন মায়মুন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, “ইয়ামানে থাকাবস্থায় আমি একদা একটি উঁচু স্থানে ছাগল চরাচ্ছিলাম। দেখলাম একটি পুরুষ বানর একটি নারী বানরের হাতের উপর মাথা রেখে শুয়ে আছে। পুরুষ বানরটির চেয়ে কম বয়সের আরেকটি বানর এসে স্ত্রী বানরটিকে খোঁচা মারল। এতে স্ত্রী বানরটি পুরুষ বানরের মাথার নীচ থেকে চুপচাপ হাত বের করে আগত বানরটির পিছে চলতে থাকল। কিছু দূর গিয়ে বানরটি স্ত্রী বানরের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হল। তারপর স্ত্রী বানরটি ফিরে এসে ধীরে ধীরে তার যুগলের (স্বামীর) গালের নীচে হাত রাখার চেষ্টা করতেই সে পেরেশান হয়ে জেগে উঠল। স্ত্রী বানরটির শরীরের গন্ধ পেয়েই চিৎকার করতে শুরু করল। এতে একদল বানর একত্রিত হল। পুরুষ বানরটি চিৎকার করে হাতের মাধ্যমে স্ত্রী বানরটির দিকে ইঙ্গিত করে ব্যভিচারের কথাটি অপরাপর বানরকে বুঝাতে লাগল। বানরগুলো ডানে বামে খোঁজা-খুঁজি করে অপরাধী বানরটি ধরে নিয়ে আসল। আমর বিন মায়মুন বলেন, আমি সেই বানরটিকে চিনে রেখেছিলাম। তারা উভয়ের জন্য গর্ত খনন করলো এবং তারা উভয়কেই রজম করলো। আমর বিন মায়মুন বলেন, আমি বনী আদম ছাড়াও অন্যান্য সৃষ্টির মধ্যেও রজম দেখেছি।

অন্য বর্ণনায় আমর বিন মায়মুন বলেন, বানরগুলোর পাথর মারার দৃশ্য দেখে আমি ধৈর্যধারণ করতে না পেরে আমিও তাদের সাথে পাথর মারলাম।

মুসলিম দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম যুবকরা মুসলিম যুবতী মেয়েদের পাশেই মাথা, মুখ ও বুক খুলে বসছে। মুসলিম পিতা-মাতাগণ স্বেচ্ছায় তাদের কন্যাদের জন্য এটিকেই বেছে নিচ্ছে।

হে আমার মেয়ে! মুসলিম মেয়েদের এই অবস্থা একদিনে পরিবর্তন হবে না। এক লাফে তারা পূর্বেই সেই আসল অবস্থায় ফিরে যাবে না; বরং আমরা সেভাবেই তাদেরকে ধীরে ধীরে পূর্বের অবস্থায় ফেরত নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব, যেভাবে পর্যায়ক্রমে তারা বর্তমানের করুণ ও দুঃখজনক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।

আমাদের সামনে পথ অনেক দীর্ঘ। পথ যদি অনেক দীর্ঘ হয়, আর তার বিকল্প সংপ্তি অন্য কোন পথ না থাকলে যে ব্যক্তি পথের দৈর্ঘ্যতার অভিযোগ করে যাত্রা শুরু করবে না, সে কখনও তার গন্তব্য স্থানে পৌঁছতে পারবে না।

হে আমার মেয়ে! তুমি প্রথমে মুসলিম নারীদেরকে পুরুষদের সাথে খোলামেলা উঠা-বসা, চলাফেরা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বেপর্দা হয়ে সহ শিক্ষায় প্রবেশ করতে নিষধ কর। সেই সাথে সহ শিক্ষার খারাপ দিকগুলো তুলে ধর। তুমি তাদেরকে মুখ ঢেকে রাখতে বল। যদিও ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে আমি মুখ ঢাকাকে ওয়াজিব মনে করি না। মুখ খুলে রাস্তায় চলার চেয়ে নির্জনে মুখ ঢেকে পুরুষের সাাৎ করা অধিক বিপদজনক, স্বামীর অনুপস্থিতে তার ঘরে স্বামীর বন্ধুর সামনে বসে গল্প করা, আপ্যায়ন করা, আর পাপের দরজা খুলে দেয়া একই কথা। ভার্সিটিতে সহপাঠীর সাথে মুসাফাহা করা অন্যায়, তার সাথে অবিরাম কথা ও টেলিফোন চালিয়ে যাওয়া তিকর, এক সাথে বিদ্যালয়ে যাওয়া অনুচিত, বান্ধবীর সাথে গৃহ শিকের রুমে একত্রিত হওয়া অপরাধ।

হে আমার মেয়ে! তুমি এ বিষয়টি ভুলে যেয়ো না যে, আল্লাহ্ তোমাকে নারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার সহপাঠীকে বানিয়েছেন পুরুষ। তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই এমন উপাদান যুক্ত করা হয়েছে, যার কারণে তোমাদের একে অপরের দিকে ঝুঁকে পড়ে। সুতরাং তোমাদের কেউই এমন কি পৃথিবীর সকল মানুষ মিলে চেষ্টা করলেও আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন আনয়ন করতে সম নয়। তারা কখনোই নারী-পুরুষের ব্যবধান উঠিয়ে দিয়ে উভয়কে সমান করতে পারবে না এবং নারী-পুরুষের পরস্পরের দিকে আকর্ষণকে ঠেকাতে পারবে না।

যারা সভ্যতার নামে নারী-পুরুষের মধ্যকার ব্যবধান উঠিয়ে দিতে চায় এবং উভয় শ্রেণীর জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবী জানিয়ে কর্মেক্ষেত্রে একাকার হয়ে যাওয়ার আহবান জানায়, তারা মিথ্যুক। কারণ এর মাধ্যমে তারা নিজেদের মনের চাহিদা মেটাতে চায় এবং অন্যের স্ত্রী-কন্যাকে পাশে বসিয়ে নারীদের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে চায়। সেই সাথে আরও কিছু করার সুযোগ পেলে তাও করতে চায়। কিন্তু এ কথাটি এখনও তারা খোলাসা করে বলার সাহস পাচ্ছে না। সুতরাং তারা নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, সভ্যতা ও উন্নয়নের যে সুর তুলছে তা নিছক সস্তা বক্তব্য ছাড়া আর কিছু নয়। এ সমস্ত কথার পিছনে তাহাযীব-তামাদ্দুন, সভ্যতা, উন্নতি অর্জন আদৌ তাদের উদ্দেশ্য নয়।

তারা যে মিথ্যুক তার আরেকটি কারণ হল, যেই ইউরোপ-আমেরিকাকে তারা নিজেদের আদর্শ মনে করে এবং যাদেরকে তারা সভ্যতা, সংস্কৃতি ও উন্নতির পথ প্রদর্শক মনে করে, মূলত তারা প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করতে পারেনি। তাদের ধারণায় নাচ, গান, বেহায়াপনা, উলঙ্গ-অর্ধউলঙ্গ হওয়া, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষায় অংশ নেওয়া, নারীদের খেলার মাঠে নামা এবং সমুদ্র সৈকতে গিয়ে বস্ত্রহীন হয়ে গোসল করাই সভ্যতা ও সংস্কৃতির মানদন্ড। আর প্রাচ্যের দেশ তথা মুসলিমদের মসজিদ, মাদ্রাসা, মদীনা, দামেস্ক এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল ইসলামী প্রতিষ্ঠানে যে উন্নত চরিত্র, সুশিক্ষা, নারী-পুরুষের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীন পবিত্রতার প্রশিণ দেয়া হয়, তাদের ধারণায় তা মুসলিমদের পশ্চাদমুখী হওয়ার এবং সভ্যতা ও সংস্কৃতির দিক থেকে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ।

ইউরোপ-আমেরিকা থেকে ঘুরে আসা বা সেখানে বসবাসকারী অসংখ্য পরিবার নারী-পুরুষের খোলামেলা চলাফেরায় সন্তুষ্ট নয় এবং এটি তাদেরকে শান্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আজ তাদের অনেকেই ইসলামী সংস্কৃতির সুশীতল ছায়ায় প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছে।

হে আমার মেয়ে! ইউরোপ-আমেরিকায় এমন অসংখ্য পিতা-মাতা আছে, যারা তাদের যুবতী মেয়েদেরকে যুবক পুরুষদের সাথে চলাফেরা করতে ও মিশতে দেয় না। তারা তাদের সন্তানদেরকে সিনেমায় যেতে দেয় না। শুধু তাই নয়; তারা তাদের ঘরে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনামুক্ত চ্যানেল ব্যতীত অন্য কিছু রাখে না। অথচ পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আজ অধিকাংশ মুসলিম দেশের মুসলিমদের ঘর এগুলো থেকে মুক্ত নয়।

এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবির কথা হচ্ছে, সহশিা প্রবল যৌন আকাঙ্খাকে দমন করে, চরিত্র সংশোধন করে এবং দেহ থেকে বাড়তি যৌন চাহিদাকে দূর করে দেয়। আমি তাদের জবাবে বলতে চাই যে, আপনারা কি রাশিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখেন না? যেই রাশিয়ার বেশির ভাগ মানুষ কোন ধর্মে বিশ্বাস করে না, কোন পাদ্রীর উপদেশে কর্ণপাত করে না, তারা কি সহশিা ও নারী-পুরুষের সহ অবস্থানের খারাপ পরিণামের শিকার হয়ে তা থেকে ফেরত আসার ঘোষণা দেয়নি?

আমেরিকার প্রসঙ্গে আসি। পত্র-পত্রিকার রিপোর্টে প্রকাশ হচ্ছে যে, অবিবাহিত ছাত্রীদের মধ্যে গর্ভবতীর সংখ্যা সেখানে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি তাদের অন্যতম একটি বিরাট সমস্যা। আপনারা কি মুসলিম দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এমন সমস্যা দেখতে চান?

বর্তমান সময়ে আমেরিকা এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য যৌন সচেতনতা বা সেক্স শিা নামে একটি বিষয় সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করে, তা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পাঠ দান করছে। আমি মনে করি এর মাধ্যমে তারা আগুনের মধ্যে পেট্রোল ঢালছে। অল্প বয়স্ক নির্দোষ বালিকার মধ্যে লুকায়িত যৌন স্পৃহাকেই তারা জাগিয়ে তুলছে। স্কুল পর্যায়ের ছাত্রীদেরকে তারা কন্ডম ব্যবহারের প্রশিণ দিচ্ছে এবং একজন পুরুষ নির্জনে একজন মহিলার সাথে কি করে, তারা উঠতি বয়সের বালিকাদেরকে তাও শিক্ষা দিচ্ছে। এতে করে অল্প বয়সেই তাদের মধ্যে যৌন রহস্য উদ্ঘাটনের বাসনা আরো তীব্র হয়ে ওঠায় আরো বেশী অবাধ মেলামেশায় লিপ্ত হচ্ছে। আমাদের মধ্যে বসবাসকারী এক ধরণের মানুষ নামধারী শয়তান আমাদেরকেও তাদের কর্মকান্ডের অনুসরণ করার আহবান জানাচ্ছে।

হে আমার মেয়ে! আমি এ কথা বলছি না যে, যুবকেরা তোমার কথা অবনত মস্তকে মেনে নিবে। আমি জানি তারা তোমার কথা প্রত্যাখ্যান করবে এবং তোমাকে বোকা বলবে। কারণ তারা মনে করবে যে, তুমি তাদেরকে যৌবনের স্বাদ উপভোগ করতে বাধা দিচ্ছ এবং তাদেরকে ভোগের সমুদ্রে সাঁতার কাটতে মানা করছ। সুতরাং তুমি যুবকদেরকে এটা বলতে যাবে না। বরং তুমি উপদেশ দিবে তোমার মুমিন-মুসলিম বোনদেরকে, মেয়েদেরকে। সতর্ক করবে আমার স্নেহের অপরাপর কন্যাদেরকে। কেননা ইবলিসের ফাঁদে পড়ে তোমার বোনেরাই পথভ্রষ্ট হয় এবং তারাই ভিকটিমে পরিণত হয়। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন এমন কাজে অগ্রসর না হয়, যার পরিণাম শুভ হয় না। যারা নারীর স্বাধীনতার গান গায়, তাদের উন্নয়নের কথা বলে, তাদেরকে সহশিক্ষা ও পর্দাহীন মেলামেশার আহবান জানায়, তোমরা তাদের কথায় কর্ণপাত করো না। কারণ এ সমস্ত শয়তানদের অধিকাংশের স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার নেই। তারা কেবল তোমাদেরকে উপভোগ করতে চায়।

হে আমার মেয়ে! তুমি তোমার বোনদেরকে বল- “আমি তোমাদেরকে যে উপদেশ দিচ্ছি, তার বিনিময়ে আমি কিছুই চাই না। শুধু তোমাদেরকে অধঃপতনের হাত থেকে রা করতে চাই, তোমাদের কল্যাণ চাই, পবিত্র জীবনের সন্ধান দিতে এবং আমি নিজের জন্য যা ভালবাসি, তোমাদের জন্যও তাই কামনা করি।

হে আমার মেয়ে! পরপুরুষের কবলে পড়ে কোন নারী যদি তার অমূল্য সম্পদ হারায়, তার মর্যাদা নষ্ট হয় এবং সম্ভ্রম ও সতীত্ব চলে যায়, তাহলে তার হারানো সম্মান দুনিয়ার কেউ পুনরায় ফেরত দিতে পারবে না। কোন নারী যদি স্বীয় ইজ্জতহারা হয়ে সমাজ থেকে ছিটকে পড়ে, কেউ তার হাত ধরবে না এবং তার দিকে সাহায্যের হাত প্রসারিত করবে না। অথচ যত দিন সেই নারীর শরীরে যৌবন অবশিষ্ট ছিল, ততদিন পাপীষ্ঠরা তার সৌন্দর্য্যরে চারপাশে ঘুর ঘুর করেছে এবং তার প্রশংসা করেছে। যৌবন চলে যাওয়ার সাথে সাথেই কুকুর যেমন মৃত জন্তুর মাংস ভক্ষণ করে হাড্ডীগুলো ফেলে রেখে চলে যায়, ঠিক তেমনি তারা তাকে রেখে দূরে চলে যায়।

হে আমার মেয়ে! এই ছিল তোমার প্রতি আমার সংপ্তি উপদেশ। তোমাকে যা বললাম, তাই সত্য। এটি ছাড়া কেউ যদি তোমাকে অন্য কথা বলে, তুমি তা বিশ্বাস করো না। জেনে রেখো! তোমার হাতেই তোমাদের ও পুরুষদের সংশোধনের চাবিকাঠি; আমাদের হাতে নয়। তুমি চাইলে নিজেকে, তোমার বোনদেরকে এবং সমগ্র জাতিকে সংশোধন করতে পার।
তোমার উপর আল্লাহর প হতে শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।

ইতি- তোমার পিতা….

[মিশরের প্রখ্যাত সাহিত্যিক আল্লামা আলী তানতাভী (রাহ.) কর্তৃক রচিত “ইয়া বিনতী” নামক বইয়ের অনুসরণে লিখিত