ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সড়ক ও মহাসড়ক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই থামছে না। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো কোনো জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোই দায়ী। দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে ৪৯ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট বাসের চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানো। আর আমাদের দেশের অধিকাংশ যানবাহন চালকের সত্যিকার অর্থে কোনো প্রশিক্ষণ থাকে না। চালকের ওপর করা জরিপে দেখা গেছে ৮১ শতাংশ চালক কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়া শুধু ওস্তাদের কাছ থেকে শিখেই গাড়ি নিয়ে মহাসড়কে ওঠে যাচ্ছে। আবার অধিকাংশ গাড়ি চালক কোনো নিয়ম-নীতির ধার ধারে না। প্রতিদিনের আসা-যাওয়ায় আমরা দেখি, অনেক চালক মোবাইলে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালাচ্ছে। অনেক চালক আবার সামান্য অজুহাতেই অন্য গাড়ির ওপর চড়াও হওয়ার জন্য অস্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালিয়ে সব যাত্রীদের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। চালকদের অন্যমনস্কতা, গাফিলতি ও গোঁয়ার্তুমিও অনেক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

জাতিসংঘের যেসব সদস্যদেশ ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছিল, সে তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, গত বছর ৬ হাজার ৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৬৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় সই করলেও এই লক্ষ্য অর্জনে সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই বাংলাদেশের।

সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সরকারকেই কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। শুধু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকেরাই যেন লাইসেন্স পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশের অনেক গাড়ি-চালক সঠিক লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছেন। আবার কিছু ট্রাফিক পুলিশ প্রকাশ্যে গাড়ি-চালকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে তাদেরকে ছেড়ে দিচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশদের টাকা আদায় করে গাড়ি ছেড়ে দেয়ার সংস্কৃতি এত ভয়াবহতায় গড়িয়েছে যে, প্রকাশ্যে সব যাত্রী ও পথচারীদের সামনে তারা টাকা গ্রহণ করতে বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ করছে না। যেনো তাদেরকে টাকা দেয়াটাই নিয়ম। এসব অসাধু ট্রাফিক পুলিশের কারণে অসৎ চালকেরা লাইসেন্স ছাড়া অথবা ত্রুটিপূর্ণ লাইসেন্সসহ গাড়ি চালানোর সাহস পাচ্ছে। সুতরাং অসাধু ট্রাফিক পুলিশদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি রাস্তায় ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি নামানো বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মালিককে আর্থিক জরিমানা ও জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে হবে। তবেই কমতে পারে সড়ক দুর্ঘটনা।