ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

কথাসাহিত্যিক শরৎবাবু বাংলা সাহিত্যের বিরাট স্থান জুড়ে আছেন। তার জীবনের অনেক কীর্তি যা তিনি তার আর্দশের স্বপ্নের পুরুষদের জন্য রেখে গেছেন। তবে তার সাহিত্য থেকে তিনি মুসলিমদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন। যেন তাদের তার কাছে ভিড়তে ভিবমিশা ভাব হয়। জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় তিনি ব্যয় করেছেন হিন্দুসমাজের প্রাচীনকালীয় কুসংস্কার দূরীকরণে। দীর্ঘদিনের সাধনায় তিনি সাহিত্যাঙ্গনে যেমন সফল, তেমনি সফল তার সংস্কারমূলক আন্দোলনে। তবে নির্মম সত্য হলো, তিনি যে ভাষায় বিদ্রুপ ও কটুক্তি করে মুসলিমদের দূরে সরিয়েছেন তাতে হিন্দুসমাজের প্রতি মুসলিমদের বিরক্তিভাব আসলে তাতে দোষের কিছু নেই।

তবে আমাদের দেশের অনেক মুসলিম সাহিত্যিক কিন্তু বাবুদের সাহিত্য পড়ে সাহিত্যাঙ্গণে যথেষ্ট যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। কারণ সে সময় বাবুদের সাহিত্য ছাড়া বিকল্প কেউ তৈরী করতে পারেনি। ইদানিং যদিও কিছু মুসলিম লেখক সাহিত্য রচনা করে ‘তারকাখ্যাতি’ অর্জন করছেন; কিন্ত আচারে আচরণে তারাও কিন্তু ‘বাবু’। তবে ওরা হিন্দু বাবু আর এরা মুসলিম বাবু। তাই কোনো সাহিত্যের পাঠক যদি মনে করেন যে, বাবুদের সাহিত্য ছাড়া যেহেতু কোনো গত্যন্তর নেই সেহেতু নকল বাবুদেরটা পড়ে লাভ কী? ‘অর্জিনাল’ বাবুদেরটাই পড়ি- তাতে দোষের কিছুই নেই। কারণ উভয় রাস্তাই কন্টকার্কীণ। উভয় সাহিত্যই অশ্লীলতা চর্চা করাবে আর চিন্তা, চেতনা ও মূল্যবোধ চর্চার অপমৃত্যু ঘটাবে। এ দেশে সাহিত্য চর্চার নামে বহু অশ্লীলতার হাতে কলমে প্রশীক্ষণ হয়েছে বহুকাল। আমাদের যুবকদের একাংশ ধরেই নিয়েছে সাহিত্য চর্চা করতে হলে তসলিমাদের ন্যায় নেংটা হয়ে লিখতে বসতে হবে। কারণ পোশাক পড়ে আর যাই হোক সাহিত্য চর্চা হয় না। আর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে না লিখলে প্রগতিশীল লেখক হওয়া প্রায় দুস্কর।

‘লজ্জা’র মতো সাহিত্য নিয়ে যেসব যুবকরা বসে ভাষা বা সাহিত্য শেখার জন্য, তারা তাদের বোধ-বুদ্ধি সবকিছু হারিয়ে একসময় চরম ‘লজ্জাহীন’ হয়ে যায়। এরকম বহু লেখক ও সম্পাদক এখন দৈনিকগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাই আমি আমার বন্ধুদেরকে বলি অন্তত পরিপক্ক পর্যালোচনার বয়সে পৌঁছার আগে অথবা বলা যায় ঝুঁকিপূর্ণ বয়সে সাহিত্য চর্চা করার জন্য নিরাপদ বলয়ে থাকাটাই ভালো।