ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

একটি বিষয় আমাকে বেশ কিছু দিন যাবত খুব পীড়া দিচ্ছে । আমি অস্বস্তি বোধ করছি বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের নির্মম অত্যাচার দেখে । আমরা যারা ব্লগে লিখি তাদের ভাষার অশুদ্ধতা লজ্জাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে । যা আমাদের না হোক অন্তত ব্লগের মান নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট । বাংলা ভাষার যে ভুলটি সবচেয়ে বেশি অমার্জনীয়, সেটি হচ্ছে ‘বানান ভুল’ । আর সে অমার্জনীয় ভুলটিই আমাদের লেখায় প্রকটভাবে ধরা পরছে ।হরহামেশা আমরা ভুল বানানে লিখছি । যা দেখে যে কোনো ভাষা প্রেমিক অসুস্থতা বোধ করা স্বাভাবিক ।পৃথিবীর কোনো ভাষায় এত বেশি বানান ভুলের নজির নেই ।সব সময় যে ভাষায় আমরা কথা বলি, যে ভাষার জন্য জীবন দিলাম, তাজা রক্ত দিলাম, যে ভাষাকে আমরা ভালোবাসি, সে ভাষার ‘বানান দুর্বলতা’ এর মতো একটি সামান্য বিষয় যদি আমরা কাটিয়ে উঠতে না পারি তাহলে তো এটাই প্রমাণিত হলো, আমরা আসলে ভাষার মর্যাদাই দিতে জানি না । যারা এই ভাষার জন্য শহিদ হলেন তাদের প্রতি সম্মান জানাতে পারি না । ইংরেজী বর্ষপঞ্জীর ফেব্রুয়ারী মাসের একুশ তারিখে যারা শহীদ মিনারে ফুল দেন, শহীদানের আত্মার শান্তি কামনায় নাচ-গান আর নাটক মঞ্চস্থ করেন, তাদের অন্তত ভাবা উচিত, অশুদ্ধ বানানে লেখলে আমাদের শহীদগণের আত্মা শান্তি পাবে কি না ? যে ভাষার জন্য তারা যুদ্ধ করলেন, শহীদ হলেন, সেই ভাষার যদি এই দৈন্য অবস্থা দেখতেন, তাহলে নিশ্চিত তারা শুদ্ধ ভাষার জন্য অরো একটি যুদ্ধে নেমে পড়তেন ।
যে কোনো ভাষার বিশুদ্ধ বানান খুবই গুরুত্বর্পূণ ।সুতরাং আর যাই হোক না কেন, বানানে বিশুদ্ধ হতে হবে আমাদেরকে । বানানে বিশুদ্ধ হওয়ার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো অধিক পরিমাণে অভিধান ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তোলা । কোনো শব্দের বানান সন্দেহ হলেই অভিধান দেখে তার শুদ্ধতা নিশ্চিত হয়েই তা ব্যবহার করা উচিত । শুধু ধারণা করে কোনো শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয় । এক্ষেত্রে আমাদেরকে অভিধানমনস্ক হতে হবে । অধিক পরিমাণে অভিধান ব্যবহার করলেই আমরা বানান ভুলের বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পেতে পারি । তাছাড়া বানান ভুলের আরো একটি কারণ হলো আমাদের অতিমাত্রায় শিথিলতা ও অসচেতনতা ।সুতরাং আমাদেরকে বানানের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হতে হবে । অভিধান দেখে কোনো শব্দের শুদ্ধাশুদ্ধি নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল তা ব্যবহার করতে হবে । এবিষয়ে আমরা ব্লগার বন্ধুদের কাছে আরো সতর্কতা কামনা করি ।আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন । আমীন ।