ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, ব্যক্তিত্ব

 
oc-mostafiz-osmani-thana

২০০০ সালের কোন এক হরতালের সময় বেবি নিয়ে বাসার কাছের বড় রাস্তার ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময়, হঠাৎ করেই হাতিয়ারসহ দুই পুলিশ এসে আমাকে বলে– আপনাকে স্যার ডাকে! আমি তখন দেশের বাহির থেকে সবে মাত্র এসেছি। সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজি, মস্তানি, পেশির শক্তির প্রদর্শন- সামান্য কয়দিনেই অনেক কিছু চোখে পড়ছে। খানিকটা দূরে ছিলাম। চেষ্টা করলাম দেখবার জন্য কে আমাকে ডাকলো! যাই হোক, অফিসার ভদ্রলোকের সামনে এসে দাঁড়ালাম। কালো চশমা, পুলিশের পোষাক, হাতে ওয়ারলেস, কোমরে পিস্তল, সঙ্গী ফোর্স ১০ জন।

প্রশ্ন, কি রে তুই এখানে?

ততক্ষণে আমার স্মৃতির পাতায় – মোস্তাফিজ!

আমার নাম ধরে ডাকা। জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি। কুশলাদি। ইত্যাদি। তারপর প্রায়ই ফোনে কথা হত। গুলশান, বনশ্রী, সিআইডিতে, বাসায় যাতায়াত হত। ওসি হওয়ার আগ পর্যন্ত। এই মাঝের কয়দিন ছাড়া। হয়তো ব্যস্ততা ছিল, দায়িত্ব ছিল।

দায়িত্ব পালনে বিদায় হল।

mostafiz

তোর মনে পড়ে বৃষ্টির দিনে সবাই সবাই মিলে সেই চোর-পুলিশ খেলা? আমাকে চোর বানিয়ে স্কুলের বারান্দায় বেধে রাখা। তারপর আমি মুক্ত হতে কত চেষ্টা করে বাঁধা হাত খুলতাম। আজ কিন্তু আমি পুলিশ। অনেক কথাই হত। দেশের কথা, সন্ত্রাসের মুক্তির কথা।

মাঝে আমাকে কিছু ভিডিও এডিট করার কথা বলেছিল। বলেছিল মিশন থেকে রেকর্ড এনেছি, একটু সুন্দর করে একটা ডিভিডি বানাবো। বলেছিলাম, ঠিক আছে করে দিব। কিন্তু আর হল না। জানি না- করেছ কি না। কেননা সিআইডিতে থাকা অবস্থায় মাঝের কিছুদিন তার সাথে-০১৭১৬১৪৫১২০, নাম্বারটিতে ফোন দিলে কেউ রিসিভ করত না। হয় রাগ করেছে নতুবা কোন প্রবলেম হয়েছে।

যাই হোক, বেশ অনেকবার রিং করে পাইনি, তাই আর করা হয়নি কিন্তু কাল দুপুরে খাবারের সময়- টিভি স্ক্রলিং -এ নামটা দেখাতেই সন্দেহ হয়। সত্যিই মোস্তাফিজ কিনা । হ্যাঁ সত্যি তাই।

তোর মৃত্য আমাকে ব্যথিত করেছে, এত দ্রুত, এত দ্রুত! (ইন্নাল্লিহে.. … রাজেউন) তোর বিদেহী আত্নার শান্তি কামনায় ভাবি- ছেলে মেয়েদের ধৈর্য্য ধারণ করার রহমত দান করুক! বাস্তবতা এটাই, আমিন।