ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

ভারত বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে মহাসমারোহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সার্ধশত জন্ম বার্ষিকী পালিত হয়ে গেল। বাঙালি জাঁতির মননশীলতার, সৃজনশীলতার বিকাশে তার ক্ষুরধার লেখনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই বাঙালি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতির ধরা সমুন্নত রাখতে অবশ্যই কবিগুরুর সৃষ্টি কর্মকে আমাদের অক্ষরে ধরে থাকতে হবে। তার লেখনীকে পাস কাটিয়ে আমরা যেতে পারি না।

কিন্তু তাই বলে বিশ্বকবির সাহিত্য চর্চা করতে গিয়ে কী অন্য কবিদের সৃষ্টি কর্মকে আমরা অবহেলা করতে চলছি? বিশ্বকবির জন্মদিন পালন হতেই স্বভাবতই আমাদের মনে আসে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর কথা। বাঙালি জাতির দুই জন শ্রেষ্ঠ কবি এই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছেন। তাই যখন একজনের জন্মবার্ষিকী দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে পালিত হয় তখন স্বাভাবিক ভাবেই মনের কোথায় যেন নাড়া দেয় আমরা তো একজনকে অবহেলা করছিনা? যিনি আমাদের জাতীয় কবি?

অনেকেই বলতে পারেন এই লোকটা তো খুব রক্ষণশীল, আজাইরা পেছাল পরতাছে। বলতে পারেন দু জন এই তো ভারতীয়, ভারত সরকার না করলে আমরা কী করতে পারি?

তাইলে আমিও সবাইকে একটু ভাবতে বলব আমরা য এত ধুম ধাম করে কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী পালন করছি তা কি সত্যি কবি কে সম্মান জানিয়ে নাকি, অন্য কোনও দেশকে খুশি করতে গিয়ে? আর যদি প্রশ্ন উঠে একজন ভারতীয় কবিকে যে জাতীয় কবির মর্যাদা দেয় হয়েছে সেটা যথেষ্ট, তবে বলব তাকে জাতীয় কবির সম্মান দিয়ে অবহেলা করার চেয়ে তাকে জাতীয় কবি না করে দেশের কোনও একজন কবিকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেয় যেত না?? আমাদের সরকার যখন ভারত থেকে কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী বছর ব্যাপী পালন করার চুক্তি করে দেশে ফেরেন তখন হইত, চির বিদ্রোহী কবি অনেক দু:খে খুব মুখ আড়াল করেন।

কবি গুরুর জন্মদিনে এইটুকু চাওয়া একজন বিশ্বকবি, মহাকবিকে সম্মান জানতে গিয়ে যেন আর এক ক্ষণজন্মা কীর্তিমান পুরুষকে যেন আমরা অবহেলা করে না বসি…