ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

হরতাল করা যে কোন স্বাধীন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। এমনটি জানতাম। তবে গতকাল দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যখন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চিফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক সাহেবকে হরতাল পালন করতে গিয়ে রাজপথে রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়তে দেখা গেল মনে প্রশ্ন জাগল আসলেই কি আমাদের এই বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পেরেছে কিনা। স্বাধীন শব্দটিকে আমরা শুধুমাত্র যদি মুখের বুলি হিসেবে ব্যবহার না করে এর প্রয়োগ ঘটাই তবে বিশ্বাস করি জাতি অনেক সংকটের হাত থেকে মুক্তি পাবে। একটি স্বাধীন দেশে জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি নিরাপদ না থাকেন তাহলে দেশের সাধারন মানুষ নিরাপদ আছেন কিনা সেটি এখন গুরুত্ব নিয়ে ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়মী লীগকে শুধুমাত্র ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিলেই চলবে না বরং প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিতও হয়ে উঠতে হবে। কারন দেশের সাধারন মানুষকে বোকা ভাববার কোন কারন নেই। সময় হলে এবং সুযোগ পেলে তারা কিন্তু নিজেদের রায় ঠিকই দিয়ে দেবেন। তাই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কাছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমার আবেদন সময় থাকতে দয়া করে সচেতন হোন এবং ফারুক সাহেবের উপর পুলিশের নির্যাতনের বিষয়টি ‘মৃদু আঘাত’ বলে সত্য আড়াল করার স্বাধীন বৈশিষ্ট্য বর্জন করুন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দলের প্রতি আবেদন জনগনকে নিরাশ করবেন না। আপনারাও একসময় জনগনের ভালবাসা পেয়েছিলেন সন্দেহ নেই। আবার প্রত্যাখ্যাতও হয়েছেন। কেন হয়েছেন সেটি যে কোন মানুষের চেয়ে আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। না বললেও বুঝতে পারবেন। হরতালে জনগনের সম্পদের নিরাপত্তা দেবার প্রতিশ্রুতি দেবার বিষয়টি ভাববেন আশা করি। বিনা কারনে জ্বালাও ,পোড়াও জাতীয় কর্মকান্ড পালন করলে যদি জনমনে ভীতির সৃষ্টি হয় তাহলে আগামীতে আপনাদের জন্য বিষয়টি কতটুকু কল্যাণকর হবে বিবেচনার দায়িত্ব আপনাদেরকেই নিতে হবে। সবশেষে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে বলছি জণগনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। একটি সুন্দর দেশ গড়তে জনগনের মতামতের গুরুত্ব দিন, তাদের নিয়ে ভাবুন।

##
গোলাম মুজতবা ধ্রুব ( ০১৭১১৯০৭৬০২)
শিক্ষার্থী,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, mujtaba.dhruba@gmail.com