ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

আজকে আমার জন্মদিন! ঠিক এই কথাটা না বলে আমার বলতে ইচ্ছা করে, আজ থেকে অনেক বছর আগে আমার পিতা-মাতা কি এক অসম্ভব আনন্দেই না ভেসেছিলেন! আমি অতান্ত ভাগ্যবান যে পরম করুণাময়ের অশেষ রহমতে আমি দুই দুইবার এই অসীম আনন্দের সম্মুখীন হয়েছি। আমি চাই যারা বিবাহিত/বিবাহিতা তারা অচিরেই এই আনন্দের সম্মুখিন হোক। আনেক ব্যাক্তিগত কথা-বার্তা লিখলাম, আরেক টু লিখে আপনাদের বিরক্তি অর্জন করি। এম্নিতেই জন্মদিন তার পর দু-দুটো সু-সংবাদ। আমার খুব ঘনিষ্ট সহপাঠি, একজনের পদোন্নতির খবর (সর্বোচচ পদে পদায়ন, অনেক প্রতিক্ষিত খবর), আরেক জনের বিশেষ উন্নত মানের স্থানে পদায়ন। আর এ দুটো খবর ও যখন আমি পেলাম আমার জন্মদিনে মনটা এতো ভালো হয়ে গেলো যে মনে হচ্ছিলো কেও এখন আমার কাছে পুরো পৃথিবীটা চাইলে আমি তাই তাকে দিয়ে দিবো।(সমালোচকেরা দয়া করে এই আবেগের কথার মধ্যে খুঁজবেন না এটার ক্ষমতা আমার আছে কি না!)।খুব মন ভালো নিয়ে এক কাপ কফি বানালাম, আয়েশ করে কফি খাচ্ছি, আর তারা খচিত অর্ধ-চন্দ্রের রাতে মনে হচ্ছে জীবন টা খারাপ না!

কিন্তু অন-লাইন প্রথম আলো টা খুলেই ফুরফুরে মনটা খারাপ হয়ে গেলো।

ছোট একটা মেয়ে(আমার মেয়ের সমান বয়স), হাতের লেখা খারাপ হওয়ার জন্য শিক্ষিকা কি মার টাই না মেয়েটিকে মেরেছে। একজন মহিলা, তার নিজেরও নিশ্চয়ই ছেলে-মেয়ে আছে। এভাবে কি মানুষ মানুষকে মারতে পারে? না কি বর্তমানে আমাদের এই কঠিন দেশে, যেখানে দ্রব্য-মূল্য লাগামহীন, চারিদিকে নৈরাজ্য, মানুষের জীবনের ও সম্পদের নিরাপত্তা শূন্য এই দেশে আমারা সবাই কি ধীরে ধীরে মানুষিক রোগী হয়ে যাচ্ছি। একমাত্র মানসিক রোগীরাই একটা বাচ্চাকে এভাবে মারতে পারে। দেশটা এভাবে চলতে থাকলে আমরা সবাই কি মানসিক ভারসাম্যতা হারাবো? দুচ্ছাই এসব কি ভাবছি আজকের দিনে, বিরক্ত হয়ে আরেক খবরে গেলাম।

প্রথম আলোর অন-লাইন মন্তব্য সংকলন। যে সংবাদ গুলি কিছুদিন আগে পরে মনে ক্ষত হয়েছিলো, এই কিছুদিনের অবসরে এই ক্ষতগুলি অনেকটা ঠিক হয়ে আসছিলো, এই অন-লাইন সংকলন গুলি পরে এই ক্ষতগুলি আবার তাজা হয়ে উঠলো। আমি খুব শক্ত ভাবে বিশ্বাস করি ডঃ ইউনুসকে বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করার মূল কারন হলো তিনি মনে হয় ছোট বেলায় বাংলা অভিধান ভালো করে পরেননি। না হলে তিনি তো, “প্রনিধান যোগ্য” “অজ্ঞাত নির্দেশদানকারী” এই শব্দগুলি শিখতে পারতেন। আর শিখলে তার কি আজ এই সমস্যা গুলো হতো। তবে আমি নিজেকে ভীষন ভাবে ভাগ্যবান মনে করছি। আজকে আমি কি ভাগ্য নিয়েই না এসেছিলাম পৃথিবীতে! এত সুন্দর একটা শব্দ শিখলাম। যে অজ্ঞাতই হবে সে নির্দেশ দিবে কিভাবে? আহ কি সুন্দর চিন্তা! বৈজ্ঞানিক ভাবে গবেষনা করে এর গুড় রহস্য বের করলে কি মজাটাই না হতো। যে ব্যাক্তির বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা আছে, যিনি বিশ্ব-এর ১২ জন ব্যাক্তির মধ্যে একজন(যার মধ্যে ১০ জনই যুক্তরাষ্ট্রের, একজন ভারতের, আর একজন তিনি), তিনি কেনোই বা এই সব ছোট খাটো শব্দ জানবে না বা প্রয়োগ করতে পারবে না।এ জন্যই তো তাকে অযোগ্য ঘোষনা করা হয়!

ছি! আমি আবার এ সব কি ভাবছি। আমি আজকে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম কনো ভাবেই এ সব চিন্তা করবো না। কিন্তু খবরের কাগজ পরতে গেলে বারবার এসব চিন্তা আসে। কার দোষ আমাদের? এই সময়ে জন্মগ্রহন করার জন্ন্য? কি হতো যদি আরো ১ শত বছর আগে আসতাম পৃথিবীতে? নাকি পেপার এর দোষ, খালি এই রকম সংবাদ ছাপে? না কার দোষ, আমি বুঝতে পারি না।

থাক এর থেকে তারকা খচিত আধা-চাঁদ ওয়ালা মালয়েশিয়ার আকাশে তাকিয়ে মনটা ভালো করি। মনে মনে চিন্তা করি বর্ষার ঝমঝম বৃষ্টি, মাঠের মধ্যে দুই হাত দু দিকে ছরিয়ে নিরুদ্দেশ ভিজে চলছি, অদূরেই ছোট ছোট ছেলে গুলো ফুটবল নিয়ে কাদা পানির মধ্যে ঝাপ্টাঝাপ্টি করছে, এক জনের প্যান্টটা খুলেই গেছে, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই কারো, সবাই বিভোর হয়ে খেলছে! আহ কি সুন্দর দৃশ্য আমার কল্পনায়, আমার মন ভাল হয়ে যাচ্ছে, স্বপ্নের বাংলাদেশ আবার আমি ফিরে পাচ্ছি আমার মনের ভিতর। চোখে পানি এসে যাচ্ছে, আর লিখবো না, লিখতে পারছি না।

পাঠক আমার মতো এভাবেই অটো সাজেসান দিয়ে মন ভালো করবেন আজকের এই মন খারাপ করার বাংলাদেশে। না হলে কিন্তু মানসিক ভারে সেই শিক্ষিকার মতো হয়ে যাবেন। এবং এমন কাজ করে বসবেন যেটা করার কথা একটা পশুও করার আগে ভাবে!সবাই ভালো থাকুন, ধীরে ধীরে রাত ১২টা বেজে যাচ্ছে, শেষ হয়ে যাচ্ছে অরেকটি ২রা এপ্রিল, শেষ হয়ে যাচ্ছে ভালোয়-খারাপে মেশা আমার আরেকটি জন্মদিন।