ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

লেখাটির নামকরনের মাঝেই হয়তো বোঝা গেছে কি বিষয়ে লিখতে যাচ্ছি আজ। সারাদিন প্রচন্ড খাটনির পর মনে করছিলাম একটু বিশ্রাম নিবো, কিন্তু প্রথম আলো অন লাইন সংস্করণ খুলে কয়েকটা খবর পরে আমি রীতিমতো এত উত্তেজিত হয়ে গেলাম যে আমার নিজের মস্তিষ্কের সুস্থতার উপর সন্দেহ হতে শুরু করেছে। কিছুদিন আগে আমার জন্মদিনে একটা লেখায় আমি “বানান না পারার জন্য এক শিক্ষিকা কর্তৃক একটি বাচ্চা মেয়েকে প্রহারের খবর” উল্লেখ করেছিলাম। আমার কেন জানি মনে হচ্ছিলো মানসিক সুস্থতা থাকলে কোন ভাবেই একজন নারীর পক্ষে(যিনি একজন মা), এত ছোট বাচ্চাকে এভাবে প্রহার করা সম্ভব না। তাই আমি আমার লেখায় বলেছিলাম, “না কি বর্তমানে আমাদের এই কঠিন দেশে, যেখানে দ্রব্যমূল্য লাগামহীন, চারিদিকে নৈরাজ্য, মানুষের জীবনের ও সম্পদের নিরাপত্তা শূন্য এই দেশে আমারা সবাই কি ধীরে ধীরে মানুষিক রোগী হয়ে যাচ্ছি। একমাত্র মানসিক রোগীরাই একটা বাচ্চাকে এভাবে মারতে পারে। দেশটা এভাবে চলতে থাকলে আমরা সবাই কি মানসিক ভারসাম্যতা হারাবো?” এখন আমি নিজেই এই প্রশ্নের সম্মুখীন। আমি কি আমার মানসিক ভারসাম্যতা হারাচ্ছি বা হারিয়েছি। তাই আমি খবর গুলো উদ্ধৃত করছি, আমার চিন্তা-ভাবনা, খবর গুলো পড়ার পরে আমার তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া লিখছি। আমার সহব্লগার ভাই-বোনেরা আপনারা যদি পড়ার পর আপনাদের মেজাজ ও আমার মতো উত্তপ্ত হয় তাহলে বুঝবো আমার মস্তিষ্ক ঠিকই আছে।

১। ইলিয়াস আলীকে সরকারই গুম করেছে এই শিরোনামে ১৯ তারিখের প্রথম আলো “ইলিয়াস আলীকে সরকারই গুম করেছে বলে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেল রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকে এ অভিযোগ করা হয়।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করতে দলটি বৈঠকের আয়োজন করে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত, তাঁদের প্রতিনিধি ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন”। -: বাহ্ কি চমতকার শোনা গেলো। এই না হোলে রাজনৈতিক দল। দেশের ভিতরের সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা বিদেশী মাতব্বর নিযুক্ত করছি। বিরধী দলের এই সব মাথামোটারা কি একবারও ভেবেছে এতে বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদশের ভাবমূর্তি কতটুকু ক্ষতিগ্রস্থ হবে! একবারও কি ভেবেছে যে ৭০ লক্ষ প্রবাসীর কষ্টার্জিত অর্থে আমরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পেরেছি তাদের উপর কেমন প্রভাব ফেলবে এই মূর্খ পদক্ষেপে। ২০০২ অথবা ২০০৩ সালে হংকং এ আমাদের একজন মহানেত্রী ঘোষনা করেছিলেন, “ বাংলাদেশ তালেবানদের প্রশিক্ষণ এর দেশ হয়ে গেছে!” তার এই বিদেশ সফরের এবং এই ভাষণের পরে পৃথিবীর অনেক দেশ পোর্ট এন্ট্রি ভিসা বন্ধ করে প্রোএন্ট্রি ভিসা বাধ্যতা মূলক করেছিলো। যুক্তরাষ্ট্র ৩/৪ বছর (C1/D-সামূদ্রিক পেশায় প্রযোজ্য ও H1/H2-উচ্চ শিক্ষার্থে প্রযোজ্য, H1/H2 ব্যাপারে সন্দেহ আছে, ভুল হলে কেও সংশোধন করে দিবেন) এই ধরনের ভিসা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রেখেছিল। তখনকার এই অপরিনামদর্শিতার ভূক্তভোগী ব্যাক্তিগত ভাবে আমি ও আমার সাথে কতো বাঙ্গালী তার হিসাব আমি জানি না। তখন শুধু মনে মনে নিষ্ফল আক্রোশে ফুলতাম আর বলতাম, “ তোরা মারামারি কাটাকাটি হানাহানি যা করবি সব দেশের মধ্যে কর, বিদেশে তা কেনো বলবি। এসব করে দেশের ক্ষতি কেন করছিস তোরা!” এত বছর পরে অন্যদল আজ সেই রকম মূর্খামি আবার করলো, এটা তাদের করতেই হবে, কেননা অন্যদল করে তো এটা তাদের জন্য জায়েজ করে দিয়েছে। হোক না এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতি, হোক না সমস্যা ৭০ লাখ প্রবাসীর যাদের মৌমাছিতূল্ল্য পরিশ্রমে চলছে দেশের আমদানী ব্যায়ের চাকা!

২। বিএনপিই গুপ্তহত্যা চালু করেছে এই শিরোনামে ১৯ তারিখের প্রথম আলো “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে বিএনপিই গুপ্তহত্যা ও ঘুষ-দুর্নীতির সংস্কৃতি চালু করেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন”। -: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমরা কি শোনার প্রতিক্ষা করি আর আপনি কি শুনান! আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনি এ দেশের প্রধানমন্ত্রী ও একটি প্রধান দলের প্রধানও। আপনি কনো ৩য় বা ৪র্থ সারির রাজনৈতিক নন। আপনার বিগত কথা গুলো না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু এটাতে আপনি বলতে পারতেন না, “নিখোঁজ হওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা করবো তাকে খুঁজে বের করতে”। আপনার এই কথাতে এর সাথে সংলিষ্ট ব্যাক্তিরা কি আরোও উৎসাহিত হলো না, তারা কি এই অপকর্ম আবার করার পূর্ণ সার্টিফিকেট পেলো না? তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম বিএনপি এ গুপ্তহত্যা চালু করেছে, তাই বলে কি এটা আপনারাও করবেন! একদল করা মানে কি অন্যদল করার জন্য সনদপ্রাপ্তি হওয়া?

৩। ইলিয়াসকে উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি এই শিরোনামে ১৯ তারিখের প্রথম আলো “এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাগর-রুনির হত্যার তদন্তে পুলিশের ব্যর্থতার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি না পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। মামলার তদন্তে পুলিশ অনেক দূর এগিয়েছে।’

পুলিশ আদালতে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছে, সাংবাদিকেরা এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, তিনি বলেন, ‘আমি যা বলার বলে দিয়েছি।” -: গতকাল আদালতে পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেছেন, “ পুলিশ সাগর-রুনি হত্যা তদন্তে ব্যার্থ”। তার ভিত্তিতে আদালত তদন্তের ভার RAB এর উপর ন্যস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ৭ই এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ‘সাগর-রুনির হত্যাকারীদের শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে’ আজকে বললেন উপরের উদ্ধৃত অংশ। আমার প্রশ্ন হচ্ছে “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি কোন তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে তদন্তের অগ্রগতি বা শিঘ্রই অপরাধী ধরা হবে বলছেন?” যদি তাই হয় তাহলে আদালতে তারই দপ্তরের মুখপাত্র কিভাবে বলেন তারা ব্যার্থ হয়েছেন? তাহলে ওনাদের যে কোন একজন কি মিথ্যা, মনগড়া, তথ্য-প্রমান বীহিন কথা বলছেন! অথচ এই হত্যা তদন্ত বিষয়ে তথ্য-প্রমান ছাড়া কোন কিছু বলা বা লেখার উপর আদালতের রুল জারি আছে। যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা ঠিক হয় তাহলে আদালতে মিথ্যা তথ্য দেয়ার জন্য পুলিশের কি হওয়া উচিত, অথবা যদি পুলিশের কথা সত্যি হয়, তাহলে মিথ্যা বলার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে ‘অভিশংসন’ বা ‘ইমপিচ’ করার বিধান আছে কি? যদি থাকে তাহলে তার দাবি জানাচ্ছি। কারণ দায়িত্বশীল পদে থেকে এতো বড় ঘটনায় মিথ্যাচার জাতির জন্য দু:খজনক, লজ্জাজনক।

৪। পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর এই শিরোনামে ১৯ তারিখের প্রথম আলো “মিছিল করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে ছয়টি হাত বোমারও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন”। -: এরপর আবার আছে রোববার হরতাল! শনি ও রবি বার আবার কতো গুলি গাড়ি ভাঙ্গা হবে আল্লাহই জানে! সরকারী ও বিরোধীদল কে বলছি গাড়ি আর এখন শখের বিষয় নয়, ঢাকা শহরে যারা বসবাস করেন তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনিয় ও আবশ্যকীয় বাহন। আজকাল কার এই দুর্মূল্যের বাজারে একজন মধ্যবিত্তের জন্য কতো কষ্ট একটা গাড়ি করা তা হয়ত আপনারা বুঝতে পারবেন না। কত কষ্ট করে চলে, পাই পাই পয়সা জুরে বছরের পর বছর ধরে তারপর হয় মধ্যবিত্তের একটি গাড়ি। আমাদের গাড়িতে ভুতের বাচ্চা এসে টাকার বস্তা রেখে যায় না যা দিয়ে গাড়ি কেনা যায়! সেই গাড়ি যদি মূহুর্তের মধ্যে চূর্ন হয়ে যায়, কেমন অনুভূতি হয়! আমার একটা সাজেসান আছে, কেমন হয় আপনারা যদি নিজেদের গাড়িতে যার যার নাম, পদবি ও দলের নাম লিখে রাখেন। তাহলে আপনার বিরোধী দল উত্তেজিত হলে আপনাদের গাড়ি ভাংচুর করবে, আপনারা উত্তেজিত হলে ভাইস-ভারসা। একরম হলে ভাঙ্গেন যতো খুশী, আমরা জনতা তাহলে আপনাদের উৎসাহিত করবো চিয়ারং পার্টি হয়ে!

দেশ যে বিগত ৪১ বছরে উন্নতি করেনি তা কিন্তু নয়। আমাদের দেশ খুবই সফল। কিন্তু সেই সফলতা শুধু বেসরকারী ও জনগনের ক্ষেত্রে। কিছুদিন আগে “প্রথম আলো তে আনিসুল হকের” একটা লেখা পরেছেন। বাংলাদেশের মতো জনবহুল একটা দেশের সকল মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেয়ার সাফল্য, কোন খনিজ সম্পদহীন দেশের বিশাল আমদানী ভার তার মৌমাছিতূল্ল্য বৈদেশিক মূদ্রার্জনকারী শ্রমিকের ভার বহন করার সাফল্ল্য, হাজার হাজার নিম্নবিত্ত নারী-পুরুষের প্রস্তুতকৃত পোশাক শ্রমিকের নিরলস শ্রমের ফলে বাৎসরিক ৫ থেকে ৬ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সাফল্য। এসব সাফল্য আমাদের চোখে পরে। কিন্তু সাথে সাথে এই সাফল্ল্যের সরটুকু লোভীদের পেটে যাওয়াও চোখে পরে। এদের ব্যাক্তি বা দলীয় স্বার্থ হাছিলের জন্য (পদ্মা সেতু, কুইক রেন্টাল, শেয়ার বাজার, বৈদুতিক খাম্বা ইত্যাদি ইত্যাদি) জনগনকে বছরের পর বছর যে ঘানি টানতে হয় তাও চোখে পরে। তাই উত্তেজিত হয়ে যাই! পাঠক আপনারও কি আমার মতো উত্তেজিত অবস্থা? যদি তাই হয় তাহলে নিশ্চিন্ত হই আমার মাথার সুস্থতা নিয়ে। আপনারাও যদি আমার মতো উত্তেজিত হন, এবং তারপরও যদি কোন ডাক্তার আমার মস্তিষ্কের অবস্থা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তাহলে আমি সেই ডাক্তারকে বলবো, “ ভাই আমি পাগল হয়েই বাঁচতে চাই, যে পাগল ভালো মন্দের বিভেদ করতে পারে, তেমন পাগল হয়েই বাঁচতে চাই!”