ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

সহব্লগার সাআখান তার “হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর খোঁজ চাই, মিথ্যে শুনতে চাইনা” শিরনামে তার তিন/চার বয়সে মেলায় হারিয়ে যাওয়ার একটি ঘটনা লিখেছেন। তারপর মেলা সংলিষ্ট একটি মসজিদের মাইকের ঘোষনায় কিভাবে তাকে ফিরে পাওয়া গেলো তার বিবরন দিয়েছেন! পাশাপাশি সেই আপনজন হারানোর কি দুঃসহ বেদনা তার আকুতি থেকেই বর্তমান সরকারের প্রতি আবেদন করেছেন সব নিখোজ ব্যাক্তিদের খোজ বের করে দেবার জন্য। নিসন্দেহে এটি একটি সুন্দর ও সময় উপযোগী লেখা। লেখাটি পড়ে আমি একটু বেশিই আবেগ প্রবন হয়ে পড়েছিলাম ও তাকে একটি লম্বা-চওড়া মন্তব্য লিখেছিলাম, যেটা আমার মনে হয়েছে পাঠককুলের সাথে শেয়ার করি।

ধন্যবাদ ভাই সাআখান, অত্যন্ত সুন্দর ও সময় উপযোগী লেখা পোষ্ট করার জন্য। আমার মনে হয় পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনি শুকরিয়া আদায় করুন যে, আপনি সেই সময় হারিয়েছিলেন(আপনার প্রফাইল/পূর্বাতন লেখা থেকে অনুমান করছি আপনার বয়স ৩০-৪০ এর মধ্যে হবে)। বর্তমানে জন্মালে এবং হারালে মাইকিং এর মাধ্যমে আপনাকে পাবার সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি ছিল এবং এটা নিয়ে প্রতিহিংসা পরায়ন দু-দলের একে অপরকে দোষারোপ, দু একটা হরতাল, গাড়ি ভাংচুর যে হতো এটা আমি হলফ করে বলতে পারি। আপনি বলেছেন আপনার বাবা যিনি মসজিদ কমেটির সভাপতি(আজকের জামানায় ছোটপদের বা সৎ/আম পাবলিক কাওকে তো সভাপতি করা হয় না) মাইকে ঘোষনা করেছিলেন। কিন্তু আজকাল হলে, মুহূর্তে সরকারী দলের নেতা মাইকের দখল নিয়ে বাজখাই গলায় বলতো, “ আজ সরকারী দলকে বেকায়দায় ফেলতে, সরকারী দলের সুনাম ক্ষুন্ন করতে, আন্দলনের ইস্যু তৈরী করতে বিরোধী দলের চক্রান্ত এটা। তারপর শুরু হয়ে যেত বিরোধী দল গত ক্ষমতার আমলে কি কি আপকর্ম করেছে, কার জন্ম কোথায়, সরকারী দল কি কি সব মহৎ কাজ করেছে, কতো গুলি সাবমেরীন সম অশ্বডিম্ব প্রদান করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি হিসাব প্রদান”। এই কু এবং মহৎ কার্যনামার মধ্যে আপনি কোথায় বিলীন হয়ে যেতেন জনতাও বুঝতে পারতো না। অপর পক্ষে বিরোধী দলও কম যেতো না। মসজিদের রাস্তার বিপরীত পাশ্বেই ভাড়া করা(মসজিদের মাইক সাধারনত সরকারী দলের ই ব্যাবহার করার নিয়ম। হাজার অনিয়মের এই দেশে সরকারী/বিরোধীদল কিন্তু অলিখিত চুক্তি হিসাবে এই নিয়ম তাদের মঝে ঠিকই মেনে চলেন) মাইকে তদানুরুপ বাজখাই গলায় বলে যেত, “ আজকে এই এক দলীয় সরকারের রাজত্বে আমাদের দলীয়(আমার মাথায় আশেনা ৩/৪ বছরের শিশু কিভাবে দলীও হয়!) শিশু অপহরন/গুম হয়ে গেলো।আমরা আমাদের আমলে হ্যান করেছি-ত্যান করেছি, সরকারী দল দেশ শেষ করে দিল, কে কার কোলে বসেছে ইত্যাদি ইত্যাদি” কুরুচীপুর্ন কথার মধ্যে আপনি কোথায় হারিয়ে যেতেন তার হিসাব নেই। আপনি হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন আজকাল যে এটা হতো তা আমি কিভাবে বুঝলাম? আজকাল মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে যায়, কিন্তু নেতাদের পক্ষথেকে সুন্দর-সুললিত ভাষায় “মৃত্যু পরবর্তি শোক বার্তা” পৌছে যায় জীবিত মানুষের জন্য, তেমন এধরনের পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই ফরমেটেড দলীয় ভাবধারায় লেখা বক্তব্য প্রস্তুত থাকে!সেরকম ফরমেটেড লেখা থেকে আমার এ অনুমান।

আপনি আল্লার কাছে শুকরিয়া করেন যে, আপনি সে আমলে একজন আইজুদ্দিন(টমটমের দোকানের বুড়ির) কাছে পড়েছিলেন। যদি কোন কারনে আপনাকে পাওয়া নাও যেত, আইজুদ্দিনরা অত হৃদয়হীন হয় না। আপনাকে ঐ আইজুদ্দিন বুড়ি ফেলে দিত না।আপনাকে তার আরেকজন সন্তানের মতো মানুষ করতো।কিন্তু আজ তা হলে কি সেই বুড়ি ইচ্ছে থাকা স্বত্তেও তা করতে পারতো? দুর্নিতী, প্রতিহিংসা পরায়ন এই রাজনীতির যুগে, সিন্ডিকেট বাজীর এই আমলে সেখানে দ্রব্যমূল্ল্য সেখানে এক টমটম বিক্রেতা বুড়ি কি পারতো আরেকটি অতিরিক্ত মুখের খাবার জোগাড় করতে? পারতো না, তাই প্রচন্ড অনিচ্ছা থাকা সত্যেও আপনাকে কনো এক রাস্তার কোনায় ফেলে রেখে চোখের পানি মুছতে মুছতে বলতো, “বাবা বেচেঁ থাকিস, পারিস তো আমার এই অক্ষমতা, আমার এই আপারগতাকে ক্ষমা করে দিস!” তারপর যতদুর চোখ যায় ধুধু দিগন্ত পর্যন্ত হেটে হেটে যেতো নিজের সন্তানের হাত ধরে বেদনাযুক্ত মনে ভাবতো আপনার কথা। কারন সে আজকার যুগের একজন রাজনৈতিক নয়, সে পারে না মানুষের দুঃখ-কষ্টকে পুজি করে রাজনীতি করতে, পারে না অন্যের কষ্টে পরিহাশ মূলক মন্তব্য করতে, কটাক্ষ করতে।কারন সে একজন আইজুদ্দিন, ১৬ কোটি আইজুদ্দিনের মতো একজন আইজুদ্দিন, যারা অন্য মানুষের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়ায়, অন্যের কষ্টে ব্যাথা পায়, যারা দেশকে দলের চেয়ে বড় মনে করে!