ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

-আচ্ছা কবরে গাছ লাগানো হয় কেন?
-ঠিক জানি না।তবে কোথায় যেনও শুনেছিলাম,তাজা গাছ নাকি মরহুমের জন্য দোয়া করে।হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
-না।বছরের প্রথম দিন পেপারে পড়লাম ফেলানির কবরে গাঁদা ফুল ফুটেছে।সেদিন খবরটা পড়ছিলাম আর চোখের সামনে ভেসে উঠছিল মর্মান্তিক সেই মৃত্যুটা ।কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানো,এই বছরের প্রথম আলো কিংবা দেশের অনেক বড় পত্রিকার সালতামামিতে এই ঘটনার কোন উল্লেখ পেলাম না।সংবিধান সংশোধন থেকে শুরু করে লিমনের পঙ্গু,মিশুক-মাসুদের মৃত্যু সবই জায়গা পেল ,জায়গা হয়না শুধু ফেলানিদের।
-হয়ত ফেলানিরা গরিব তাই ফেলানিদের কাছ থেকে নগদ নারায়ণের কিংবা কিছুমিছুর আশা করা যায়না
-মজার ব্যাপার কি ,আসছে সাত তারিখেই দেখবে খেলাটা।
-সেদিন আবার কি?
-সেদিন ফেলানির মৃত্যুর একবছর পূর্তি ।মিডিয়া খুব পড়িমরি করে ফেলানিদের বাড়ি যাবে আর কুঁড়েঘরের সামনে দাড়িয়ে খুব আবেগঘন একটা রিপোর্ট করবে।অবশ্য এর বেশি আশা করা উচিতও না।যে দেশের বিজিবি কর্মকর্তার ছেলেরা বিএসএফ কর্তৃক ইন্ডিয়াতে সৌজন্য সফরে নিয়ে গেলে বিবিসিকে সাক্ষাতকার দেয় “এদেশের বেশিরভাগ মানুষ অশিক্ষিত,তাই তারা ইন্ডিয়া নিয়ে নেগেটিভ ধারণা পোষণ করে।” কিংবা “ বর্ডারে যারা মারা যায় ,তাদের সবাই স্মাগ্লার-চোরাকারবারি ।আর কেউ অপরাধ করলে তাকে তো মারাই উচিত ,তাই না।
-তারা হয়তবা ফেলানির ঘটনাটা জানেইনা।গত বছরের সাতই জানুয়ারি সকাল সোয়া ছয়টায় অনন্তপুর সীমান্তে মই দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গানোর সময় খুব কাছ থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করা হয় ফেলানিকে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কাঁটাতারে আটকে ঝুলতে থাকা মারাত্মক আহত ফেলানি পানির জন্য জন্য কাতরাচ্ছিলও।ঘটনার আগেই পিতা কাঁটাতার পেরিয়ে এসেছিলেন।তিনি চরম অসহায়ত্তের কাছে আত্মসমর্পণ করে পাশেই দাঁড়িয়ে শুনেন সন্তানের মৃত্যু যন্ত্রণার কাতরানি।কিন্তু খাওয়াতে পারেননি এক ফোঁটা পানি।কারণ কাছেই ছিল অস্ত্র হাতে হিংস্র বিএসএফ।একসময় নিথর হয়ে পড়ে ফেলানি।কিন্তু এখানেই শেষ নয় বর্বরতার গল্পও।পাঁচঘণ্টা লাশ ঝুলে থাকে কাঁটাতারে।ঘটনার ত্রিশ ঘণ্টা পরে আট তারিখ লাশ ফেরত দেওয়া হয়।
-কয়েকদিন পর নাকি ফেলানির বিয়ে ছিল?
-পেপারে সেরকম কিছুই লিখেছিল।তার ছোট ভাইবোনেরা হয়ত বোনের জন্য বিয়ের ফুল গাঁথতে না পেরে সেই ফুলের গাছ কবরেই লাগিয়েছে।আর হয়ত ফুলের হাসির মাঝে বোনের হাসি খুঁজে বেড়াচ্ছে।