ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কাছে ‘হরতাল’ তাঁর জীবনের নিরাপত্তা ও জীবনযাপনের জন্য সে যে শ্রম নিয়োগ করেন বা বিক্রি করেন সেসবের জন্য হুমকিস্বরূপ। রাজনৈতিক পণ্ডিত ও ভেকধারী সুশীলরা অবশ্য বলে থাকেন – যে ‘হরতাল’ রাজনৈতিকদের রাজনৈতিক অধিকার। ‘হরতাল’ রাজনৈতিক ব্যবসায়ীদের জন্য অধিকার হতেই পারে, কিন্তু তা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ক্ষতিকর। যেসব সুশীল ও রাজনৈতিক পণ্ডিতেরা ‘হরতাল’ কে রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে চাপায়ে দেন, তারা সাধারণ মানুষের সাথে কোনভাবেই সম্পৃক্ত নন। এনারা ননী খান, প্রতিদিনকার জীবনযাপনে যে তেল-নুন দরকার পড়ে সেসবের চিন্তা এসব উলুখাগড়াদের দরকার পড়ে না।

একজন সাধারণ মানুষ যখন সারাক্ষণ চিন্তায় থাকেন -দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে? কোন সুখবর আছে কারো কাছে? রাজনৈতিক পরিমণ্ডল কী দানব আর রাক্ষসদের দখল থেকে মুক্ত হবে না কোন দিন? এদেশের সাধারণ মানুষ কী নিজেদের জীবনের স্বাভাবিক নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচার অধিকার পেতে পারে না? আর কত দিন এসব সাধারণ মানুষের ঘাড়ের উপর ভর করে রাজনৈতিক দানবগুলো উল্লাস করতে থাকবে? এতসব প্রশ্নের ভিড়ে হরতাল কেড়ে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তাটুকুও।

সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে তছনছ করে দিচ্ছে যে ‘হরতাল’, সেটা রাজনৈতিক অধিকার হতে পারে না, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটছে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা সমূলে দূর হোক এদেশ থেকে।

‘হরতাল’ এ কখনও কি কোন রাজনৈতিক পণ্ডিত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এদেশে? কোন সুশীলের একটা লোমকূপও কি দগ্ধ হয়েছে ‘হরতাল’ এ?

‘হরতাল’ গণতান্ত্রিক অধিকার! গণতান্ত্রিক অধিকার বলতে কী বোঝায়? হত্যা? ভাংচুর? সাধারণ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধচারণ করাকে? গাড়ি পোড়ানোকে?