ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

২০০৩ সালের পূর্বে মালদ্বীপে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের কথা বলার কোন নেতা ছিলোনা। জনাব মীর সাইফুল ইসলাম এখানে ২৫ বছর আগে বিবাহ করেছেন এবং এখানে সব চেয়ে সন্মানিত একজন উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষক। তাঁর আব্বা একজন মুক্তিযোদ্ধা, তিনি একমাত্র আওয়ামী লীগের মাঝে মধ্যে নেত্রিত্ব দিতেন কিন্তু খোলা ময়দানে রাজনৈতিক বক্তব্য নিষিধ্য থাকার কারনে কোন সভা সমিতি করা যেতো না। ২০০৩ এ আমি এসে সর্ব প্রথম স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য প্রদান করি এবং আমার সে সভায় মাননীয় পররাষ্ট্র সচিব মিরাজুল কায়েশ স্যার উপস্থিত ছিলেন।

আমি সর্ব প্রথম বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠণের প্রস্তাবক এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পরবর্তীতে অন্যান্য সভা সমূহে আমিই আন অফিসিয়াল্লি একমাত্র আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রদানকারী এবং বলিষ্ঠ, আপোষহীন কন্ঠস্বর এ কথা মালদ্বীপস্থ সর্বজনবিদিত। পূর্বে কেউ আমার সামনে কখনো বঙ্গবন্ধু বা জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আমার ভয়ে কথা বলেনি। “বর্তমান মাননীয় পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েশ স্যার এখানে হাই কমিশনার থাকাকালীন সময়ে তিনি আমাকে জয় বাংলা বলে ডাকতেন। এবং দু’বছর আগে একবার ভ্রমণে এসেও আমাকে “মিঃ জয় বাংলা বলে জড়িয়ে ধরেছিলেন” ( আমার এ লেখাটুকু তাঁর টেবিলে কেউ দিতে পারলেই প্রমান পাবেন)।

হাই কমিশনার রিয়ার এডমিরাল আঊয়াল এসে যোগদান করার পর থেকেই গোপনে শিবির ও বিএন পি’র সমর্থক ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মিটিং করে একটি নতুন কম্যুনিটি গঠণের তালিকা করেন। যে তালিকায় প্রাক্তন আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় সকলকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেয়া হয় এবং মেইন পদসমূহে বিএনপি’র ক্যাডার, অবৈধ আদম ব্যবসায়ী, (যাদের নামে হাজারো মামলা রয়েছে এবং অনেকেই নানাবিধ অবৈধ ও অসামাজিক কার্যকলাপের কারনে মালদ্বীপ থেকে বিতারিত হয়েছে। আবার বৈবাহিক সূত্রে প্রবেশ করে সেই অবৈধ ব্যবসা পাকাপোক্তভাবেই করছেন) মৃত ব্যক্তির লাশ নিয়ে ব্যবসাকারী, নারী পাচারকারী, ( যারা এখানে নারীর অবৈধ যৌন ব্যবসার সাথে জড়িত) অবৈধ জাল ডলার ব্যবসার অপরাধে জেল খাটা কয়েদী (এখানে বিবাহ করে বৈধ হয়েছেন) এদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ কম্যুনিটির নতুন কমিটির তালিকা প্রণয়ন করেন। আমি কম্যুনিটির নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক, অথচ নাম কম্যুনিটির প্রস্তাবিত কমিটির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। উল্লেখ না করলেই নয় যে, মালদ্বীপে আমিই একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয় কণ্ঠশিল্পী । কোনো অনুষ্ঠানাদিতে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা দায়িত্ব দেন না বা বিশেষ প্রয়োজনে ডাকেন ও না। তিনি সব সময় ওই সকল চিনহিত ক্রিমিনালদের ডাকেন এবং তাদের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে যোগদান করেন। মাঝে মাঝে কারো কারো সাথে মাননীয় হাই কমিশনারকে অল্পদামী খোলা হোটেলে বসে শলা পরামর্শও করতে দেখা যায়।

জনাব এডমিরাল আঊয়াল সাহেব আসার পর থেকেই জামাত শিবির ও বি এন পি এখানে বেশ তৎপর হয়ে ঊঠেছে। হাই কমিশন আমাদের কোণঠাসা করে রাখার কারনে বি এন পি জামাত যেখানে সেখানে আমাকে এবং অন্যান্য প্রাক্তন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছেলেদের অপমানসহ টেলিফোনে মারধর করার হুমকি প্রদান করছে। আমার হাত পা’ভেংগে দেয়া হবে, আমার মূখ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়া হবে। অর্থাৎ মালদ্বীপের মাঠ এখন রিয়ার এডমিরাল আঊয়াল, বি এন পি ও জামাত শিবিরের দখলে। আঊয়াল সাহেবের প্রধান সমন্বয়কারী তৃতীয় সচিব অহিদুজ্জামান লিটন যিনি দুই নম্বর ট্রাভেল পারমিট প্রদান করে, অবৈধ ডলার ব্যবসা করে এবং স্থানীয় অবৈধ আদম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণের অর্থ উপার্জন করছেন। আরো হাজারো কাহিনী যা’ কাগজে লেখা সম্ভব নয়, শুধু বাস্তবে তদন্ত হলেই প্রমান করা সম্ভব।

২.
বিগত ২০১০ সালে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালন করা হয় ওই রকম এক ভাংগাচূড়া এবং আঊয়াল সাহেবের মনগড়া কম্যুনিটির উদ্যোগে। যে অনুষ্ঠানে মালদীপে আমরা কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলাম না বার্ষিক ছুটির কারনে। উক্ত “অনুষ্ঠানে জামাত শিবির ও বিএনপির ক্যাডাররা জাতিরজনক, মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি টাঙ্গাতে দেয়নি। বিষয়টি আমরা ছুটির পরে কাজে যোগ দিয়ে হাই কমিশনার সাহেব কে জানালাম। এবং বললাম কোনো রাজাকার বা তাদের বংশধর যদি বঙ্গবন্ধুকে অপমান, তাচ্ছিল্ল করেন, তাদের বিচার না করা হলে, আমরা তাদের সাথে কোন অনুষ্ঠান করবো না এবং তাদের কম্যুনিটি থেকে বাদ দিতে হবে। তিনি শুনলেন কি শুনলেন না বুঝা গেলো না, হঠাত রেগে গিয়ে বললেন ঠিক আছে আপনারা লিখিত দিন আমি দেখবো। এবং বললেনঃ এভাবে সব দোষ খুঁড়ে খুঁড়ে বাদ দিলে কাকে নিয়ে কম্যুনিটি করবো? “

৩.
বিএনপি’র অন্যতম একাউন্ট্যান্ট জনাব সফিউল্লাহ সাহেব চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন বিএনপি সরকারের সময় থেকেই। তাঁর ছেলে জনাব জসিম স্থানীয়ভাবে নিয়োগকৃত একজন পিয়ন। বলতে গেলে জসিম ই এখানে পরোক্ষ হাই কমিশনার। জসিম নিজে ট্রাভেল পারমিট ও পাসপোর্ট ইস্যু করেন। নিজেই হাই কমিশনারের পক্ষে অর্থ গ্রহন করেন। অনেক ক্রিমিনালের বিরুদ্ধে মালদ্বীপ সরকারের হুলিয়া থাকার কারনে তাদের পাসপোর্ট সীজ করা হয়। এই সকল ক্রিমিনালদের গোপনে বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে তিন পাতার ট্রাভেল পারমিট দিয়ে দেশে পাঠানো হয়। এই বড় অংকের অর্থ হাই কমিশনার সহ সকলেই ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে থাকেন। কারো কোনো পাসপোর্ট রিনিঊ করাতে হলে সরকারী ফি দিতে হয় ২০ ইউ এস ডলার। এ ক্ষেত্রে হাই কঃ নিয়ে থাকেন ২২ ডলার। ওই দুই ডলার পর্যায়ক্রমে ভাগ বন্টন হয়ে থাকে। কারো চাকরী/ভিসা /পাসপোর্ট না থাকলে নিয়ম হচ্ছে সরকারী খরচে তাদের দেশে পাঠাতে হবে এবং ওই বিমান ভাড়া সরকার বহন করবে। এ খেত্রেও হাই কমিশনের জসিম সাহেব প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে বিমান ভাড়া সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের নিকট থেকে গ্রহণ করে থাকেন এবং যথারীতি বন্টন করেন।

৪.
গত দু’মাস পূর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল ফারুক সাহেব স্বপরিবারে এসেছিলেন। তাঁকে গাইড হিসেবে একজন এবং বডিগারড হিসেবে একজন, এই দুইজনই মালদ্বীপের সব’চে চিনহিত সন্ত্রাসী এবং বিএনপি’র ক্যাডার হিসেবে সর্বজনবিদিত। মীর সাইফুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা) আমি (বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি), বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারন সম্পাদক (প্রাক্তন কুমিল্লার বাঞ্ছারাম্পুর ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা এ কে এম ইকবাল এবং একজন বৈধ আদম ব্যবসায়ী, একজন আই টি এক্সপার্ট মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে Holiday Inn Hotel এ দেখা করি এবং আমাদের পরিচয় প্রদান করে মালদ্বীপের সকল সুবিধা ও সমস্যাদির কথা তুলে ধরি। এমন সময় হাই কমিশনারের সাথে ওখানেই আমাদের দেখা হয়। আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারি এ আশংকায় তিনি খুশী হতে পারেননি। হাই কমিশনার সাহেব চলে আসেন। মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আমাদের দেখা করার বিষয়টি মাননীয় মন্ত্রীর বডিগার্ড ও গাইড হিসেবে দেয়া বিএনপির ক্যাডার শরীফ ও রিপন হাই কমিশনারকে ফোন করে জানান।

পরেরদিন তিনি আমাকে বাদেই কম্যুনিটির মিটিং ডেকে আমার সম্পর্কে সীমাহীন কটু ভাষায় বক্তব্য রাখেন এবং আমি কেনো মন্ত্রী সাথে দেখা করলাম? এ অপরাধে তিনি আমাকে মালদ্বীপ থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দিয়ে বললেন, কাল মুক্তি স্কুলে যেয়েই দেখবে তাঁর চাকরী নেই। আমি ইচ্ছে করলে কেউ মালদ্বীপে থাকতে পারবে না। তিনি আরো বললেন। আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ করার কারনে আমাকে মারার হুমকি দিয়েছে, এখন জানা গেলো, সেটা হাই কমিশনারের ইঙ্গিতে হয়েছে। আমি সব বিষয়গুলো আমাদের বানিজ্য মন্ত্রীকে জানালাম। হাই কমিশনার হুমকি দিয়েছে আমাকে মালদ্বীপ থেকে ডিপোরট করবে। আমার চাকুরী খাবে। শুধু তাই না, যারা মন্ত্রীর সাথে দেখা করেছেন, তাদের সবাইকে মালদ্বীপ থেকে দেশে পাঠিয়ে দিবেন এবং এক পর্যায়ে বিএনপি জামাত ও শিবিরের ক্যাডারদের ডেকে মিটিংয়ে তিনি ঘোষনা দিয়েছেন, তিনি রিয়ার এডমিরাল, অনেক ক্ষমতাবান যে কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু করার চেষ্টা করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

৫.
“সেদিন বানিজ্যমন্ত্রী মহোদয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাননীয় হাই কমিশনার বললেন, তার ঘরবাড়ি একাত্তুরে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু তিনি বললেন না যে ৭১ সালে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে । প্রশ্ন হচ্ছে, বাড়ি পোড়ানোর বিষয়টি বড় না ঘর পোড়ানোর বিষয়টি বড়? বাবার মৃত্যুর কথা না বলে তিনি বললেন তার বাড়ী পোড়ানো হয়েছে। তার বাবাকে পাট ক্ষেতের পানি থেকে ধরে এনে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ কথা হাই কমিশনারের স্ত্রী বলেছেন। তার মানে কী? পাক বাহিনী পাট ক্ষেতে নেমে তার বাবাকে ধরে কুপিয়ে মেরেছে? বিষয়টি এখানেই পরিষ্কার । বিষদ ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না। “

৬.
১৯৯৩ সালে আমি জাপানে একই ঘটনার স্বীকার হয়েছিলাম। খালেদা জিয়ার নিয়োগ দেয়া ডেপুটি হাই কমিশনার ছিলো বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী লেঃ কঃ রাশেদ চৌধুরী । যাকে আমরা ২১শে ফেব্রুয়ারী জাতীয় পতাকা ছুঁতে দেইনি। আর ওই সকল প্রতিবাদী গ্রপের মধ্যে আমি মুক্তিও একজন যারা টোকিওর হাজার হাজার পুলিশকে তোয়াক্কা করিনি। হাজার হাজার পুলিশ এসেছিলো কিন্তু পুলিশ যখন জানতে পারলো যে রাশেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর খুনী তখন তারা চুপচাপ আমাদের অনুষ্ঠান চালিয়ে যাবার জন্য বললেন এবং রাশেদ চৌধুরী ভাগলেন। ইতিহাস কথা বলে।

আজ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী আর মুক্তির অস্তিত্ব শেষ, মুক্তির জীবনের স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সাধনা, স্বপ্ন সব শুন্যের কোটায় গিয়ে দাড়িয়েছে । আমি ৭১ মুক্তিসেনা মুক্তি ৪০ বছর পরে আপনাদের কাছে জীবন ভিক্ষা এবং স্বাধীনতার ফসল দাবী করছি। মালদ্বীপে নিয়োজিত হাই কমিশনার রিয়ার অ্যাডমিরাল এ এম এস এম আওয়াল একজন রাজাকারের সন্তান। হাই কমিশনারের একটা কিছু না করা পর্যন্ত আমার শান্তি নেই। গত কয়েকদিন যাবত হাই কমিশন যা করেছে সেটা মালদ্বীপ সরকারের দৃষ্টিতে একটি বিশাল অপরাধ। যদি আমি এই অভিযোগ এখানকার সরকারের কাছে করি, তাহলে হাই কমিশনের সকল স্টাফ ডিপোরট হবে, সন্দেহ নেই, কিন্তু বাঙ্গালী জাতির সকল গৌরব ভেস্তে যাবে। বাংলাদেশীদের মাথা একেবারে ধূলায় মিশে যাবে।

৭.
আমি মালদ্বীপে একমাত্র আওয়ামী লীগ নেতা, বক্তা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
আমার কমিটিকে মন্ত্রির সাথে দেখা করতে দেয়নি বরং ওনার বাসায় কাজ করে আবার মাঝে মধ্যে হোটেলে বেয়ারার কাজ করে সেলিম নামে এমন একজন এবং দু’জন নাইট গার্ডকে দিয়ে মন্ত্রীর ছবি লাগিয়ে একটি কমিটি দেখিয়ে হাই কমিশনার মন্ত্রীকে পুশপমাল্য প্রদান করান। আমি মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ কমিঊনিটির সাধারণ সম্পাদক, আমাকে কোনো কাজে নিমন্ত্রন করা হয়না, ডাকা হয় না। আমার কমিটিকে কোন অনুষ্ঠানাদি করতে দেয়া হয় না। আমার কম্যুনিটির কমিটিতে বেশিরভাগই আওয়ামী লীগার। হাই কমিশনার বিএনপি জামাত, চোর, ডাকাত, গুন্ডা, কিছু আছে যারা নারীর ব্যবসা করে, আদম ব্যবসা করে এবং স্থানীয়ভাবে দুই নম্বর ডলারের ব্যবসা করে, তাদের নিয়ে একটি নতুন কমিটির তালিকা করেছেন। হাই কমিশনে একজনও আওয়ামী লীগের সমর্থক নেই। আমার বয়স হয়েছে, হার্ট প্রবলেম, ডায়াবেটিক আছে, কিডনীর প্রচন্ড ব্যথা, কোনো মতে চাকুরী করে যাচ্ছি শুধু মেয়েটা লন্ডনে লেখা পড়া করে এ কারনে। আমি বিচার চাই। আমি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি চাই। আমার ৭১ সমস্ত অব্দানের বিনিময়ে বিচার চাই। এখানে জাতিরজনকের কথা বলার কেউ নেই, আমি মুক্তিছাড়া। সে মুক্তির কন্ঠ হাই কমিশনার রুদ্ধ করে দিয়েছে, তার অর্থ কী? এ কথা আওয়ামী লীগ সরকারে কানে কে দেবে? কে আছে যে পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে এ সংবাদ অনতিবিলম্বে জানাবে এবং ত্বরিত গতিতে একশন নেবে। হাই কমিশনে ঘটিত বিগত ৭ বছরের সকল দুর্নীতির একটা তদন্ত হওয়া দরকার।

৮.
হাই কমিশনের তৃতীয় সচিব ওয়াহিদুজ্জামান লিটন নিজেই বিএনপির ক্যাডারদের সাথে রোজ মিটিং করে এবং তাদের বাঙ্গালী হোটেলে আড্ডা দেয়। কালও তাকে বিএনপি’র ওই ক্যাডারদের সাথে মিটিং করতে দেখা গিয়েছে। এখানকার আমার আট বছরের জীবনে। কখনো শিবিরকে মূখ ফুটে কথা বলতে দেখিনি। ওরা তিন দিন আগে আমাকে ওদের লিফলেট সরবরাহ করেছে এবং আমাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এ সকল কর্মকাণ্ডের পিছনে হাই কমিশনারের হাত। আমাদের উদ্দার করেন প্লিজ । হাই কমিশনের স্টাফরা যে দূরনীতি করে, তার প্রমান দেখুন। সব তো আর আমাদের কাছে রিপোর্ট আসে না।

আওয়ামী লীগের বানিজ্যমন্ত্রীর ট্যুর গাইড ও বডিগারড দেয়া হয়েছে বিএনপি ও শিবিরের ক্যাডারদের। যারা আমাকে মারার হুমকি দিয়েছে ।এবং গত ১৬ ডিসেম্বর ২০১০ হাই কমিশন ও স্থানীয় হাই কমিশনারের গড়া কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, সে অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু, নেত্রী ও জিল্লুর রহমানের ছবি যারা টাঙ্গাতে দেয়নি, সেই সকল স্বাধীনতা বিরোধী জামাত শিবির এবং বিএনপি’র ক্যাডারদের দেয়া হয় বানিজ্য মন্ত্রীর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের দায়িত্ব। আমি অনুষ্ঠানে যেতাম না, শুধু বানিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান সাহেবের অনুরোধে বঙ্গবন্ধুর একটি গান গাওয়ার জন্য এবং যেহেতু হাই কমিশনার হুমকি দিয়েছে, যদি গান না গাই তাহলে উনি আমার চাকরি খেয়ে ফেলবেন, তাই অনেকটা ভয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। মন্ত্রীর মেয়েরা আমার ইন্টেরনেট এক্টিভিটিজের সাথে খুব পরিচিত। বললেন আপনি অনেক শুকিয়ে গেছেন, তাই মুক্তিভাই আপনাকে চিনতে পারিনি। সমস্ত বিষয়টি আমি মন্ত্রী মহোদয়কে জানিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, তিনি জরুরী ভিত্তিতে একশন নেবেন। কিন্তু দেখা গেলো কিছুই না। এমন অনেকেই অনেক কমিটমেন্ট করে থাকেন ফলতঃ কিছুই হয়না। আমি একাত্তুরের একজন জেনুইন ফ্রিডম ফাইটার হিসেবে সরকারের কাছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি তদন্ত কমিটি চাই। যে কমিটির আগমনের কথা হাই কমিশনকে পূর্বে জানানো হবে না। তাহলে সেখানে তদন্তের নামে অন্য কিছু হবার সম্ভাবনাই বেশি।

একব্যক্তির বাড়ী ভোলা জেলার দৌলত খান থানায় এবং এই ভিক্টিমকে সন্ত্রাসী আদম বেপারীরা মেরে ফেলার হিমকি দিলে সে আমার কাছে আশ্রয় নেয় এবং হাই কমিশ্নের জসীম নামের স্থানীয়াভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন পিয়ন, যিনি মাঝে মাঝে নিজেকে হাই কমিশনারও বলে থাকেন। তিনি ভিক্টিমের কাছ থেকে ৩ হাজার দুইশত মালদ্বীপের রুফিয়া গ্রহন করেন এবং এই কাগজটি লিখে নিজেই রিকমেন্ট করেন। তাকে টিকেট দেয়া সরকারের পক্ষ থেকে অথচ তাকে বলা হয় যে ওই রুফিয়া টিকেটের জন্য নেয়া হল। অপর দিকে মালে থেকে ঢাকা শুধু যাবার টিকেটের মুল্য ৪ হাজারের মতো। এ সবই হাই কমিশনার এবং তৃতীয় সচিবের জানামতে হয়েছে এবং তিন পাতার ত্রাভেল পারমিট সাধারণতঃ তৃতীয় সচিবের সাক্ষরেই হয়ে থাকে। তাহলে ওই ভিক্টিমের টাকাটা সমভাবে বন্টন হয়েছে। এই ভিক্টিম হচ্ছে আমার সাবেক মন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য ভোলার দৌলতখানের তোফায়েল আহমেদ সাহেবের গ্রামের এবং তার বোনের ভাশুরের ছেলে। বিষয়টি মাননীয় বানিজ্য মন্ত্রী মহোদয়কে তাতক্ষনিক জানানো হয়েছিলো।

৯.
বর্তমানে হাই কমিশন এবং মালদ্বীপ সরকার যৌথভাবে অবৈধ ও অসাধু আদম বেপারীদের ৯০ জনের একটি তালিকা তৈরী করেছে। সেটা হাই কমিশনের কর্মচারী এবং হাই কমিশনের দালালদের হাতে। ওরা ছোট খাট দালালের কাছে যেয়ে হুমকি দেয় এবং বলে তোমার নামো আছে। তোমাকে টাকা দিতে হবে এবং তারা ভয়ে জীবন রক্ষা এবং গ্রেফতার এড়ানোর ভয়ে টাকা দিচ্ছে এবং হাই কমিশনের স্টাফরা ভালোই ইনকাম করছে। হাই কমিশনে নোয়াখালীর বি এন পির লোকজন কিভাবে চুক্তিভিত্তিক দীর্ঘ সময় হাই কমিশনে চাকরী করে? পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কি কোনো সরকারী সৎ লোক নেই? যাদের এখানে বদলী দেয়া যায়?

মালদ্বীপ সরকার ৯০ জন অবৈধ আদম বেপারীর তালিকা করে অর্ধেকের মতো গ্রেফতার করেছে। বাকীদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করেছে। যাদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করেছে, ওই সব ক্রিমিনালদের টাকা খেয়ে হাই কমিশন ওদেরকে তিন পাতার পাসপোর্ট দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। যেটা কূটনৈতিক নীতি লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধ। হাই কমিশানার নিজেও তার কর্মচারীদের অপকর্মের ভিত্তিতে অর্জিত অর্থের ভাগিদার। হাই কমিশনের কর্মচারীরা ব্লাকে ডলার ব্যবসা করে যেটায় হাই কমিশনারের ভাগ রয়েছে। আমি আমার মেয়ের জন্য নিজে হাই কমিশনারের কাছে ডলার চেয়েছিলাম তিনি বললেন, হা ডলার আছে, ওরা বিক্রি করে অই আমাদের চায়ের পয়সাটা হয়। এ কথার মানে কী? ঠিক তারই দুই দিন পূর্বে ৫ জন বাংলাদেশীদের অবৈধ ডলার ব্যবসার অপরাধে মালদ্বীপ সরকার গ্রেফতার করে দেশে পাঠিয়েছে।

মালদ্বীপে বৈধ/অবৈধ প্রায় ৭৫ হাজার বাঙ্গালী বসবাস করে। ডলারের অভাবে কেউ দেশে টাকা পাঠাতে পারছে না। বাংলাদেশি কোন ব্যাংক অথবা ব্যংকিং ব্যবস্থা নেই বলে এবং খোলা মার্কেটে ডলারের অভাবহেতু বাংগালীরা হিম শিম খাচ্ছে। তাদের মা বাবা না খেয়ে মরছে আর হাই কমিশন তার কোনো ব্যবস্থা না করে বরং পুরো হাই কমিশন কর্মকর্তা কর্মচারীরা মিলে অবৈধ ডলার ব্যবসা করছে। হাই কমিশনার নিজে আমার কাছে উচ্চ মূল্যে ডলার বিক্রয় করেছে, কাজেই এখানে আমি নিজেই তার স্বাক্ষী।আমি আমার মেয়ের জন্য লন্ডনে টাকা পাঠাতে ডলার না পেয়ে হাই কমিশনারকে ফোন করি। তিনি বললেন “ওরা একটু দাম বেশি নেয়, তাতে হাই কমিশনের চা নাস্তার পয়সাটা হয়”। কোথায় স্বাধীনতা বলতে পারেন? কোথায় স্বাধীনতার ফসল?

গত রমজান মাসে হাই কমিশন ইফতার পার্টি দিয়েছে অথচ কম্যুনিটির সাধারন সম্পাদক হিসেবে না হোক, মালদ্বীপে কর্মরত একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা ও একজন শিক্ষক হিসেবে আমি নিমন্ত্রন পাই, অথচ আমাকে জানানো হয়নি। হাই কমিশন প্রতিটি লোকের কাছ থেকে কোন প্রকার অর্থ গ্রহণ না করে কোন কাজ করে না। হাজার হাজার প্রমান রয়েছে। যাদের এখানে চাকরী নেই, খানা নেই, রাতে ঘুমানোর কোন কক্ষ নেই এবং ভিসাও নেই, তারা যে কোনো ভাবে দেশে যেতে চায়। তারজন্য হাই কমিশন এবং স্থানীয় ইমিগ্রেশনের সাহায্য নিতে হয়। এ সকল কাজে মীর সাইফুল ইসলাম এবং আমি ছাড়া ঐ হতভাগাগুলোর জন্য কেউ একটি দরখাস্ত পর্যন্ত লিখে দেয়না। অবশ্য দিতে জানেওনা। যারা কিছুটা লেখা পড়া জানে তারা বেশীরভাগ অনেক দূরে রিসোরটস ও ৫ ষ্টার হোটেলে কাজ করে যেটা মালে থেকে বহু দূরে। এখানে বাংলাদেশী আরো তিনজন শিক্ষক আছে, তারা তাদের সংসার, ব্যবসা ও চাকরী নিয়ে ব্যস্ত। আমি একমাত্র গাধা যে নাকি সবহারাদের যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারি না। রাস্তায় হাটতে পারিনা। এখানকার সব চেয়ে পুরানো উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষক প্রায় ২৫ বছর ধরে কর্মরত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মীর সাইফুল ইসলাম, যিনি মালদ্বীপ কম্যুনিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। যাকে আমরা Honorary High Commissioner বলে ডেকে থাকি। এই সাইফুল ইসলাম সাহেব নিজে মালদ্বীপে হাই কমিশন প্রতিষ্ঠার জন্য যা’কিছু করার করেছেন। হাই কমিশন স্থাপনের পূর্বে এই মীর সাইফুল ইসলাম মালদ্বীপে হাই কমিশন না থাকার করনে নিজের টাকায় শ্রীলংকা গিয়ে মানুষের সমস্যা সমাধান করেছেন। এই মহান ব্যক্তি আওয়ামী লীগ করেন বলে হাই কমিশনার তাঁকেও ডেকে নিয়ে নানা ভাবে অপদস্থ করে ভয় ভীতি দেখিয়ে একেবারে থামিয়ে দিয়েছেন। মীর সাইফুল ইসলাম মানসিক ভাবে বড় রকমের আঘাত পেয়ে সব কিছু থেকে সরে দাড়িয়েছেন ।বাঙ্গালী জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে এখানে মালদ্বীপের জনসাধারণও জানে যে বাংলাদেশ হাই কমিশনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কারো কাছ থেকে কোন টাকা না নিয়ে কোন প্রকার কথাও বলতে যায় না। কাল বিক্ষোভে জড়ো হওয়া বাংগালীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ ডাকা হয়। পুলিশ বলে গেছে তোরা পিটিয়ে হাই কমিশনের সবাইকে তাড়িয়ে দে, আমাদের ফোন করলে আমরা দেড়ি করে আসবো। অর্থাৎ হাই কমিশনের দূরনীতির রেকর্ড এখানে সেখানেই বাজে।