ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

আমরা যারা প্রবাসে আছি, সবারই দেশে কথা বলার জন্য কোন না কোন VOIP প্রোভাইডারের কাছে থেকে ক্রেডিট কিনে কথা বলতে হয়। সবাই হন্যে হয়ে খোঁজ করেন কোথায় পাওয়া যাবে সস্তায় মানসম্পন্নভাবে দেশে কথা বলার সুবিধা। তবে প্রায় সব দেশেই বসবাসরত বাংলাদেশীদের নিজস্ব কিছু ব্যবস্থা থাকে, ফলে যোগাযোগ সহজ হয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের। বিশ্বস্ততাও কাজ করে, বিশেষত অনেক সময় জরুরী প্রয়োজনে টাকা না দিয়েও ক্রেডিট কেনা যায়, পরে টাকা দিলেও হয়। জাপানে আমার প্রবাস জীবন শুরু ২০০৮ থেকে। প্রথম থেকেই রিঙ২ফোন এর কার্ড কিনতাম, বাংলাদেশে ১২-১৩ঘন্টা কথা বলা যেত ২০০০ইয়েনের কার্ড কিনে, পিসি টু ফোন সিস্টেম।

কিন্তু দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মত, একবার নাম হয়ে গেলে কাষ্টমার সাটিসফিকেশন নিয়ে আর কেয়ার করে না। লাইনে প্রবলেম, কথা অস্পষ্ট, রিঙ হয়েই কেটে যায় প্রভূতি নিয়ে তাদেরকে অভিযোগ করে ক্ষান্ত দিলাম, শুরু হলো আরও এক বাংলাদেশীর কাছ থেকে কার্ড নিয়ে কথা বলা, এটাও আগের চেয়ে সস্তা। কিন্তু ঝামেলা আছে কিছুটা আগের মতই তবে এনাকে ফোনে অভিযোগ করলে মাঝে মাঝে তড়িৎ সাড়া পাওয়া যায়। এভাবেই চলছিল, মাঝে বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়ায় দেশে কথা বলার হারও বেড়ে যায়, কিন্তু এমনও হয় কথা বলা আমার খুব জরুরী, দেখা গেলো ডায়ালারে লগিন করতে পারছি না, অভিযোগ করে কাজ হচ্ছে না, ফলে বাধ্য হয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করে সেলফোনে কথা বলতে হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশে মিনিট প্রতি ২০০ ইয়েনের মত লাগে। পরে নিজেই একটা বুদ্ধি বের করলাম, ইন্টারনেট থেকে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কথা বলার জন্য ক্রেডিট কিনতে হবে, যা তাদের নির্দিষ্ট ডায়ালার দিয়ে পিসি টু ফোনে কথা বলা যাবে। প্রায় ২/৩দিন নেট ঘেটে মোটামুটি সস্তা একটা সাইট পেলাম yupeephone.com । বেশ কয়েক ধরনের প্যাকেজ আছে। বেছে নিলাম একটা। অনলাইনে ক্রেডিট কিনলাম, ওদের ওয়েব সাইট থেকে আগেই জেনেছিলাম যে, ক্রেডিট কিনলেই কথা বলা যাবে না, ওদের কেউ সরাসরি আমাকে ফোন করে একাউন্ট সচল করে দেবে। এদের এই ব্যবস্থা সম্ভাব্য স্প্যাম এবং ফ্রড ঠেকাতে। ভালোই মনে হলো ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠানের অফিস আমেরিকা, তাই কখন আমাকে ফোন করবে সেটা নির্ধারনে সমস্যায় পড়লাম।কারন ওদের অফিস টাইম মানে আমার এখানে রাত, যাহোক শেষে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে এগারোটায় ফোন করার শিডিউল দিলাম। ফোন পেলাম শিডিঊল মত, একাউন্টের কিছু ইনফো নিয়ে আমাকে বললো একাউন্ট সচল করে দেওয়া হয়েছে, এখন আমি কথা বলতে পারবো। ওদের নির্ধারিত কয়েকটি ডায়ালারের মাঝে একটিকে প্রধান্য দেয়া হয়েছে, সেটা সেটাপ দিতে গিয়ে কানেকশন সমস্যা পেলাম, ফলে ২য় চয়েসের ডায়ালার সেটাপ দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলাম দেশে, কিন্তু লাইন তথৈবচ। অভিযোগ দিলাম, কোন রিপ্লাই নেই যাহোক পরের দিন ভালোই কথা বলতে পারলাম। মাথা থেকে চিন্তা দূর হয়ে গেল এই ভেবে যে এখন ২টা ব্যবস্থা থাকলো, একটা না একটা তো জরুরী সময়ে সচল থাকবে, দেশে আর কথা বলার সমস্যা নেই। কিন্তু কপালে সুখ আর বেশিদিন সইলো না, সপ্তাহখানেক পর আবারও লাইনে সমস্যা, অভিযোগ দিলাম রিপ্লাই পেলাম আমার নেটে সমস্যা, সেই সাথে ওরাই চেক করে দেখবে। কয়দিন আবার কথা বলতে পারলাম, সমস্যা নেই। এর এক সপ্তাহ পর, হঠাৎ একদিন দেখি ডায়ালারে লগিন হচ্ছে না, SIP ERROR দেখাচ্ছে, ভাবলাম সাময়িক, ঠিক হবে। অন্যটা দিয়ে বাসায় কথা বললাম। পরের দিন দেখি একই অবস্থা, ভাবলাম ওদের ওয়েব পেজে ঢুঁ দিয়ে আসি, টেকনিক্যাল সমস্যা হলে নোটিশ দেওয়া থাকবে, কিন্তু আক্কেলগুড়ুম ওদের সাইট কোনভাবেই ওপেন হচ্ছে না, ভাবলাম মনে হয় পেজে ওভারলোড পরে দেখলেই হবে, একদিন-দুইদিন-এভাবে ৪/৫দিন দেখেও পেজই ওপেন করতে পারলাম না। পরে ওদের কাষ্টমার কেয়ারের ইমেইল যোগাযোগ করলাম। ৩/৪ইমেইল দিয়েও কোন রিপ্লাই পেলাম না, পরলাম তো চিন্তায় কিনলাম ক্রেডিট ২ডলারও শেষ করতে পারলাম না। কি করা যায়, ফেসবুকে একজনকে ঘটনা জানালাম। পেপ্যাল দিয়ে কিনেছি শুনে আমাকে পেপ্যালের কাছে এদের সাথে করা ট্রাঞ্জেকশনকে dispute করতে বললেন। dispute দিলাম, একদিন পর পেপ্যাল জানালো তারা ব্যাপারটা তদন্ত করছে।

ভেবেছিলাম কি আর করবে পেপ্যাল, নিজেই ভুলে গেছিলাম, এরপর একদিন ইমেইল পেলাম পেপ্যাল কাছ থেকে “We have concluded our investigation into your case and have decided in your favor……….”

অভিভূত হয়ে গেলাম, অনলাইনে প্রথম ধরা খাওয়া এবং ঐবারই টাকা ফেরত পাওয়া।

তবে একটা ব্যাপার আমার কাছে এখন ক্লিয়ার না, ওরা কি ফ্রড? কারন যদি টেকনিক্যাল সমস্যা হত, তাহলে ওয়েব সাইটে নোটিশ থাকতো। ওদের সাথে কন্টাক্ট করার সিস্টেম হচ্ছে ই-টিকেটিং এর মাধ্যমে যা http://www.provoiphelp.com/eticket থেকে। এখান থেকেও কোন সাড়া নেই, অনলাইনে ক্রেডিট কেনার পর যে ইমেইল ঠেকে আমাকে নিশ্চিতকরন করা হয়েছিলো, সেখানেও ইমেইল করে কোন সাড়া পেলাম না। তাহলে কি ওরা ফ্রড? না হলে এভাবে উধাও হবে কেন?

যাহোক, আগামীতে অনলাইনে কেনাকাটায় আরো সাবধানী হবেন সবাই, বিশেষ করে পেপ্যালের মাধ্যমে কিছু কেনাকাটা করলে ওদের এই উপদেশ মেনে চলবেন যাতে অনাকাঙ্খিত কোন সমস্যা না হয়…

To make sure future transactions proceed smoothly, we suggest you visit the PayPal site and click the Security Center link located at the top of any page. There you will find tips on how to avoid fraudulent sellers in the “Fraud Prevention Tips for Buyers” section.

***
একই সাথে গল্পের বাগানবাড়ি-তে প্রকাশিত