ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার ব্রত নিয়ে “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট” নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা। তিনি এই নব গঠিত রাজনৈতিক দলকে নতুন রাজনৈতিক বিকল্প শক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ঘোষনা দিয়েছেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু নিয়ে তার দলের অবস্থানও ব্যাক্ত করেছেন। যদিও তার এই দল গঠনকে বিএনপি ভাঙনের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ তবুও সাধারন মানুষের মাঝে কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ।

সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার কথা শুনতে সবারই ভালো লাগে। কারন স্বাধীনতার ৪১ বছর পরেও আমরা সেই স্বাদ পাইনি। কিন্তু যিনি আগামীতে সুস্থ রাজনীতি উপহার দিবেন বলছেন তার অতীত রাজনৈতিক চর্চা কতটা সুস্থ ছিল ? ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের কারনে মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছিল তাকে।একটি দলে থেকে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে মতামত প্রদান করা কতটা যুক্তিসংগত ? তিনি কি তখন দলীয় ফোরামে এ ব্যাপারে তার মতামত ব্যাক্ত করতে পারতেন না ? পরবর্তীতে, ২০১০ সালের ২৩ জুন দলীয় শৃংঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ হারাতে হয়েছিল তাকে। নিজের ভুল স্বীকার করে আবার পদ ফিরে পেয়েছিলেন তিনি। সবশেষে চলতি বছরে তিনি তার নেত্রীকে আহব্বান জানালেন তিনি যেন প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপে বসার অনুরোধ জানান।সময় বেধে দিয়ে তিনি জানালেন এই সময়ের ভিতর তার নেত্রী সংলাপের আহব্বান না জানালে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করবেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে একই আহব্বান দেশের একজন নাগরিক হিসেবে তিনি কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন ? সংলাপ আয়োজনের দায়িত্ব কি শুধুই বিরোধী দলীয় নেত্রীর ? এসব যদি সুস্থ রাজনীতি হয়ে থাকে তাহলে ধিক্কার জানাই।

তিনি রাজনৈতিক দল গঠন করেও বললেন বিএনপিই তার ঠিকানা (বিএনপিই তার ঠিকানা ছিল তা বলেননি)। এবং তিনি জিয়ার আদর্শে আদর্শিত। বিএনপিই যদি তার ঠিকানা হয় তাহলে তো নিশ্চয়ই তিনি তার ঠিকানায় ফিরে যাবেন। শুধু দরকার ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধা ও অবাধে কথা বলার স্বাধীনতা ?

মূল দল থেকে বেরিয়ে এসে নতুন রাজনৈতিক দল অনেকেই গঠন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ড.কামাল হোসন, কাদের সিদ্দীকি , বি চৌধুরী কিংবা অলি আহম্মদের কথা আমরা সবাই জানি। বিভিন্ন কারনে তারা কখনই ব্যাপকভাবে জনসম্পৃক্ত হতে পারেনি।বরং তাদের কেউ কেউ সুযোগ সুবিধা নেয়ার জন্য পাহাড়সম অভিযোগ করে আসা মূল দলের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। সুতরাং নাজমুল হুদাও যে তার মূল দলে ফিরে যাবেন না কিংবা তার দল নিয়ে মূল দলের জোটের পরিধি ভারী করবেননা তার কি কোন নিশ্চয়তা আছে?

***
ফিচার পোস্ট: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম