ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

অন্যরকম এক ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে পুরো শাহাবাগ এলাকা। যে ক্ষোভের আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ছে সমগ্র দেশব্যাপী। আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে চলছে শ্লোগান-একটাই দাবি “ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই”। মূলত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার জাবৎজীবন কারাদন্ডের রায় প্রত্যাখান করে তার ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে এখন সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে নতুনরুপে সোচ্চার হয়ে উঠেছে আপামর জনতা। দাবি উঠেছে,ধর্মকে পুজি করে গড়ে উঠা জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের। এ এক অন্যরকম আন্দোলন যে আন্দোলনের নেতৃত্বে নেই কোন রাজনৈতিক দল, যে আন্দোলনের নেই কোন ব্যক্তিগত প্রাপ্তির হিসাব, যে আন্দোলনে নেই কোন সহিংসতা। শুধু আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম আর আছে অন্যায় অসত্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ। তাইতো এই আন্দোলনের মঞ্চকে গনজাগরনের মঞ্চ বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিংবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারিনি তাদের মনের মধে রয়েছে চাপা কষ্ট। রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথোপযুক্ত সম্মান দেখাতে না পারার বেদনা। এতগুলো বছর পরে যখন যুদ্ধাপরাদের বিচার শুরু হলো তখন আশায় বুক বেধেছিলাম, ভেবেছিলাম এই বিচারের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্তত্যাগের ঋন কিছুটা অন্তত শোধ করা যাবে। কিন্তু যা দেখলাম তাতে পুরো দেশবাসীর মত হতবাক না হয়ে পারলাম না। যে ব্যক্তি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রত্যক্ষভাবে সমরথন যুগিয়েছেন, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিরপুরের আলুব্দী এবং কেরানীগঞ্জে প্রায় ৩৮১ জন নিরস্র মানুষকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিচারের রায় জাবৎজীবন কারাদন্ড আমরা মেনে নিতে পারিনা।

শাহবাগের এই নজাগরনের মঞ্চে এসে পেয়েছি এক অন্যরকম উদ্দীপনা । নতুনভাবে ভালোবাসতে শিখেছি দেশকে ,অন্যায় অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য নিয়েছি দীপ্ত শপথ। দেখেছি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে বিলাপ করতে,দেখেছি ৩/৪ মাস বয়সী সন্তানকে বুকে আগলে ধরে রেখে “কতজন লোকলে হত্যা করলে ফাঁসির রায় হত?” লেখা প্লাকারড নিয়ে শ্লোগান দিতে। কে দিবে তার এই সহজ প্রশ্নের সঠিক উত্তর? এই প্রশ্নের উত্তর কারোই জানা নেই। আমরা আর এধরনের নতুন কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চাই না। লাখো শহীদের রক্তে ভেজা এই বাংলার মাটিতে আমরা কোন রাজাকার কিংবা তার অনুসারীদের উলঙ্গ আস্ফালন দেখতে চাইনা। আমরা ৫২ সালে পরাজিত হয়নি,৬৯ সালে পরাজিত হয়নি,৭১ সালে পরাজিত হয়নি তাহলে আমরা ২০১৩ সালে কেন পরাজিত শক্তির কাছে মাথা নত করে থাকব? এগিয়ে যেতে হবে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ার মধ্য দিয়ে। বিজয় আমাদের অবিসম্ভাবী।